রবিবার, জানুয়ারি ১১, ২০২৬

বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে বড় অগ্রগতি: শুল্ক কমানো ও রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা

বহুল পঠিত

পারস্পরিক শুল্ক কমানো ও রপ্তানি বাড়াতে আশাব্যঞ্জক আলোচনা

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর ও ভারসাম্যপূর্ণ করতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান বৃহস্পতিবার বিকেলে ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার-এর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন।

এর পরদিন শুক্রবার, যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ-এর সঙ্গেও একটি পৃথক বৈঠকে অংশ নেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশের দৃশ্যমান অগ্রগতি

বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন,

“পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগেই বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা বাণিজ্য ভারসাম্য আনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছি।”

তিনি আরও জানান, চুক্তির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যা দুই দেশের আস্থার সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে।

২০ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক কমানোর প্রস্তাব

বর্তমানে কার্যকর থাকা ২০ শতাংশ ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ (পারস্পরিক শুল্ক) কমানোর প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন ড. খলিলুর রহমান।

এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন, যা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন কাঁচামাল ব্যবহৃত পোশাকে শুল্ক ছাড়ের সম্ভাবনা

বাংলাদেশি তৈরি যেসব পোশাকপণ্যে মার্কিন কাঁচামাল বা উপকরণ ব্যবহৃত হয়, সেগুলোর ওপর থেকে শুল্ক কমানো বা পুরোপুরি প্রত্যাহারের প্রস্তাবও দেন ড. রহমান।

রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার এ বিষয়টিকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার বিষয়ে একমত প্রকাশ করেন। এতে করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে নতুন গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দ্রুত চূড়ান্ত হচ্ছে পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি

বৈঠকে উভয় পক্ষই সম্মত হয়েছে যে,

  • পারস্পরিক শুল্ক চুক্তির যেসব বিষয় এখনও অমীমাংসিত রয়েছে
  • সেগুলো দ্রুত সমাধান করে
  • চুক্তিটি যথাশীঘ্রই চূড়ান্ত ও বাস্তবায়ন করা হবে

এর ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ার প্রত্যাশা

ড. খলিলুর রহমান বলেন,
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির ফলে আগামী দিনে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের পারস্পরিক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে

‘ভিসা বন্ড’ সুবিধা ও ব্যবসায়িক ভ্রমণ সহজ করার আহ্বান

সম্প্রতি মার্কিন ‘ভিসা বন্ড’ কর্মসূচিতে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করায় যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানিয়ে ড. রহমান, বাংলাদেশিদের জন্য ব্যবসায়িক ভ্রমণ আরও সহজ করতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ডিএফসি তহবিল পেতে বাংলাদেশের আগ্রহ

একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য ডিএফসি (Development Finance Corporation) তহবিল প্রাপ্তির বিষয়েও অনুরোধ জানান।

রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার এ ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

উপস্থিতি

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন-

  • যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম

মার্কিন পক্ষের প্রতিনিধি দলে ছিলেন-

  • সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ
  • অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

সূত্র: আমার দেশ

আরো পড়ুন

উদ্যোক্তা উন্নয়নে নতুন দিগন্ত: এসআইসিআইপি’র আওতায় কমিউনিটি ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অংশীদারিত্ব

উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ এক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অধীন Skills for Industry Competitiveness and Innovation Program (SICIP)–এর আওতায় Entrepreneurship Development Program (EDP) বাস্তবায়নে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক–এর মধ্যে একটি অংশীদারিত্বমূলক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

রেমিট্যান্স: প্রবাসীদের শ্রমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চাবিকাঠি

রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের সংজ্ঞা ও পরিচয় বৈদেশিক কর্মস্থল থেকে দেশে পাঠানো অর্থই মূলত রেমিট্যান্স বলে পরিচিত। বিশ্বজুড়ে কাজ করা মানুষের উপার্জন যখন নিজ দেশে...

গভীর সমুদ্রে গবেষণায় জোর প্রধান উপদেষ্টার: মিলল ৬৫ নতুন প্রজাতির সন্ধান, টুনা মাছের বিপুল সম্ভাবনা

বাংলাদেশের নীল অর্থনীতি বা ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে গভীর সমুদ্রে গবেষণা আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেমের ওপর পরিচালিত একটি বিশেষ জরিপ ও গবেষণা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় তিনি এ গুরুত্বারোপ করেন।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ