হজ ও ওমরাহ মৌসুমে বিপুল মুসল্লির ভিড়ে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে আগত শিশুদের জন্য চালু করা হয়েছে বিশেষ পরিচয়মূলক সেফটি ব্রেসলেট, যাতে অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) গালফ নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মসজিদুল হারামে চালু হলো পরিচয়মূলক সেফটি ব্রেসলেট
মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জেনারেল অথরিটি ফর দ্য কেয়ার অব দ্য টু হোলি মস্কস জানিয়েছে, মসজিদুল হারামে প্রবেশের সময় শিশুদের হাতে এই সেফটি ব্রেসলেট পরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ভিড়ের মধ্যে কোনো শিশু হারিয়ে গেলে বা পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হলে, এই ব্রেসলেটের মাধ্যমে দ্রুত তাকে শনাক্ত করে অভিভাবকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ব্রেসলেটে থাকবে অভিভাবকের যোগাযোগ তথ্য
এই সেফটি ব্রেসলেটে শিশুর অভিভাবকের ফোন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় যোগাযোগ তথ্য সংযুক্ত থাকবে। ফলে কোনো শিশু হারিয়ে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা দ্রুত অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।
কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি একটি সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ, যার মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং নিরাপত্তাকর্মীদের কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।
গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে পাওয়া যাচ্ছে এই সেবা
বর্তমানে মসজিদুল হারামের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে এই সেবা চালু রয়েছে। বিশেষ করে-
- কিং আবদুল আজিজ গেট
- কিং ফাহদ গেট (৭৯ নম্বর গেট)
এই গেটগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা অভিভাবকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে দ্রুত ও সহজভাবে নিবন্ধন সম্পন্ন করছেন।
হজ ও ওমরাহ মৌসুমে কেন এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ
হজ ও ওমরাহ মৌসুমে মসজিদুল হারামে মুসল্লি ও দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ সময় শিশুদের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে-
- শিশুদের নিরাপত্তা জোরদার হবে
- হারিয়ে যাওয়া শিশু দ্রুত শনাক্ত করা যাবে
- অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা কমবে
অভিভাবকদের সেবাটি গ্রহণের আহ্বান
সৌদি কর্তৃপক্ষ সকল অভিভাবককে এই সেফটি ব্রেসলেট সেবার সুবিধা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে নিয়ে যারা হজ ও ওমরাহ পালন করছেন, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলে মনে করা হচ্ছে।
মানসিক প্রশান্তি ও নিরাপদ ইবাদতের সুযোগ
কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগ শুধু শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না, বরং পিতামাতা ও অভিভাবকদের মানসিক প্রশান্তিও দেবে। সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কমলে মুসল্লিরা আরও মনোযোগের সঙ্গে ইবাদতে সময় দিতে পারবেন।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল ধর্মীয় স্থানে আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা প্রযুক্তির এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই মুসল্লিদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।