দরুদ শরীফ হলো এমন এক বিশেষ প্রার্থনা, যা মুসলমানরা মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশ করার জন্য পাঠ করে। এটি আল্লাহর কাছে রাসূল (সা.)-এর জন্য রহমত ও শান্তি বর্ষণের আবেদন। দরুদ পাঠের গুরুত্ব এত বেশি যে স্বয়ং আল্লাহ তাআলাও তার ফেরেশতাদের নিয়ে নবী (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করেন। একজন মুমিনের জন্য দরুদ শরীফের সঠিক বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ জানা এবং এর ফজিলত সম্পর্কে অবগত থাকা অত্যন্ত জরুরি।
দরুদ শরীফ কী?
মুসলমানদের দ্বারা পঠিত একটি বিশেষ প্রার্থনা হলো দরুদ শরীফ, যা হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষণের জন্য বলা হয়। এটি একটি ফার্সি শব্দ, যা ‘শুভেচ্ছা’ বা ‘শান্তির প্রার্থনা’ অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং এটি আল্লাহর কাছে রাসুল (সা.)-এর প্রতি সম্মান ও সালাম জানানোর একটি উপায়।
দরুদ শরীফের পরিচয়
দরুদ হলো প্রার্থনা, প্রশংসা, রহমত বা শুভ কামনা। ইসলামী পরিভাষায়, দরুদ হলো আল্লাহ তাআলার কাছে এই আবেদন করা যে, তিনি যেন নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর বিশেষ করুণা, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করেন।
ইসলামে দরুদ পাঠের গুরুত্ব
কুরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে দরুদ পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন:
“নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।” (সূরা আল-আহযাব ৩৩:৫৬)
এই আয়াত দরুদ পাঠকে প্রতিটি মুসলমানের জন্য ওয়াজিব বা উচ্চ পর্যায়ের ইবাদতে পরিণত করেছে।
কেন মুসলমানরা দরুদ পড়ে?
- আল্লাহর নির্দেশ পালন: সরাসরি কুরআনের নির্দেশ পালনের জন্য।
- ভালোবাসা প্রকাশ: রাসূল (সা.)-এর প্রতি হৃদয়ের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যম।
- সওয়াব অর্জন: দরুদ পাঠের প্রতিদানে বহু গুণ সওয়াব লাভ হয়।
দরুদ শরীফের আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ
ইসলামে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত এবং নামাজের জন্য নির্দিষ্ট দরুদ হলো দরুদে ইব্রাহিমি (Durood-e-Ibrahim)।
দরুদ শরীফের আরবি (Durood Sharif arbi)
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ.
اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
দরুদ শরীফের বাংলা উচ্চারণ | durud sharif bangla uccharon
আল্লা-হুম্মা সল্লি আ’লা মুহাম্মাদিউঁ ওয়া আ’লা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা সল্লাইতা আ’লা ইব্রা-হীমা ওয়া আ’লা আ-লি ইব্রা-হীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লা-হুম্মা বা-রিক আ’লা মুহাম্মাদিউঁ ওয়া আ’লা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা বা-রাকতা আ’লা ইব্রা-হীমা ওয়া আ’লা আ-লি ইব্রা-হীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।
সহজ করে উচ্চারণ শেখার টিপস: ধীরে ধীরে উচ্চারণ করুন এবং ‘সল্লি’, ‘আ’লা’, ‘বা-রিক’, ‘হামীদুম’ শব্দগুলোর আরবি মাখরাজ ঠিক রাখার চেষ্টা করুন।
দরুদ শরীফের বাংলা অর্থ | durood sharif er ortho
প্রতিটি বাক্যের আলাদা অর্থ:
| আরবি বাক্য | বাংলা অর্থ |
| اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ | হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ (সা.) এবং তাহার পরিবার-পরিজনের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, |
| كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ | যেমন ভাবে আপনি রহমত বর্ষণ করেছিলেন ইব্রাহিম (আ.) এবং তাহার পরিবার-পরিজনের ওপর। |
| إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ. | নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহাসম্মানের অধিকারী। |
| اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ | হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ (সা.) এবং তাহার পরিবার-পরিজনের ওপর বরকত দান করুন, |
| كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ | যেমন আপনি বরকত দান করেছিলেন ইব্রাহিম (আ.) এবং তাহার পরিবার-পরিজনের ওপর। |
| إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ. | নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহাসম্মানের অধিকারী। |
দরুদের গভীর তাৎপর্য: এই দুআর মাধ্যমে আমরা আল্লাহর কাছে আবেদন করি যে, তিনি যেন তাঁর প্রিয়তম রাসূল (সা.)-কে তাঁর পূর্ববর্তী শ্রেষ্ঠ নবী ইব্রাহিম (আ.)-এর মতো বিশেষ মর্যাদা ও সম্মান দান করেন।
দরুদ শরীফের ফজিলত | darood sharif fazilat
দরুদ পাঠের ফজিলত অসংখ্য। সহিহ হাদিসে এর বহু উপকারিতা প্রমাণিত। দরুদ পাঠ কেয়ামতে নবী (ﷺ)-এর শাফায়াত লাভের ওসীলা।
কিয়ামতে রাসূল (সা.)-এর নিকটবর্তী হওয়া
ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তি সব লোকের চাইতে আমার বেশী নিকটবর্তী হবে, যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী আমার উপর দরূদ পড়বে।” (তিরমিযী, হাসান)
গুনাহ মাফের মাধ্যম
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরূদ পাঠ করে আল্লাহ তা’আলা তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করেন। (মুসলিমম ৪০৮, আবূ দাঊদ ১৫৩০, নাসায়ী ১২৯৬)
রহমত ও বরকত অর্জনের উপায়
’আব্দুল্লাহ ইবনে ’আমর ’আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, “যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার দরুন তার উপর দশবার দুরুদ পাঠ করবেন।” (মুসলিম৩৮৪, তিরমিযী ৩৬১৪)
দরুদ শরীফ কত প্রকার?
যদিও নামাজের জন্য দরুদে ইব্রাহিমি সবচেয়ে উত্তম, তবে দরুদের আরও অনেক রূপ রয়েছে।
দরুদে ইব্রাহিমি
এটি নামাজের শেষ বৈঠকে পঠিত সর্বোত্তম ও সুন্নাহ সম্মত দরুদ।
দরুদে তুনাজ্জিনা
দরুদে তাজ, দরুদে হক্কানী, দরুদে তুনাজ্জিনা, দরুদে ফুতুহাত, দরুদে রু‘ইয়াতে নবী (ﷺ), দরুদে শিফা, দরুদে খাইর, দরুদে আকবার, দরুদে লাখী, দরুদে হাজারী, দরুদে রূহী, দরুদে বীর, দরুদে নারীয়া, দরুদে শাফেয়ী, দরুদে গাওসিয়া, দরুদে মুহাম্মাদী …..।
এ সকল দরুদ সবই পরবর্তী যুগের মানুষদের বানানো। এগুলোর ফযীলতে যা কিছু বলা হয় সবই বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কথা।
দরুদে পাক / ছোট দরুদ
সাধারণ ছোট দরুদ, যা সবসময় পাঠ করা যায়। যেমন: “সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম” বা “আল্লাহুম্মা সল্লি আ’লা মুহাম্মাদ।”
দরুদ শরীফ কখন পড়া উচিত?
পাঠের কিছু বিশেষ সময় রয়েছে, যখন এর ফজিলত বহুগুণ বেড়ে যায়।
- নামাজের শেষে: নামাজের শেষ বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু ও দোয়া মাসুরা-এর মাঝে।
- জুমার দিনে: জুমার দিনে এবং রাতে বেশি বেশি দরুদ পাঠের বিশেষ নির্দেশ রয়েছে।
- দোয়ার আগে: যেকোনো দোয়া শুরু ও শেষ করার আগে দরুদ পাঠ করা যেতে পারে।
- সালাতু সালাম হিসাবে: রাসূল (সা.)-এর নাম শোনার সাথে সাথে।
- সময় পেলেই স্বাভাবিকভাবে পড়া: যখনই রাসূল (সা.)-এর কথা মনে আসে বা অবসর সময় থাকে, তখনই দরুদ পাঠ করা উচিত।
দরুদ শরীফের ব্যাখ্যা | dorud sharif bekkha
দরুদে ইব্রাহিমির প্রতিটি শব্দের রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা।
“সাল্লি” শব্দের অর্থ
এখানে ‘সাল্লি’ (صَلِّ) শব্দটির মাধ্যমে আমরা আল্লাহর কাছে আবেদন করছি , যার অর্থ: ‘আপনি মত বর্ষণ করুন’ বা ‘বিশেষ করুণা করুন’। যখন আল্লাহ নিজেই নবী (সা.)-এর প্রতি দরুদ করেন, তখন এর অর্থ হয় বিশেষ করুণা ও প্রশংসা করা।
নবীজীর প্রতি শান্তি বর্ষণের তাৎপর্য
দরুদ পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আবেদন করা হয় যেন তিনি রাসূল (সা.)-কে দুনিয়া ও আখেরাতে সর্বোচ্চ সম্মান ও নিরাপত্তা প্রদান করেন এবং তাঁর উম্মতের জন্য শাফা’আত (সুপারিশ) করার সুযোগ দেন।
ইবরাহীম (আ.)-এর পরিবারকে উদাহরণ হিসেবে কেন আনা হয়েছে?
ইব্রাহিম (আ.) ছিলেন ইসলামের ইতিহাসের এক মহান ব্যক্তিত্ব এবং আল্লাহর অন্যতম প্রিয় নবী। আল্লাহ তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে অসাধারণ বরকত ও মর্যাদা দান করেছিলেন। তাই দরুদে ইব্রাহিমির মাধ্যমে আমরা আল্লাহর কাছে আবেদন করি যে, মুহাম্মদ (সা.)-কেও যেন ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই বিশেষ বরকতের মতোই বরকত দান করা হয়।
“হামিদুম মাজীদ” শব্দের গভীর অর্থ
- হামীদ (حَمِيدٌ): প্রশংসিত।
- মাজীদ (مَجِيدٌ): সম্মানিত বা মহিমান্বিত।
এই শব্দ দুটির মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সর্বোচ্চ ক্ষমতা ও মহিমা প্রকাশ করা হয়। এর অর্থ হলো, শুধুমাত্র তিনিই এই রহমত ও বরকত দান করার যোগ্য, কারণ তিনিই প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।
দরুদ শরীফ পড়ার উপকারিতা
নিয়মিত দরুদ পাঠের ফলে মুমিনের জীবনে বহুমুখী ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।
- মন শান্ত হয়: রাসূল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে অন্তর প্রশান্ত হয়।
- দোয়া কবুলে সহায়তা: এটি দোয়ার একটি শক্তিশালী সহায়ক হতে পারে।
- শয়তান থেকে দূরে থাকা: আল্লাহর রহমত লাভের মাধ্যমে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
- ইমান বৃদ্ধি পায়: রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ পালনের মাধ্যমে ইমান আরও দৃঢ় হয়।
- রিজিকের বরকত বৃদ্ধি: গুনাহ মাফ ও রহমত বর্ষণের ফলে আল্লাহ রিজিকের মধ্যে বরকত দান করেন।
দরুদ শরীফ শেখার সহজ উপায়
শিশুদের শেখানোর পদ্ধতি
- প্রতিদিনের অভ্যাস: প্রতিদিন ঘুমানোর আগে বা খাবারের আগে ছোট দরুদ পড়ার অভ্যাস করানো।
- ছড়ার মাধ্যমে: আকর্ষণীয় সুর বা ছন্দের মাধ্যমে মুখস্থ করানো।
মুখস্থ করার টিপস
- লাইন বাই লাইন: একবারে পুরো দরুদ মুখস্থ না করে, একটি বাক্য বারবার পড়ে মুখস্থ করা।
- নামাজে মনোযোগ: নামাজের সময় সজাগভাবে উচ্চারণ করলে দ্রুত মুখস্থ হয়।
অডিও–ভিডিওর মাধ্যমে শেখা
সঠিক উচ্চারণ নিশ্চিত করতে নির্ভরযোগ্য ক্বারীদের অডিও ও ভিডিও বারবার শুনে শেখা সবচেয়ে কার্যকর।
দরুদ শরীফ পাঠের সাধারণ ভুল ও সংশোধনী
উচ্চারণগত ভুল
- ভুল: অনেকে ‘সল্লি’ উচ্চারণ করতে গিয়ে ‘সোল্লি’ বলেন।
- সংশোধন: আরবি ‘ص’ (সদ) অক্ষরটির উচ্চারণ ঠিক রেখে ‘সল্লি’ বলা উচিত।
- ভুল: ‘আ’লা’ (على) কে কেবল ‘আলা’ বলা।
- সংশোধন: ‘আ’ (ع) অক্ষরের মাখরাজ ঠিক রেখে উচ্চারণ করতে হবে।
অর্থ ভুল বোঝা
ভুল: অনেকে মনে করেন দরুদ পাঠের মাধ্যমে আমরা আল্লাহকে নবীকে সম্মান করার নির্দেশ দিচ্ছি।
সংশোধন: দরুদ পাঠের মাধ্যমে আমরা আল্লাহর কাছে আবেদন করছি যেন তিনি রাসূল (সা.)-এর ওপর রহমত বর্ষণ করেন।
নামাজে দরুদের অবস্থান ভুল করা
ভুল: নামাজের শুরুতে বা রুকুর পর দরুদ পাঠ করা।
সংশোধন: নামাজের সঠিক অবস্থান হলো: আত্তাহিয়্যাতু-এর পর দরুদে ইব্রাহিমি পাঠ করা এবং এরপর দোয়া মাসুরা বা অন্য দুআ পাঠের পর সালাম ফেরানো।
দরুদ শরীফ সম্পর্কিত জনপ্রিয় প্রশ্নোত্তর (FAQ)
ছোট দরুদ শরীফের বাংলা উচ্চারণ কী?
সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ও প্রচলিত ছোট দরুদ হলো: “সল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম।” (অর্থ: আল্লাহ তাঁর প্রতি শান্তি বর্ষণ করুন।)
দরুতের বাংলা অর্থ কী?
দরুদ অর্থ হলো প্রার্থনা, প্রশংসা, বা বিশেষ করুণা। বান্দা যখন রাসূল (সা.)-এর প্রতি দরুদ পড়ে, তখন এর অর্থ হয়: আল্লাহ যেন নবী (সা.)-এর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করেন।
দরুদে ইব্রাহিম এর বাংলা উচ্চারণ কী?
দরুদে ইব্রাহিমের প্রথম অংশের বাংলা উচ্চারণ হলো: “আল্লা-হুম্মা সল্লি আ’লা মুহাম্মাদিউঁ ওয়া আ’লা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা সল্লাইতা আ’লা ইব্রা-হীমা ওয়া আ’লা আ-লি ইব্রা-হীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।”
দুরুদ শরীফের অর্থ কী?
দরুদ শরীফের মূল অর্থ হলো আল্লাহর কাছে রাসূল মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্য বিশেষ রহমত, মর্যাদা ও বরকত কামনা করা।
দুরুদে মাহি এর বাংলা উচ্চারণ কী?
‘দরুদে মাহি’ নামে কোনো দরুদ হাদিসে সহিহভাবে প্রমাণিত নয়। এটি সাধারণত প্রচলিত কিছু দরুদের মধ্যে অন্যতম। সহিহ দরুদগুলোই পাঠ করা উত্তম।
নামাজের দোয়া দরুদ কী?
নামাজের দোয়া দরুদ বলতে মূলত দরুদে ইব্রাহিম এবং দোয়া মাসুরাকে বোঝানো হয়, যা শেষ বৈঠকে পড়া হয়।
কোনটি উত্তম দুরুদ শরীফ?
দরুদে ইব্রাহিম হলো সবচেয়ে উত্তম দরুদ শরীফ, কারণ এটি রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে সাহাবিদেরকে শিখিয়েছিলেন।
সংক্ষিপ্ত দরুদ শরীফ কী?
সংক্ষিপ্ত দরুদ হলো: “সল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম।” (অর্থ: আল্লাহ তাঁর প্রতি ও তাঁর ওপর শান্তি বর্ষণ করুন।)
দুরুদে ইব্রাহিম কখন পড়া হয়?
এটি সাধারণত পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ বা নফল নামাজের শেষ বৈঠকে, আত্তাহিয়্যাতুর পর এবং সালাম ফেরানোর আগে পড়া হয়।
দরুদ পাঠের সঠিক নিয়ম কী?
দরুদ পাঠের সঠিক নিয়ম হলো শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে, মন দিয়ে এর অর্থ উপলব্ধি করে আরবি উচ্চারণ অনুযায়ী পাঠ করা।
আরবিতে দরুদ শরীফ কী?
আরবিতে সবচেয়ে পরিচিত দরুদ শরীফ বা দরুদে ইব্রাহিম হলো:
…….اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ
(এই দুআটি দীর্ঘ)।
নামাজে দুরুদ শরীফ কখন পড়তে হয়?
নামাজে শেষ বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পড়ার পর দরুদে ইব্রাহিম পড়তে হয়।
দুরুদ শরীফ পড়লে কি দোয়া কবুল হয়?
হ্যাঁ, হয়। যেকোনো দোয়ার শুরুতে ও শেষে দরুদ শরীফ পাঠ করলে সেই দোয়া আল্লাহ তাআলার কাছে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।