আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নজিরবিহীন প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের দিন সারা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর কেন্দ্রে আকাশে উড়বে এক হাজার ড্রোন। লক্ষ্য- সহিংসতা প্রতিরোধ, দুর্গম এলাকায় নজরদারি এবং একটি শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা।
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা, পার্বত্য অঞ্চল, সীমান্তবর্তী টেকনাফ থেকে ফেনী পর্যন্ত বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হবে। ইসি বলছে, এবার প্রযুক্তিই হবে স্বচ্ছতার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
বিমান বাহিনীর সহায়তায় আধুনিক নজরদারি
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কারিগরি সহায়তায় ড্রোনগুলো পরিচালিত হবে।
এই ড্রোনগুলো রিয়েল-টাইম ভিডিও ও তথ্য সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় সেলে পাঠাবে। বিশেষায়িত ‘ই-মনিটরিং’ অ্যাপের মাধ্যমে পুরো কার্যক্রম তদারকি করা হবে।
তার ভাষায়,
“পাহাড় হোক বা সীমান্ত- কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তা সেকেন্ডের মধ্যেই ইসির নজরে আসবে।”
২১ সংস্থার সমন্বিত নিরাপত্তা বলয়
শুধু প্রযুক্তিই নয়, মাঠে সক্রিয় থাকবে ডিজিএফআই, এনএসআই, র্যাব, বিজিবিসহ মোট ২১টি আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থা।
ড্রোনের মাধ্যমে কোনো নাশকতা, অস্ত্র প্রদর্শন বা সন্দেহজনক তৎপরতা শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড় ও চরাঞ্চলে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সীমান্ত ও স্পর্শকাতর এলাকায় বিশেষ ফোকাস
কক্সবাজার ও টেকনাফ অঞ্চলে বহিরাগতদের প্রভাব বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধে থাকবে বিশেষ স্কোয়াড। ড্রোনের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য সরাসরি আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেলে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
প্রযুক্তির মাইলফলক
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এক হাজার ড্রোন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের নির্বাচনি ইতিহাসে একটি বড় প্রযুক্তিগত মাইলফলক।
এটি শুধু সহিংসতা কমাবে না, সাধারণ ভোটারের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করবে।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় এটি হতে পারে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা— যেখানে প্রযুক্তি হবে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার রক্ষাকবচ।





