রবিবার, জানুয়ারি ১১, ২০২৬

অভিনয় ছাড়িয়ে কলমের জাদু: বিটিভিতে আজ আসছে এলিনা শাম্মীর ‘ব্যাচেলর ডায়েরি’

বহুল পঠিত

বাংলা নাটকের অঙ্গনে ধীরে ধীরে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করে নেওয়া অভিনেত্রী এলিনা শাম্মী শুধু অভিনয়েই সীমাবদ্ধ নন। ক্যামেরার সামনে যেমন সাবলীল, তেমনি ক্যামেরার পেছনেও তার সৃজনশীল উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। অভিনয়ের পাশাপাশি নাট্যকার হিসেবেও তিনি নিয়মিত কাজ করছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জন্য তিনি লিখেছেন নতুন একটি নাটক—‘ব্যাচেলর ডায়েরি’

বিটিভির প্রযোজনায় নির্মিত এই নাটকটির শুটিং শেষ হয়েছে সম্প্রতি। দর্শকদের জন্য আনন্দের খবর হলো—আজ রাত ৯টায় বিটিভির পর্দায় প্রচারিত হবে ‘ব্যাচেলর ডায়েরি’। পারিবারিক দর্শকদের কথা মাথায় রেখে নির্মিত এই নাটকটি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দিচ্ছেন এলিনা শাম্মী

নাট্যাঙ্গনে এলিনা শাম্মী মূলত একজন অভিনেত্রী হিসেবেই পরিচিত। টিভি নাটক ও টেলিফিল্মে তার উপস্থিতি নিয়মিত। তবে অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক লেখা শুরু করে তিনি প্রমাণ করেছেন—সৃজনশীলতা তার একক কোনো পরিচয়ে আটকে নেই। গল্প ভাবনা, সংলাপ নির্মাণ এবং চরিত্রের ভেতরের টানাপোড়েন ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি বেশ যত্নশীল।

‘ব্যাচেলর ডায়েরি’ নাটকটিও তার সেই লেখনী শক্তিরই প্রতিফলন। এই নাটকের গল্পে উঠে এসেছে শহুরে জীবনের বাস্তবতা, সম্পর্কের সূক্ষ্মতা, ব্যাচেলর জীবনের হাসি-কান্না এবং প্রজন্মের সঙ্গে প্রজন্মের মানসিক দূরত্ব ও সংযোগ।

বিটিভির প্রযোজনা মানেই আলাদা প্রত্যাশা

বাংলাদেশ টেলিভিশন বরাবরই পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে নাটক নির্মাণ করে আসছে। সেই ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি হয়েছে ‘ব্যাচেলর ডায়েরি’। নাটকটির গল্পে যেমন রয়েছে বিনোদন, তেমনি রয়েছে বার্তা। আধুনিক জীবনের ব্যস্ততায় হারিয়ে যাওয়া মানবিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার বিষয়গুলোই নাটকের মূল উপজীব্য।

বিটিভির প্রযোজনায় নির্মিত হওয়ায় নাটকটির নির্মাণশৈলী, অভিনয় ও উপস্থাপনেও রয়েছে পরিমিতিবোধ- যা সব বয়সী দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য।

তারকাবহুল অভিনয়শিল্পী

‘ব্যাচেলর ডায়েরি’ নাটকে একসঙ্গে দেখা যাবে অভিজ্ঞ ও নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পীদের। নাটকটিতে অভিনয় করেছেন-

ডলি জহুর,
মীর রাব্বি,
এলিনা শাম্মী,
আইনূন পুতুল,
মারিয়া ফারিহা উপমা,
কবির টুটুল,
ফিরোজ শাহী
এবং আল আমিন সবুজ।

প্রতিটি চরিত্রই গল্পের প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ। পার্শ্ব চরিত্রগুলোও আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে, যা নাটকটির সামগ্রিক গঠনকে আরও শক্তিশালী করেছে।

ডলি জহুর: “বিটিভিতে কাজ মানেই অন্যরকম অনুভূতি”

বাংলা নাটক ও চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ডলি জহুর এই নাটকে অভিনয় করে ভীষণ সন্তুষ্ট। নাটকটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন-

“বিটিভিতে কাজ করতে এলে আমি ভীষণ আপ্লুত হয়ে পড়ি। এটি আমার কাছে এক অন্যরকম আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা। এখানে কাজ করার স্মৃতি আমার জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে।”

তিনি আরও বলেন,
“‘ব্যাচেলর ডায়েরি’ নাটকটির গল্প খুব সুন্দর। শাম্মী অসাধারণভাবে লিখেছে। প্রতিটি চরিত্র খুব যত্ন নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। সবাই যার যার জায়গা থেকে মন দিয়ে অভিনয় করেছে। আমি বিশ্বাস করি দর্শকের ভালো লাগবে।”

ডলি জহুরের মতো অভিজ্ঞ একজন শিল্পীর এমন মন্তব্য নাটকটির প্রতি প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দেয়।

এলিনা শাম্মী: “ডলি জহুর আপার কাছ থেকে শেখার আছে অনেক কিছু”

নিজের লেখা নাটকে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা নিয়ে এলিনা শাম্মী বলেন—

“এটি আমার জন্য খুবই বিশেষ একটি কাজ। কারণ, ডলি জহুর আপার সঙ্গে আমার অভিনয় জীবনে এটাই প্রথম কাজ। তিনি আমাদের সবার জন্যই অনুপ্রেরণা।”

তিনি আরও বলেন,
“এই বয়সেও তিনি কতটা ডেডিকেটেড, তা কাছ থেকে না দেখলে বোঝা যায় না। কস্টিউম কন্টিনিউটি, সংলাপ, দৃশ্যের আবেগ—সবকিছুতেই তার অসম্ভব যত্ন। একজন শিল্পী হিসেবে তার কাছ থেকে শেখার আছে অনেক কিছু।”

নাটকটি দর্শকদের ভালো লাগবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এলিনা শাম্মী।

গল্পের ভেতরে বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি

‘ব্যাচেলর ডায়েরি’ নামটি যেমন ইঙ্গিত দেয়, নাটকটির গল্প ঘুরপাক খেয়েছে ব্যাচেলর জীবনকে কেন্দ্র করে। তবে এটি শুধুই হাস্যরসের গল্প নয়। এর ভেতরে রয়েছে দায়িত্ববোধ, পারিবারিক টানাপোড়েন, প্রজন্মগত ভাবনার পার্থক্য এবং সম্পর্কের গভীরতা।

ব্যাচেলর জীবনের স্বাধীনতা যেমন আছে, তেমনি আছে একাকীত্ব, অনিশ্চয়তা এবং সমাজের নানা চাপ। নাটকটি সেই বিষয়গুলোই তুলে ধরেছে সহজ ও সাবলীল ভাষায়।

দর্শকদের জন্য একটি পরিমিত বিনোদন

বর্তমান সময়ে যেখানে নাটকে অতিরিক্ত নাটকীয়তা বা অপ্রয়োজনীয় সংলাপ দেখা যায়, সেখানে ‘ব্যাচেলর ডায়েরি’ চেষ্টা করেছে পরিমিত ও বাস্তবধর্মী গল্প বলার। বিটিভির দর্শকপ্রিয় ধারাকে মাথায় রেখেই নির্মিত হওয়ায় এটি পরিবার নিয়ে বসে দেখার মতো একটি নাটক।

কখন ও কোথায় দেখবেন

নাটকের নাম: ব্যাচেলর ডায়েরি
প্রচার সময়: আজ রাত ৯টা
চ্যানেল: বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)

শেষকথা

অভিনয়ের পাশাপাশি নাট্যকার হিসেবে এলিনা শাম্মীর সক্রিয়তা বাংলা নাটকের জন্য নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দিক। ‘ব্যাচেলর ডায়েরি’ তারই একটি নতুন সংযোজন। অভিজ্ঞ শিল্পী ডলি জহুরসহ শক্তিশালী অভিনয়শিল্পীদের উপস্থিতি এবং বিটিভির প্রযোজনা মান- সব মিলিয়ে নাটকটি দর্শকদের জন্য হতে পারে একটি মনোরম অভিজ্ঞতা।

আজ রাত ৯টায় বিটিভির পর্দায় চোখ রাখতেই পারেন- হতে পারে এই নাটক আপনার নিজের জীবনের কোনো গল্পই বলে দেবে।

আরো পড়ুন

লালমাটিয়ার সেই ছোট্ট ঘর থেকে ধানমন্ডির সাম্রাজ্য: এক স্বপ্নবাজ অমির রূপকথা

স্বপ্ন যখন কেবল চোখে নয়, হৃদয়ে গেঁথে যায়- তখন অসম্ভবও সম্ভব হয়। ঠিক তেমনই এক অনুপ্রেরণার নাম নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি। ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি লালমাটিয়ার একটি ছোট্ট ঘরে মাত্র দুজন মানুষ আর এক বুক আত্মবিশ্বাস নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল তাঁর প্রোডাকশন হাউজ ‘বুম ফিল্মস’ (Boom Films)। আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সেই প্রতিষ্ঠানটি সাফল্যের ১০ বছর পূর্ণ করে বাংলাদেশের বিনোদন জগতের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘পাওয়ার হাউস’-এ পরিণত হয়েছে।

টিভির যুগ শেষ, ইউটিউবে অস্কারের নতুন ডিজিটাল অধ্যায়

চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ অস্কার অ্যাওয়ার্ড এবার নতুন প্রযুক্তি ও দর্শক অভিজ্ঞতার দিকে এক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৯ সাল থেকে টেলিভিশনের বদলে সরাসরি ইউটিউবে লাইভ সম্প্রচার হবে, যা বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের সিনেমাপ্রেমীর জন্য সহজলভ্য হবে।

আন্তর্জাতিক রঙে উজ্জ্বল হচ্ছে বাংলাদেশি সিনেমা: রটারড্যামে ‘রইদ’, ‘মাস্টার’ ও ‘দেলুপি’

এক সময় দেশের সীমাতেই সীমাবদ্ধ ছিল বাংলাদেশি সিনেমার স্বপ্ন, আজ তা মহাদেশ, ভাষা ও সংস্কৃতির সীমানা পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে। বাণিজ্যিক সিনেমা মাল্টিপ্লেক্সে দর্শক টানে, আর বিকল্প ও শিল্পধারার ছবি আন্তর্জাতিক উৎসবে লালগালিচায় সন্মান পায়।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ