দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক বিশাল সুসংবাদের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। পাকিস্তান, তুরস্ক এবং সৌদি আরবের সমন্বয়ে গঠিত হতে যাওয়া একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা এখন তুঙ্গে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয়ের হাতছানি
এই মহাজোটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, যখন পাকিস্তান ও সৌদি আরব ঐতিহাসিক ‘স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ বা কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির মূল মন্ত্র হলো- এক দেশের ওপর আক্রমণ মানেই অন্য দেশের ওপর আক্রমণ। অর্থাৎ, কোনো দেশ যদি সৌদি আরব বা পাকিস্তানের ওপর আগ্রাসন চালায়, তবে উভয় দেশ যৌথভাবে তা প্রতিহত করবে।
সুসংবাদ হলো, সামরিক শক্তিতে বলীয়ান তুরস্কও এই জোটে যোগদানের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, আঙ্কারা এই জোটে যুক্ত হতে দ্রুত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তুরস্কের নৌ-জাহাজ নির্মাণ শিল্প এবং এফ-১৬ বিমানের আপগ্রেডেশন প্রযুক্তির সাথে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির মিলন—এই জোটকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী একটি ‘ট্রায়াল্যাটারাল’ বা ত্রিপক্ষীয় শক্তিতে রূপান্তর করবে।
বাংলাদেশের জন্য কেন এটি সুখবর?
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশ তার কৌশলগত অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনছে। ঢাকার সামরিক মহল পাকিস্তানের সাথে সৌদি আরবের আদলে একটি অনুরূপ পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, খসড়া চুক্তিটি চূড়ান্ত করার জন্য উভয় দেশ ইতিমধ্যে একটি যৌথ মেকানিজম বা কর্মপদ্ধতি তৈরি করেছে। এই উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশের ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর আধুনিকায়ন কর্মসূচি আরও গতিশীল হবে। পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো দেশের কাছ থেকে উন্নত প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম—বিশেষ করে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান—সংগ্রহের সুযোগ বাংলাদেশের আকাশসীমার নিরাপত্তাকে নিশ্ছিদ্র করবে।
ঘনিষ্ট হচ্ছে ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্ক
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের ঘনঘন সফর এই সম্পর্কের উষ্ণতা প্রমাণ করে:
- অক্টোবর ২০২৫: পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান ঢাকা সফর করেন এবং নিয়মিত সামরিক মহড়া ও বিনিময় কর্মসূচির বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান।
- জানুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান পাকিস্তান সফর করেন, যেখানে চীন ও পাকিস্তানের যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার বিমান ক্রয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়াও গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সন্ত্রাস দমনে যৌথ অপারেশনের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়।
নির্বাচন পরবর্তী নতুন সম্ভাবনা
সবুজ সংকেত এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর যে নতুন সরকার গঠিত হবে, তাদের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হতে পারে এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এই আলোচনার যে শক্ত ভিত্তি রচিত হয়েছে, তা পরবর্তী সরকারকে একটি রেডিমেড প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিয়েছে।
যদি বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই জোটে যোগ দেয়, তবে এটি কেবল দেশের নিরাপত্তাই সুদৃঢ় করবে না, বরং মুসলিম প্রধান দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার এক নতুন অধ্যায় রচনা করবে। আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝে এই জোট বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল ‘নিরাপত্তা কবচ’ বা সিকিউরিটি আমব্রেলা হিসেবে কাজ করতে পারে।
বিশ্বের অস্থির পরিস্থিতির মাঝে বন্ধুরাষ্ট্রদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য একটি গর্বের বিষয় হতে পারে। এখন সবার দৃষ্টি ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিকে- যা নির্ধারণ করবে দক্ষিণ এশিয়ার আগামীর নিরাপত্তা মানচিত্র।
সুত্রঃ টাইমস অফ ইসলামাবাদ




