শনিবার, জানুয়ারি ১০, ২০২৬

আইআরআই জরিপ: বিএনপি ৩০% ভোট, জামায়াত ২৬%; ড. ইউনূসের ওপর আস্থা ৬৯% নাগরিকের

বহুল পঠিত

মার্কিন সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের সর্বশেষ জনমত জরিপ। ‘ন্যাশনাল সার্ভে অব বাংলাদেশ, সেপ্টেম্বর–অক্টোবর ২০২৫’ শিরোনামের এই জরিপে উঠে এসেছে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের সম্ভাব্য ঝোঁক, রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তা, সরকার ও উপদেষ্টা পরিষদের প্রতি জনআস্থা-সবই।

জরিপে দেখা যায়, নির্বাচন আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পেতে পারে ৩০ শতাংশ ভোট, আর জামায়াতে ইসলামী পেতে পারে ২৬ শতাংশ ভোট। দুই দলের ভোটব্যবধান মাত্র ৪ শতাংশ, যা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলে।

৪ হাজার ৯৮৫ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর জরিপ

আইআরআই-এর এ জরিপে অংশ নেন ৪,৯৮৫ জন ভোটার, যাদের সবার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি। দেশের আটটি বিভাগ ও ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩ জেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
মাত্র একটি জেলা-রাঙামাটি এবার নমুনার অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

সংস্থার দাবি অনুযায়ী এ জরিপের আস্থা মাত্রা ৯৫% এবং ফলাফলে ১.৪% পর্যন্ত তারতম্য হতে পারে।

কোন দল কত ভোট পেতে পারে?

আইআরআইয়ের মতানুযায়ী, আগামী সপ্তাহে নির্বাচন হলে ভোটের সম্ভাব্য হার হবে নিম্নরূপ-

  • বিএনপি — ৩০%
  • জামায়াতে ইসলামী — ২৬%
  • জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) — ৬%
  • জাতীয় পার্টি — ৫%
  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ — ৪%
  • অন্যান্য দল — ৮%

এই ফলাফল অনুযায়ী, দুই শীর্ষ বিরোধী দলের মধ্যে ভোটব্যবধান মাত্র চার শতাংশ, যা জাতীয় রাজনীতিতে এক ধরণের প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

আইআরআই জরিপ ড. ইউনূসের সন্তুষ্টি- ৬৯%

জরিপে উত্তরদাতারা শুধু রাজনৈতিক দল নয়, দেশের বর্তমান অবস্থা নিয়েও মতামত দিয়েছেন।
সেখানে দেখা যায়-

  • ৬৯% মানুষ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ওপর সন্তুষ্ট
  • ৭০% মানুষ সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন
  • ৮০% ভোটার আশা করছেন দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে

এই ফলাফল থেকে বোঝা যায়, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতি নাগরিকদের আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দেশব্যাপী CAPi পদ্ধতিতে মুখোমুখি সাক্ষাৎকার

২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশের মাঠপর্যায়ে CAPI (Computer Assisted Personal Interviewing) পদ্ধতিতে জরিপকারীরা সরাসরি সাক্ষাৎকার নেন।
স্থানীয় একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পুরো প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করে।

আইআরআই নিয়মিতভাবে বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও জনমতের ওপর জরিপ পরিচালনা করে থাকে। তাদের সর্বশেষ এই জরিপ আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বিশ্লেষক, গবেষক এবং রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য তাৎপর্যপূর্ণ একটি দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে জরিপের গুরুত্ব

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিএনপি ও জামায়াতের ভোটব্যবধান কম হওয়ায় মাঠপর্যায়ে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা দেখা যেতে পারে। আবার ড. ইউনূসের প্রতি উচ্চ সন্তুষ্টি সরকার প্রশাসনে জনগণের আস্থার ইঙ্গিত দেয়।
এটি ভোটার আচরণ, জোটগঠন ও নির্বাচনী প্রচারণায় প্রভাব ফেলতে পারে।

আইআরআইয়ের এই জরিপ বাংলাদেশের নির্বাচনী পরিবেশ ও জনমতের একটি বাস্তবচিত্র তুলে ধরেছে। বিএনপি ও জামায়াতের জনপ্রিয়তা কাছাকাছি হওয়ায় নির্বাচনী ফলাফল অনেকাংশেই নির্ভর করবে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভোটার অংশগ্রহণের ওপর।
অপরদিকে, ড. ইউনূস ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা রাজনৈতিক প্রক্রিয়া স্থিতিশীল রাখার ইঙ্গিত দেয়।

আরো পড়ুন

জুলাই বিপ্লবের বীরদের জন্য আসছে ঐতিহাসিক ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’!

ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত দ্বিতীয় স্বাধীনতার কারিগরদের জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে এসেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বীর যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা দিতে সরকার একটি বিশেষ ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’ (Indemnity Ordinance) প্রণয়ন করতে যাচ্ছে।

রাজধানীতে ‘জুলাই বীর সম্মাননা’: ১২০০ যোদ্ধা ও সাংবাদিককে বিশেষ স্মারক প্রদান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা এবং আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য 'জুলাই বীর সম্মাননা' অনুষ্ঠান। আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলনের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ঐতিহাসিক ফেলানী হত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং সাহসী সাংবাদিকদের বিশেষ সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ড. ইউনূসের ডাক: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার আহ্বান

একটি বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশবাসীকে ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্তের অংশ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ ইউনূস। আগামী জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি সম্ভাব্য গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। ড. ইউনূসের মতে, এটি কেবল একটি ভোট নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রাষ্ট্র সংস্কারের এক বড় সুযোগ।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ