বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত আবাসভূমি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশ এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, “যুবকদের হাতে বেকার ভাতা নয়, আমরা তাদের কাজ দিতে চাই। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পেশাগতভাবে দক্ষ করে গড়ে তুলতে চাই।”
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নওগাঁর ঐতিহাসিক এ. টিম মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘এখানে যুবকদের ছাড়া কাউকে দেখছি না’
জনসভায় উপস্থিত তরুণদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
“এখানে তো যুবকদের বাইরে কাউকে দেখছি না। আপনাদের সঙ্গে আমিও একজন যুবক।”
তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণে যুবকরাই সবচেয়ে বড় শক্তি।
চাঁদাবাজ ও মামলাবাজদের জনগণই প্রত্যাখ্যান করবে
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভোটের দিন জনগণই চাঁদাবাজ ও মামলাবাজদের পরাজিত করবে।
তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামী শিক্ষিত জাতি গঠন এবং নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
আইডি হ্যাকিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“যারা পরিবারতান্ত্রিক সরকার চায়, তারাই এসব অপকর্ম করছে।”
রাষ্ট্র নেবে শিশুদের শিক্ষার দায়িত্ব
জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে শিক্ষাক্ষেত্রে মৌলিক পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দেন দলটির আমির।
তিনি বলেন,
“দেশের প্রতিটি শিশুর শিক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে। মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ সরকারি খরচে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে।”
পর্যটনশিল্প ধ্বংসের মুখে: পাহাড়পুরসহ ঐতিহ্য রক্ষার অঙ্গীকার
নওগাঁর ঐতিহ্যবাহী পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, কুসুম্বা মসজিদ ও দুপলাহাটি রাজবাড়ির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,
অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে দেশের পর্যটনশিল্প আজ ধ্বংসের মুখে।
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এসব প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাকে বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যা—
- জাতীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে
- হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে
‘মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি’
বিগত সরকারগুলোর কঠোর সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
“মেগা প্রকল্পের নামে দেশে মেগা দুর্নীতি হয়েছে।”
তার দাবি, ব্যাংক, বিমা ও শেয়ারবাজার লুট করে প্রায় ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
তিনি বলেন,
“এই টাকার মালিক জনগণ। যারা জনগণের টাকা লুট করেছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
চাঁদাবাজ ও অর্থপাচারকারীদের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন,
“চাঁদাবাজ ও পেইন ডাকাতদের সঙ্গে জামায়াতের কোনো আপস নেই।”
নারীর নিরাপত্তা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা
নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন,
“মায়ের অপমান এ জাতি সহ্য করবে না।”
তিনি ঘর থেকে শুরু করে কর্মস্থল পর্যন্ত সব জায়গায় নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন,
“বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা সাঁওতাল বলে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। সবাই নাগরিক হিসেবে সমান অধিকার ভোগ করবে।”





