দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার দরজায় পৌঁছেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আর্তনাদ। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) আজ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ বিচার কার্যক্রম।
স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই শুনানি টানা তিন সপ্তাহ চলবে। আন্তর্জাতিক আইনের ইতিহাসে এটি এক অনন্য মুহূর্ত- কারণ এটিই আইসিজেতে প্রথম কোনো গণহত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ বিচার।
নীরব আদালত, উচ্চকণ্ঠ ন্যায়বিচার
সংবেদনশীলতার কারণে এই শুনানি গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ থাকলেও, এর প্রতিধ্বনি শোনা যাবে বিশ্বজুড়ে। মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিচার শুধু রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, বরং বিশ্বব্যাপী নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর জন্যও এক শক্ত বার্তা।
জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত সংস্থার প্রধান নিকোলাস কুমজিয়ান জানিয়েছেন,
এই মামলা গণহত্যার সংজ্ঞা, প্রমাণের মানদণ্ড এবং ন্যায়বিচারের কাঠামো নির্ধারণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
২০১৭ সালের বিভীষিকা থেকে আজকের আদালত
২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর অভিযানে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে আসে। হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতনের মুখে অন্তত সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমতে, বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে জীবনযাপন করছেন।
জাতিসংঘের তদন্ত দল সেই অভিযানকে সরাসরি “গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড” বলে আখ্যা দেয়।
এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ২০১৯ সালে মুসলিম অধ্যুষিত পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করে- একটি সাহসী ও মানবিক পদক্ষেপ, যা আজ বৈশ্বিক ন্যায়বিচারের মঞ্চে রূপ নিয়েছে।
বিশ্ব রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলবে এই বিচার
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মামলার রায় ভবিষ্যতে অন্যান্য গণহত্যা সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রেও দিকনির্দেশনা দেবে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা মামলার ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
রোহিঙ্গাদের জন্য আশার আলো
এক সময় যাদের কণ্ঠ কেউ শোনেনি, আজ তাদের যন্ত্রণার বিচার হচ্ছে বিশ্বের সর্বোচ্চ আদালতে। এটি শুধু একটি মামলা নয়- এটি ন্যায়বিচারের পথে মানবতার বিজয়যাত্রা।
বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে হেগের আদালতের দিকে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীও নতুন করে আশায় বুক বাঁধছে- হয়তো এবার ইতিহাস তাদের পাশে দাঁড়াবে।
সুত্র: আমার দেশ




