সোমবার, মার্চ ৩০, ২০২৬

ভুয়া ভোট ঠেকাতে কঠোর ইসি: নারী ভোটারের পরিচয় যাচাইয়ে থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা

বহুল পঠিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভুয়া ভোট ঠেকাতে নারী ভোটারদের পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে নারীর মর্যাদা, পর্দা ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান রেখেই এই যাচাই কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন—যা ইতোমধ্যে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ভোট দেওয়ার আগে প্রত্যেক নারী ভোটারের চেহারার সঙ্গে ছবিসহ ভোটার তালিকার মিল করতেই হবে। পরিচয় নিশ্চিত না হলে ব্যালট পেপার দেওয়া যাবে না। তবে পর্দানশিন নারীদের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই পুরুষ কর্মকর্তার সামনে নেকাব বা বোরকা খুলতে বাধ্য করা হবে না।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “আইন অনুযায়ী প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ছবিসহ ভোটার তালিকা থাকবে। ভোট দেওয়ার পূর্বশর্ত হলো পরিচয় নিশ্চিত করা। কেউ মুখ না দেখালে সেটি সম্ভব নয়। তবে পর্দানশিন নারীদের জন্য আমরা আলাদা ও সম্মানজনক ব্যবস্থা রেখেছি।”

ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে মহিলা পোলিং অফিসার ও নারী আনসার নিয়োগ করা হবে। কোনো নারী ভোটার যদি পুরুষ কর্মকর্তার সামনে মুখ দেখাতে অনিচ্ছুক হন, তাহলে শুধুমাত্র নারী কর্মকর্তার মাধ্যমেই তার পরিচয় যাচাই করা হবে। এতে করে পর্দা ভঙ্গ হবে না বলেও নিশ্চিত করেছে কমিশন।

ইসিসংশ্লিষ্টরা জানান, যদি কোনো ভোটকেন্দ্রে নারী কর্মকর্তা উপস্থিত না থাকেন এবং কোনো নারী ভোটার মুখ দেখাতে অনিচ্ছুক হন, তাহলে তাকে জোর করে ভোট দিতে বাধ্য করা যাবে না। এমন পরিস্থিতিতে ভোট না দিলেও তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

আইন ও ধর্ম—দুই দৃষ্টিকোণ থেকেই বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। ইসলামি চিন্তাবিদ মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী বলেন, “পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজনে মুখ দেখানো ইসলামে জায়েজ। তবে যেখানে বিকল্প ব্যবস্থা আছে, সেখানে নারী কর্মকর্তার মাধ্যমে যাচাই করাই উত্তম। এতে পর্দাও রক্ষা পায়, আবার আইনও মানা হয়।”

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করা নির্বাচন কর্মকর্তার আইনগত দায়িত্ব। তবে একই সঙ্গে ভোটারের সম্মান, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে—এমন কোনো আচরণও আইনসম্মত নয়।

উল্লেখ্য, আসন্ন নির্বাচনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। ফলে ইভিএমের মতো আঙুলের ছাপ যাচাইয়ের সুযোগ থাকছে না। এ কারণে ছবি ও চেহারা মিলিয়েই পরিচয় নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

সামগ্রিকভাবে, ভুয়া ভোট রোধের পাশাপাশি নারী ভোটারের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগকে গণতন্ত্রের জন্য একটি ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো পড়ুন

বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন শফিকুর রহমান

বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি...

ইমাম মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। দেশের মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও বৌদ্ধবিহারের ধর্মীয় নেতাদের সরকারি সম্মানী...

১৫ মার্চ থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি পাবে গণপরিবহন: জানালেন সড়কমন্ত্রী

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ঘরমুখো মানুষের জন্য বড় সুখবর দিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানিয়েছেন, আগামী...
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ