দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময়ের নির্বাসন কাটিয়ে স্বদেশে ফেরার পর এক নতুন রাজনৈতিক আবহে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হলেন বিএনপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এক জমকালো শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এটি কেবল একটি অনুষ্ঠান ছিল না, বরং দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
এক আবেগঘন ও রাজকীয় প্রত্যাবর্তন
বেলা সোয়া ১১টায় তারেক রহমান যখন অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন, তখন সেখানে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে গত ৩০ ডিসেম্বর মাতৃহারা হওয়ার শোক কাটিয়ে ওঠার পর, গতকাল শুক্রবার রাতে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আজই তিনি জনসম্মুখে এলেন।
অনুষ্ঠানস্থলে এসেই তারেক রহমান প্রথাগত দূরত্বের দেয়াল ভেঙে নিজেই এগিয়ে যান সম্পাদক ও সাংবাদিকদের কাছে। হাস্যোজ্জ্বল মুখে প্রত্যেকের সঙ্গে হাত মেলান এবং খোঁজখবর নেন। এ সময় তার পাশে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
সংলাপে উন্মুক্ত আগামীর পথ
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকবৃন্দ, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO), শীর্ষ বার্তা সংস্থাগুলোর প্রধান এবং প্রথিতযশা জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। দীর্ঘ সময় পর সরাসরি এমন একটি আয়োজনে সাংবাদিকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর বক্তব্যে বলেন, “দীর্ঘ অনেকগুলো বছর নানা প্রতিকূলতার কারণে আমাদের নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে গণমাধ্যমের সরাসরি কোনো যোগাযোগ বা শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ হয়নি। দেশে ফেরার পর তিনি নিজেই আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন সাংবাদিক বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলতে। আজকের এই আয়োজন সেই সদিচ্ছারই প্রতিফলন।”
নতুন নেতৃত্বের বার্তা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের এই পদক্ষেপকে ‘গণমুখী রাজনীতি’র অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বক্তারা মনে করছেন, গণমাধ্যমের সঙ্গে এই সরাসরি যোগাযোগ কেবল বিএনপির অভ্যন্তরীণ শক্তিবৃদ্ধি করবে না, বরং দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করতেও ভূমিকা রাখবে। তারেক রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশের উন্নয়ন, বাকস্বাধীনতা এবং আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে গণমাধ্যমের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন।
শোক কাটিয়ে দেশ সেবায় মনোনিবেশ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পুরো দেশ যখন শোকাহত, ঠিক তখনই দলের হাল ধরেছেন তারেক রহমান। মায়ের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করার পর খুব কম সময়ের ব্যবধানে তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার এই সক্রিয়তা দলের তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। আজকের এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানটি প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল দলীয় প্রধান নন, বরং সর্বস্তরের মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চান।
সমাপ্তি ও আগামীর প্রত্যাশা
বনানীর শেরাটন হোটেলের এই মিলনমেলা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, তারেক রহমানের এই নতুন মেজাজ এবং গণমাধ্যমের প্রতি আন্তরিকতা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা কমিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের যে পথ তিনি বেছে নিয়েছেন, তা আগামীর বাংলাদেশের জন্য শুভবার্তা বয়ে আনবে।




