অবকাঠামো, শিক্ষা, পানি ও জনকল্যাণে বড় বিনিয়োগ- উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত
দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে আরেকটি বড় সুখবর এসেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) থেকে। একনেক সভায় মোট ২২টি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, পানি ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, কৃষি ও সামাজিক সেবাখাতে দেশের অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারপার্সন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
ব্যয়ের উৎস ও প্রকল্পের ধরন
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী-
- সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হবে: ৩০,৪৮২ কোটি টাকা
- প্রকল্প ঋণ থেকে: ১,৬৮৯ কোটি টাকা
- সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে: ১৪,২৪৭ কোটি টাকা
অনুমোদিত ২২টি প্রকল্পের মধ্যে-
- নতুন প্রকল্প: ১৪টি
- সংশোধিত প্রকল্প: ৫টি
- মেয়াদ বৃদ্ধি: ৩টি
যেসব মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প অনুমোদন
এবারের একনেক সভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-
- সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়: ৩টি
- স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়: ৫টি
- পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়: ৪টি
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়: ২টি
- প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়: ২টি
- গৃহায়ন ও গণপূর্ত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্য, কৃষি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একাধিক প্রকল্প
এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, নদীভাঙন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং জনসেবার মান বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
ছোট প্রকল্পও আলোচনায়
এছাড়া একনেক সভায় ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ১০টি প্রকল্প সম্পর্কে অবহিত করা হয়, যেগুলো পরিকল্পনা উপদেষ্টার ক্ষমতাবলে অনুমোদিত। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে-
- শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন
- নদীভাঙন ও বন্যা ব্যবস্থাপনা
- শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ
- জলবায়ু অভিযোজন
- র্যাবের সক্ষমতা বৃদ্ধি
- অর্থনৈতিক শুমারি কার্যক্রম
উন্নয়নের পথে আরেক ধাপ
বৃহৎ অঙ্কের এই প্রকল্প অনুমোদনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়নে এই বিনিয়োগ আগামী দিনের টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও মজবুত করবে।
সুত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন