চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের বিভিন্ন আদেশের ভিত্তিতে দেশে ও বিদেশে ২ হাজার ২১৬ কোটি টাকার বেশি মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
দুদক প্রধান কার্যালয়ের মাসিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। কমিশনের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতের ২৯ আদেশে সম্পদ জব্দ
দুদক জানায়, জানুয়ারি মাসে আদালতের ২৯টি আদেশের ভিত্তিতে সম্পদের তালিকা কমিশনে উপস্থাপন করা হয়।
এর মধ্যে-
- ২২টি আদেশে সম্পদ ক্রোক
- ১১টি আদেশে সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে
এই আদেশগুলোর আওতায় বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দ করা হয়।
দেশে ক্রোক ও অবরুদ্ধ সম্পদের চিত্র
মাসিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে যেসব সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—
- ৬৯.২৬ একর জমি
- ৪টি ভবন
- ৬টি ফ্ল্যাট
- ২টি দোকান
- ১টি বাণিজ্যিক স্পেস
- ১টি এফডিআর
- ৬টি গাড়ি
- ১টি বীমা পলিসি
এসব সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৪ কোটি ৬৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৩ টাকা।
এছাড়া-
- ৭৯টি ব্যাংক ও সঞ্চয়ী হিসাবে ৮ কোটি ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৯১৩ টাকা
- ২টি বিও হিসাব ও ১২ লাখ টাকার শেয়ার অবরুদ্ধ করা হয়েছে
সব মিলিয়ে দেশে অবরুদ্ধ সম্পদের মূল্য ৮ কোটি ৫০ লাখ ৬০ হাজার ৩১৩ টাকা।
বিদেশে বিপুল স্থাবর সম্পদ জব্দ
দুদকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বিদেশের একাধিক দেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদও জব্দ করা হয়েছে।
ক্রোক হওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে-
- যুক্তরাষ্ট্রে ৪৪টি ফ্ল্যাট
- ফিলিপাইনে ২টি ফ্ল্যাট
- ভারতে ৯টি ফ্ল্যাট
- সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য দেশে ৩৩টি অ্যাপার্টমেন্ট
অবরুদ্ধ সম্পদের মধ্যে রয়েছে—
- মালয়েশিয়ায় ৪৭টি বাণিজ্যিক স্পেস
- কম্বোডিয়ায় ১১৭টি সম্পদ
- থাইল্যান্ডে ২৩টি সম্পদ
- সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫৯টি সম্পদ
বিদেশে ক্রোক ও অবরুদ্ধ এসব স্থাবর সম্পদের মোট মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ হাজার ২১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৬০ হাজার ৬৪৩ টাকা ২০ পয়সা।
বিদেশে বিনিয়োগও জব্দ
এছাড়া বিদেশে থাকা ১ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বিনিয়োগও ক্রোক করেছে দুদক।
বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এর বাংলাদেশি মূল্য প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ ২৬ হাজার টাকা।
মামলার অগ্রগতি ও তদন্ত কার্যক্রম
দুদকের জানুয়ারি মাসের কার্যক্রমে আরও দেখা গেছে-
- ৪৬৭ জনের বিরুদ্ধে ৭৬টি এফআইআর
- ১১০ জনের বিরুদ্ধে ৩৬টি চার্জশিট
- ১১ জনকে অব্যাহতি দিয়ে ৯টি ফাইনাল রিপোর্ট
- ৯২টি নতুন অনুসন্ধান শুরু
- ১৯টি পরিসমাপ্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তি
- ৩৮টি সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ
দুদক জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ চিহ্নিতকরণ, জব্দ ও সংরক্ষণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।





