লা লিগায় টানা হতাশার মধ্যে থাকা আলাভেস বনাম রিয়াল মাদ্রিদ (alaves vs real madrid) ম্যাচটি ছিল রিয়ালের ‘জিততেই হবে’ এমন সমীকরণ। ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হারের পর এবং লা লিগায় ধারাবাহিক ফলহীনতার কারণে কোচ জাবি আলোনসোর ভবিষ্যৎও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছিল। এই পরিস্থিতিতে হার কিংবা ড্র হলে আলোনসোর চেয়ার খারাপ অবস্থার সম্মুখীন হতো।
তবে রোববার মেন্ডিসোরোজা স্টেডিয়ামে আলাভেসের বিপক্ষে কিলিয়ান এমবাপে ও রদ্রিগোর গোলের সুবাদে রিয়াল ২-১ ব্যবধানে জয়লাভ করে। এই জয়ের ফলে লিগের দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে মাত্র চার পয়েন্টে নামিয়ে এনেছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ নয় ম্যাচে এটি ছিল মাদ্রিদের মাত্র তৃতীয় জয়।
ম্যাচের শুরু ও এমবাপের আগমন
ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে হারের পর স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন উঠেছিল, আলাভেসের বিপক্ষে জয় না পেলে আলোনসোর বিদায় নিশ্চিত। সেই বাস্তবতায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল রিয়াল।
হাঁটুর চোট কাটিয়ে দলে ফেরা এমবাপে শুরুতে কিছুটা অস্বস্তিতে থাকলেও দ্রুতই ম্যাচে নিজের ছাপ রেখেছিলেন। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে জুড বেলিংহ্যামের পাস থেকে দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে গিয়ে ডান পায়ের শটে জালের ওপরের কোণে বল পাঠান এমবাপে। এটি ছিল চলতি লিগে তার ১৭তম গোল।
এর আগে বেলিংহ্যাম কাছ থেকে গোল করলেও হ্যান্ডবলের কারণে তা বাতিল হয়। প্রথমার্ধের সময়ে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে আলাভেস। বিরতির আগে তারা সমতায় ফেরার কাছাকাছিও গিয়েছিল, তবে থিবো কোর্তোয়ার মাথা ছুঁয়ে করা অপ্রত্যাশিত সেভ মাদ্রিদকে বাঁচায়।
দ্বিতীয়ার্ধের নাটকীয় মুহূর্ত
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও এমবাপে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট ঠেকান আলাভেস গোলরক্ষক আন্তোনিও সিভেরা। এই সুযোগগুলো কাজে না লাগানোর খেসারত রিয়ালকে দিতে হয়।
৬৮তম মিনিটে এক চমৎকার মুহূর্ত আসে, যখন আন্তোনিও ব্লাঙ্কোর চিপ পাসকে নিয়ন্ত্রণ করে কার্লোস ভিসেন্তে দুর্দান্ত ফিনিশে সমতা ফেরান। গোল হজমের পর মুহূর্তেই রিয়াল ছন্নছাড়া হয়ে পড়ে। ভিসেন্তের ক্রস থেকে টনি মার্টিনেজ এগিয়ে দিতে পারলেও রাউল আসেনসিওর চাপের কারণে শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
ঠিক তখনই স্বস্তি আসে রদ্রিগোর দিক থেকে। বাঁ দিক দিয়ে ভিনিসিয়ুসের দারুণ দৌড় ও নিখুঁত ক্রস থেকে ছয় গজ বক্সে গোল করে রিয়ালকে আবার এগিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এটি ছিল টানা দুই ম্যাচে তার দ্বিতীয় গোল; এর আগে ৩২ ম্যাচে তিনি গোলহীন ছিলেন।
খেলার গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত বিবরণ
- প্রথমার্ধ: রিয়াল প্রাথমিক ২৫ মিনিটে বলের দখলে আধিপত্য দেখায়। তবে আলাভেস ধীরে ধীরে প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করে এবং বিরতির আগে সমতা ফেরানোর সুযোগ তৈরি করে।
- দ্বিতীয়ার্ধ: রিয়ালের আক্রমণ আরো স্থির হলেও ভিনিসিয়ুস ও এমবাপে গোলরক্ষককে পরীক্ষা দেন। আলাভেসের চিপ পাস ও ক্রস থেকেও খেলা উত্তেজনাপূর্ণ থাকে।
- শেষ মিনিট: ভিনিসিয়ুসের পেনাল্টির দাবি নাকচ হয়, স্টপেজ টাইমে বেলিংহ্যামও ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে গোল হয়নি।
ম্যাচের প্রভাব ও টেবিল আপডেট
এই জয়ের ফলে রিয়াল মাদ্রিদ লা লিগার দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান ধরে রেখেছে এবং শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান চার পয়েন্টে নামিয়ে এনেছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ নয় ম্যাচে এটি রিয়ালের তৃতীয় জয়।
এদিকে আলাভেস এই হারের ফলে টেবিলের ১২ নম্বরে অবস্থান করছে। রিয়ালের জয় তাদের শীর্ষস্থানীয়দের সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে আনার পাশাপাশি কোচ আলোনসোর জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।