মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬

পুরোনো হিসাব ভেঙে দিচ্ছে নতুন শক্তি- রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস

বহুল পঠিত

বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি সবসময়ই প্রতিযোগিতা, আন্দোলন এবং সংঘর্ষের জন্য পরিচিত। তবে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এই সময় থেকে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। বর্তমানে দেশের প্রধান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিবিরের অবস্থান অনেকটা শক্তিশালী, সংগঠিত এবং জনপ্রিয়তার শীর্ষে। ফলে ছাত্র রাজনীতির ভবিষ্যৎ এক নতুন পথে এগোচ্ছে।

শিবিরের নির্বাচনী সাফল্যের গুরুত্ব

২০২৪ সালের ছাত্র সংসদ নির্বাচন গুলোতে শিবিরের ভুমিধস বিজয় বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ঝড় নিয়ে এসেছে। ডাকসু, জাকসু , চাকসু ও জাক্সুতে শিবিরের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৬টার মধ্যে ২৪টি, জাহাঙ্গীরনগরে ২৫টির মধ্যে ২০টি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৩টির মধ্যে ২০টি পদে ভুমিধস বিজয় পেয়েছে। এটি শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং ছাত্রদের নতুন মানসিকতার প্রতিফলন। এখন শিক্ষার্থীরা এমন সংগঠন চায়, যারা তাদের অধিকার ও কল্যাণের জন্য কাজ করবে।

বর্তমান (২০২৫) কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এর অগ্নিঝরা বক্তব্বের দৃশ্য।

ইসলামী ছাত্রশিবির নেতৃত্ব ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

শিবিরের বর্তমান নেতৃত্ব তরুণ, মেধাবী এবং দায়িত্বশীল ছাত্রদের মধ্যে থেকে উঠে এসেছে। তারা রাজনৈতিক আধিপত্য নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সামাজিক কল্যাণ ও শিক্ষাগত উন্নতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি, তারা শিক্ষার্থীদের মধ্যে একতা, শান্তি এবং নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে কাজ করছে। ফলে শিবির এখন শুধু রাজনৈতিক সংগঠন নয়, বরং ছাত্র কল্যাণে নিবেদিত একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড

শিবিরের জনপ্রিয়তার মূল কারণ তাদের কল্যাণমুখী কর্মকাণ্ড। তারা বৃত্তি, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াচ্ছে।

  • বৃত্তি প্রদান: মেধাবী ও আর্থিকভাবে দুর্বল শিক্ষার্থীদের সহায়তা করছে।
  • শিক্ষাগত উন্নয়ন: মেন্টরিং সেশন ও একাডেমিক সাপোর্টের ব্যবস্থা করেছে।
  • স্বাস্থ্যসেবা: স্বাস্থ্য ক্যাম্প ও মানসিক পরামর্শ সেবা দিচ্ছে।
  • নিরাপত্তা: নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

এভাবে তারা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছাত্রদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের আস্থা শিবিরের প্রতি ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আন্দোলনে ভূমিকা

গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্রশিবির ছাত্র আন্দোলনে নতুন রূপ দিয়েছে। তারা সামাজিক বৈষম্য, শিক্ষাগত সমস্যা ও ছাত্র অধিকারের বিষয়ে নিয়মিত আন্দোলন করছে। তবে তাদের আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ। অন্যদিকে, তারা কখনোই সহিংস রাজনীতি সমর্থন করেনি। ফলে ছাত্রসমাজে শিবিরের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা বেড়েছে।

ছাত্রশিবির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বর্তমানে শিবির সংগঠনের কাঠামো ও নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিচ্ছে। তারা নেতৃত্ব বিকাশ, দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরিতে কাজ করছে। পাশাপাশি, তারা বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত উন্নতি নিশ্চিত করা।

সামাজিক প্রভাব

শিবির এখন ধর্মীয় সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার দিকেও কাজ করছে। তারা ধর্ম, জাতি বা মতাদর্শের ভিত্তিতে বৈষম্য তৈরি করতে রাজি নয়। এর ফলে তাদের পুরোনো বিতর্কিত ভাবমূর্তি বদলে গেছে। নতুন প্রজন্ম তাদের কল্যাণমূলক কার্যক্রমকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। সুতরাং, শিবিরের কর্মকাণ্ড দেশের সামাজিক শান্তিতে অবদান রাখছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান ও ভবিষ্যৎ

শিবিরের বিজয়ের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নতুন ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। ছাত্ররা এখন এমন সংগঠন খুঁজছে যারা তাদের প্রকৃত সমস্যাগুলো সমাধান করবে। তাই শিবিরের প্রভাব ভবিষ্যতে আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, তারা যদি সহিষ্ণুতা ও মুক্তচিন্তার পরিবেশ বজায় রাখে, তবে ছাত্র রাজনীতিতে আরও বড় ভূমিকা নিতে পারবে।

ইসলামী ছাত্রশিবির বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায় শুরু করেছে। তাদের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা, শিক্ষাগত অগ্রগতি ও সামাজিক একতা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই ভবিষ্যতে শিবিরের ভূমিকা আরও প্রসারিত হবে বলে আশা করা যায়। সঠিক দিকনির্দেশনা বজায় থাকলে, তারা দেশের ছাত্র সমাজকে আরও শক্তিশালী ও সচেতন করে তুলতে পারবে।

লেখক: আব্দুর রহমান আল-আমীন (সহ সম্পাদক, গুড নিউজ বাংলাদেশ)

আরো পড়ুন

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশে বাধা নেই সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে কোনো বাধা নেই- এ কথা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬কে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।

প্রযুক্তির নজরে নির্বাচন: আকাশ থেকে ভোট পর্যবেক্ষণে ১০০০ ড্রোন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নজিরবিহীন প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের দিন সারা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর কেন্দ্রে আকাশে উড়বে এক হাজার ড্রোন।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ