পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে সরকার খেজুর আমদানি শুল্ক কমিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে বাজারে খেজুরের সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে খেজুর আমদানিতে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৪০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো রমজান মাসে খেজুরের দাম স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ ভোক্তাদের জন্য খেজুর সহজলভ্য করা।
খেজুরের শুল্ক কমানোর প্রজ্ঞাপন
সরকার ২৩ ডিসেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপণের মাধ্যমে খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এই শুল্ক ছাড় ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, “জনগণের আবেগ এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে খেজুরের বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
অগ্রিম আয়করেও বড় ছাড়
শুল্ক ছাড়ের পাশাপাশি, সরকারের বিগত বাজেটে আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম আয়কর সংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধন করা হয়েছে। খেজুরসহ সব ধরনের ফল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য, গত বছর খেজুর ও অন্যান্য ফল আমদানিতে ৫০ শতাংশ ছাড় প্রদান করা হয়েছিল। চলতি বছরও সেই ছাড় বহাল রাখা হয়েছে। এই কর ছাড়ের ফলে আমদানির খরচ কমে বাজারে খেজুরের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
খেজুরের বাজারে সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণ
রমজান মাসে খেজুরের চাহিদা সর্বোচ্চ থাকে। প্রতি বছর এই সময় বাজারে খেজুরের দাম বেড়ে যায়। এনবিআরের মতে, এই শুল্ক ও কর ছাড়ের মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।
“আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে খেজুর সরবরাহ নিশ্চিত করা। এতে বাজারে অতিরিক্ত দামের উত্থান রোধ করা যাবে,” বলেন একটি কর্মকর্তা।
রমজানে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীর জন্য প্রভাব
ভোক্তাদের জন্য সুবিধা
রমজান মাসে পরিবারগুলো খেজুরের ওপর নির্ভরশীল। ইফতার ও সেহরি সময়ে খেজুর একটি প্রধান খাদ্য। শুল্ক ও কর কমানোয় সাধারণ ভোক্তারা বাজেটের মধ্যে খেজুর কিনতে পারবে।
ব্যবসায়ীদের জন্য সুযোগ
আমদানি খরচ কম হওয়ায় ব্যবসায়ীরা কম খরচে খেজুর বাজারজাত করতে পারবে। এটি ব্যবসায়ীদের মুনাফা বৃদ্ধি এবং খরচ কমানোর সুযোগ দেবে।
খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা
খেজুরের আমদানি শুল্ক ও অগ্রিম আয়কর কমানোর মূল উদ্দেশ্য হলো খাদ্য নিরাপত্তা এবং বাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। দেশে খেজুরের চাহিদা বেশি থাকায় আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুল্ক ও কর ছাড়ের ফলে খেজুরের আমদানি বৃদ্ধি পাবে এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। এতে মূল্য বৃদ্ধি সীমিত থাকবে এবং ভোক্তারা সহজে খেজুর কিনতে পারবে।
সরকারী পরিকল্পনার প্রভাব বিশ্লেষণ
সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট হয়েছে:
- ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা: পবিত্র মাসে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে খেজুর সরবরাহ নিশ্চিত করা।
- বাজারে স্থিতিশীলতা: অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধ করা।
- আমদানিতে উৎসাহ: আমদানির খরচ কমানোর মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের উদ্দীপনা বৃদ্ধি।
- খাদ্য নিরাপত্তা: রমজান মাসে খাদ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খেজুর আমদানিতে এই ধরনের বড় শুল্ক ও কর ছাড় ভোক্তা এবং ব্যবসায়ীদের জন্য win-win পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে খেজুরের চাহিদা প্রতি বছর বাড়ছে। প্রধানত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে খেজুর আমদানি করা হয়।
শুল্ক ও কর কমানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাবে। ফলে আমদানিকৃত খেজুরের মান বজায় থাকবে এবং সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকবে।
সরকারি বক্তব্য
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “এই শুল্ক ও কর ছাড়ের ফলে রমজান মাসে খেজুরের দাম সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। আমরা আশা করছি, বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হবে এবং ভোক্তাদের মধ্যে খেজুর সহজলভ্য হবে।”
সরকার আরও জানিয়েছে, প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে শুল্ক ও কর নীতিতে সমন্বয় আনা হতে পারে যাতে বাজারের অবস্থা স্থিতিশীল থাকে।
ভোক্তাদের প্রতিক্রিয়া
বর্তমানে বেশ কয়েকজন ভোক্তা ইতিমধ্যে খুশি প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, শুল্ক ও কর কমানোর ফলে খেজুরের দাম কমে এবং স্বাভাবিক থাকবে, যা পরিবারগুলোর বাজেটের জন্য সহায়ক।
একজন ব্যবসায়ী বলেন, “আমাদের জন্যও এটি একটি বড় সুবিধা। কম খরচে আমদানি করলে আমরা বাজারে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে বিক্রি করতে পারব।”
উপসংহার
রমজান মাসের আগেই খেজুর আমদানি শুল্ক ৪০% কমানোর এই উদ্যোগ সরকারের ভোক্তা-সচেতন ও বাজার-সচেতন নীতির প্রতিফলন। এনবিআরের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আশা করা হচ্ছে যে, আসন্ন রমজান মাসে খেজুরের সরবরাহ ও দাম সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে।
এটি শুধু খেজুরের বাজারকেই স্থিতিশীল রাখবে না, বরং ভোক্তা ও ব্যবসায়ীর মধ্যে সমন্বিত সুবিধা নিশ্চিত করবে।