শনিবার, জানুয়ারি ১০, ২০২৬

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগের তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় আগমন

বহুল পঠিত

দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে তিন দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় আসছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে। আগামী শনিবার (২২ নভেম্বর) তিনি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে ঢাকা পা রাখবেন। তার এই সফরকে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক উন্নয়নকেন্দ্রিক নতুন সম্ভাবনার সফর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আনুষ্ঠানিক বৈঠকে গুরুত্ব পাবে বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা

সফরের প্রথম দিনেই ভুটানের প্রধানমন্ত্রী প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবেন। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকের আগে দুই নেতার মধ্যে একান্ত আলাপের সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে তারা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করবেন।

এই বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, জলবিদ্যুৎ সহযোগিতা, শিক্ষা, পর্যটন, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানির সম্ভাবনা, বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানির সুযোগ বৃদ্ধি এবং পরস্পরের বাজারে শুল্ক সুবিধা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুটান বাংলাদেশের অন্যতম বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ, এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা আঞ্চলিক ভারসাম্য শক্তিশালী করবে।

সই হতে পারে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক

শেরিং টোবগের সফরের সময় বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে তিনটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হতে পারে। চুক্তিগুলো মূলত বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিক্ষা বিনিময় এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে হবে বলে জানা গেছে।

এর মধ্যে অন্যতম হলো-

  • দুটি দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ সহজীকরণ,
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা,
  • পর্যটন খাতে যৌথ প্রচারণা ও পারস্পরিক সুবিধা বিনিময়

দুই দেশের সম্পর্কের ৫০ বছরের বন্ধুত্ব উদযাপনের ধারাবাহিকতায় এই চুক্তিগুলো নতুন দিগন্ত তৈরি করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

সরকারের উপদেষ্টাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সফরের অংশ হিসেবে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনসহ সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা। তারা আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বাণিজ্য সম্ভাবনা, সীমান্তপথে বাণিজ্যগত সুবিধা বৃদ্ধি এবং মানবিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন।

এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও কথাবার্তা হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।

বাংলাদেশ–ভুটান সম্পর্কের গুরুত্ব বৃদ্ধি

বাংলাদেশ ও ভুটান ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ বন্ধুপ্রতিম দেশ। ভুটানই ১৯৭১ সালে প্রথম বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সময়ের সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক বাণিজ্য, কৃষি, মানবসম্পদ ও জলবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতে আরও শক্তিশালী হয়েছে।

বিশেষত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভুটান বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় একটি বাজার। অপরদিকে ভুটানের জন্য বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট ও বাণিজ্য অংশীদার।

ফলে শেরিং টোবগের এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোমবার সফর শেষে ঢাকা ত্যাগ করবেন

তিন দিনের ব্যস্ত সফরসূচি পালন শেষে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে আগামী সোমবার (২৪ নভেম্বর) ঢাকা ত্যাগ করবেন। তার এই সফর বাংলাদেশ–ভুটান সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করছে উভয় দেশই।

আরো পড়ুন

জুলাই বিপ্লবের বীরদের জন্য আসছে ঐতিহাসিক ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’!

ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত দ্বিতীয় স্বাধীনতার কারিগরদের জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে এসেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বীর যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা দিতে সরকার একটি বিশেষ ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’ (Indemnity Ordinance) প্রণয়ন করতে যাচ্ছে।

রাজধানীতে ‘জুলাই বীর সম্মাননা’: ১২০০ যোদ্ধা ও সাংবাদিককে বিশেষ স্মারক প্রদান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা এবং আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য 'জুলাই বীর সম্মাননা' অনুষ্ঠান। আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলনের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ঐতিহাসিক ফেলানী হত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং সাহসী সাংবাদিকদের বিশেষ সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ড. ইউনূসের ডাক: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার আহ্বান

একটি বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশবাসীকে ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্তের অংশ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ ইউনূস। আগামী জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি সম্ভাব্য গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। ড. ইউনূসের মতে, এটি কেবল একটি ভোট নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রাষ্ট্র সংস্কারের এক বড় সুযোগ।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ