আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সামনে রেখে জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের আমীর ডা. শফিকুর রহমান এই নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা, সিনিয়র সাংবাদিক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশার বিশিষ্টজনেরা।
জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ‘জনতার ইশতেহার’
জামায়াত জানায়, জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে।
দেশ-বিদেশের ২৫০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞের মতামত এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে প্রস্তুত করা এই ইশতেহারকে দলটি আখ্যা দিয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’।
এ লক্ষ্যে ‘জনতার ইশতেহার’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করা হলে প্রায় ৪০ হাজার নাগরিক সেখানে মতামত ও প্রত্যাশা তুলে ধরেন। এসব মতামতকে ইশতেহারের বিভিন্ন দফায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
২৬টি অগ্রাধিকার, ৪১ দফা প্রতিশ্রুতি
জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এ মোট ২৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে ৪১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
ইশতেহারের মূল স্লোগান-
১. ‘চলো সবাই একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’
২. ‘জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ’
১০টি মৌলিক অঙ্গীকার: ৫টি ‘হ্যাঁ’, ৫টি ‘না’
ইশতেহারে ১০টি মৌলিক প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়-
৫টি ‘হ্যাঁ’
✔️ সততা
✔️ ঐক্য
✔️ ইনসাফ
✔️ দক্ষতা
✔️ কর্মসংস্থান
৫টি ‘না’
❌ দুর্নীতি
❌ ফ্যাসিবাদ
❌ আধিপত্যবাদ
❌ বেকারত্ব
❌ চাঁদাবাজি
ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিগুলো
জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে-
- স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন
- বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা
- Youth First নীতিতে যুবকদের অগ্রাধিকার
- নারীদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র
- মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ
- দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার
- প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গঠন
- ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ
- ব্যাংকিং খাত সংস্কার ও শক্তিশালী অর্থনীতি
- আনুপাতিক (PR) পদ্ধতিতে নির্বাচন ও শক্তিশালী গণতন্ত্র
- গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিচার
- জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ ও শহীদ পরিবার পুনর্বাসন
- কৃষি বিপ্লব ও ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা
- বিনিয়োগবান্ধব শিল্পায়ন ও শ্রমিক কল্যাণ
- প্রবাসীদের ভোটাধিকার ও নাগরিক অধিকার
- সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে শিক্ষা
- দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক নিরাপত্তা
- স্বল্পমূল্যের আবাসন ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা
- ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনরুত্থান রোধ
- স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা
‘একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়
জামায়াত নেতারা জানান, এই নির্বাচনী ইশতেহারের মূল লক্ষ্য হলো-
একটি নিরাপদ, মানবিক, ইনসাফভিত্তিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে সকল নাগরিক ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমান অধিকার ভোগ করবে।





