শনিবার, জানুয়ারি ১০, ২০২৬

সীমান্তে শহীদ ফেলানীর স্মরণে ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের পাশে ‘ফেলানী এভিনিউ’

বহুল পঠিত

রাজধানীর কূটনৈতিক অঞ্চলে ইতিহাসের এক নীরব স্মারক যুক্ত হলো।
ঢাকার গুলশান-২ থেকে প্রগতি সরণি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘ফেলানী এভিনিউ’। সীমান্তে বিএসএফের গুলীতে নিহত কিশোরী ফেলানী খাতুনের স্মৃতিকে ধারণ করতেই এই নামকরণ।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া মঙ্গলবার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, সীমান্তে নিহত কিশোরী ফেলানীর স্মরণে ভারতের দূতাবাসসংলগ্ন গুলশান-২ থেকে প্রগতি সরণি পর্যন্ত সড়কটির নামকরণ করা হয়েছে ‘ফেলানী এভিনিউ’।

হৃদয়বিদারক সেই ৭ জানুয়ারি

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে ঘটে যায় বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। ভারতের ভেতর থেকে বাবার সঙ্গে দেশে ফেরার পথে ১৫ বছর বয়সী ফেলানী খাতুনকে গুলি করে হত্যা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।

সীমান্তে বিএসএফের গুলীতে নিহত শহীদ ফেলানীর নিথর দেহ
সীমান্তে বিএসএফের গুলীতে নিহত শহীদ ফেলানীর নিথর দেহ ছবি: সংগ্রহীত

গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর কাঁটাতারে দীর্ঘ চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা ফেলানীর নিথর দেহ বিশ্ববিবেককে নাড়া দেয়। দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে, শুরু হয় সীমান্ত হত্যা ও মানবাধিকার নিয়ে তীব্র আলোচনা।

বিচার হয়নি ১৫ বছরেও

ফেলানী হত্যার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেও ন্যায়বিচার আজও অধরা। ২০১৩ সালে ভারতের কোচবিহারে বিএসএফের বিশেষ আদালতে বিচার শুরু হলেও অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে প্রথমে খালাস দেওয়া হয়। পরে বিজিবির আপত্তিতে পুনরায় বিচার শুরু হলেও ২০১৪ সালেও একই রায় বহাল থাকে।

২০১৫ সালে ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট আবেদন করেন। একাধিকবার শুনানির তারিখ পেছালেও মামলাটি এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।

পরিবারের কণ্ঠে আশা আর বেদনা

ফেলানীর ছোট ভাই জাহান উদ্দিন বলেন,
“আমার বোনের নামে ঢাকার গুলশানে সড়কের নাম হওয়ায় আমরা গর্বিত। কিন্তু যে আমার বোনকে হত্যা করেছে, তার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কষ্ট শেষ হবে না।”

মা জাহানারা বেগম বলেন,
“ভারতীয় দূতাবাসের সামনে রাস্তার নাম আমার মেয়ের নামে হয়েছে-এতে মনটা ভরে গেছে। তবে আমি শুধু চাই, আমার মেয়ের হত্যার বিচার হোক।”

বাবা নুর ইসলাম জানান,
“দুইবার ভারতে গিয়ে সাক্ষ্য দিয়েছি। সুপ্রিম কোর্টেও গেছি। এখনো অপেক্ষায় আছি। ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চালিয়ে যাব।”

প্রতীকী স্বীকৃতি, কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেল

স্থানীয়রা বলছেন, ফেলানী এভিনিউ নামকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী স্বীকৃতি। তবে এর পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং ফেলানী হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

আইনি সহায়তাকারী অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন বলেন,
“ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে মামলাটির শুনানি হওয়া দরকার। শান্তিপূর্ণ সীমান্তের স্বার্থেই এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা আসা উচিত।”

স্মরণ থেকে ন্যায়ের পথে?

‘ফেলানী এভিনিউ’ শুধু একটি রাস্তার নাম নয়- এটি সীমান্তে নিহত নিরীহ মানুষের স্মৃতি, রাষ্ট্রীয় দায় ও ন্যায়বিচারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রতীক।
ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় এই নামফলক স্থাপন ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেও, প্রশ্ন থেকেই যায়-ফেলানী কি কোনো দিন বিচার পাবে?

আরো পড়ুন

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা: প্রতি পদের জন্য ৭৫ প্রতিযোগী, চাকরির দৌড়ে লাখো প্রার্থী

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫ আজ শুক্রবার সারা দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আয়োজিত এই লিখিত পরীক্ষাকে ঘিরে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে।

জুলাই বিপ্লবের বীরদের জন্য আসছে ঐতিহাসিক ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’!

ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত দ্বিতীয় স্বাধীনতার কারিগরদের জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে এসেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বীর যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা দিতে সরকার একটি বিশেষ ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’ (Indemnity Ordinance) প্রণয়ন করতে যাচ্ছে।

রাজধানীতে ‘জুলাই বীর সম্মাননা’: ১২০০ যোদ্ধা ও সাংবাদিককে বিশেষ স্মারক প্রদান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা এবং আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য 'জুলাই বীর সম্মাননা' অনুষ্ঠান। আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলনের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ঐতিহাসিক ফেলানী হত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং সাহসী সাংবাদিকদের বিশেষ সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ