বার্সেলোনা বনাম আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট– চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এই জমজমাট লড়াইয়ে শুরুতে হোঁচট খেলেও শেষ পর্যন্ত দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বার্সেলোনা। নতুন রূপে সাজানো কাম্প নউয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে মাঠে নেমে কাতালানরা জিতেছে দারুণ লড়াইয়ের ২-১ ব্যবধানে। জুল কুন্দের দ্বিতীয়ার্ধে টানা দুই গোল বার্সেলোনাকে ফিরিয়ে দিয়েছে জয়ের পথে।
শুরুর ধাক্কায় পিছিয়ে, কিন্তু শেষ হাসি বার্সেলোনার
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে আধিপত্য দেখালেও ডিফেন্সের ভুলে ২১তম মিনিটে পিছিয়ে পড়ে বার্সেলোনা। ফ্রাঙ্কফুর্টের দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক সামলাতে ব্যর্থ হয়ে গোল হজম করতে হয় তাদের। সতীর্থের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে নিচু শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন আন্সগা।
এরপর প্রথমার্ধে আরও কিছু সুযোগ পেলেও লক্ষ্যে আঘাত হানতে ব্যর্থ হয় জাভির শিষ্যরা। যোগ করা সময়ে উড়ন্ত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ হওয়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।
দ্বিতীয়ার্ধে বার্সেলোনার আগ্রাসী প্রত্যাবর্তন
বিরতির পর পুরো চেহারাই বদলে যায় বার্সেলোনার। বদলি হিসেবে নামার কয়েক মিনিটের মধ্যেই মারকাস র্যাশফোর্ড অসাধারণ একটি আক্রমণ সাজান, যদিও রাফিনিয়া সুযোগ নষ্ট করেন।
তবে এরপরই আসে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট।
- ৫০তম মিনিট: র্যাশফোর্ডের নিখুঁত ক্রস থেকে কুন্দের হেডে সমতা।
- ৫৩তম মিনিট: লামিনে ইয়ামালের দুর্দান্ত ক্রস ডানে পাঠিয়ে আবারও হেডে গোল করেন কুন্দে।
মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল তুলে নিয়ে বার্সেলোনাকে লিড এনে দেন এই ফরাসি ডিফেন্ডার।
বল দখলে দাপট, আক্রমণে ধারালো বার্সেলোনা
পুরো ম্যাচজুড়ে বল দখলের ৭৬% সময় ছিল বার্সেলোনার কাছে।
- শট নিয়েছে ১৯টি, তার মধ্যে ৭টি অন টার্গেট
- ফ্রাঙ্কফুর্ট নিয়েছে ৬টি শট, যার ৪টি লক্ষ্যে
দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্তন হিসেবে তরেস ও ফ্রেংকি ডি ইয়ং নামিয়ে আক্রমণ আরও ধারালো করেন কোচ ফ্লিক। শেষ দিকে লিড ধরে রাখতে বল দখলেই বেশি মনোযোগ দেয় বার্সেলোনা।
গ্রুপ পর্বে অবস্থান
৬ ম্যাচে তিন জয় ও এক ড্রয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে বার্সেলোনা আছে ১৪তম স্থানে।
ফ্রাঙ্কফুর্ট চার ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ৩০তম স্থানে।
ইউরোপা লিগের বদলা
২০২১-২২ সালে একই ভেন্যুতে ফ্রাঙ্কফুর্টের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল বার্সেলোনা। এবার সেই তেতো স্মৃতির বদলা নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেনি কাতালানরা।