ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত দ্বিতীয় স্বাধীনতার কারিগরদের জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে এসেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বীর যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা দিতে সরকার একটি বিশেষ ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’ (Indemnity Ordinance) প্রণয়ন করতে যাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা এই বীরদের সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব।
খসড়া তৈরি: যা থাকছে এই ঐতিহাসিক অধ্যাদেশে
জুলাই বিপ্লবের সময় শেখ হাসিনা সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সাধারণ ছাত্র ও জনগণ যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আইন উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী:
- আইনি সুরক্ষা: গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য কোনো আন্দোলনকারীকে আইনি হয়রানির শিকার হতে হবে না।
- সংবিধানের সমর্থন: বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ ধরনের দায়মুক্তি আইন সম্পূর্ণ বৈধ।
- ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত: ১৯৭৩ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধাদের সুরক্ষায় যেভাবে দায়মুক্তি আইন করা হয়েছিল, ঠিক সেই আদলেই জুলাই যোদ্ধাদের জন্য এই আইন হচ্ছে।
- আন্তর্জাতিক নজির: আরব বসন্তসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণধিকৃত সরকার পতনের পর বিপ্লবীদের সুরক্ষায় এমন আইন প্রণয়নের নজির রয়েছে।
কেন এই আইন জরুরি?
ড. আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে বলেছেন, “জুলাই যোদ্ধারা জীবনবাজি রেখে দেশকে মুক্ত করেছে। জুলাই-কে নিরাপদ রাখা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।” আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রতিহিংসামূলক মামলা বা আইনি জটিলতা যাতে ভবিষ্যতে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেজন্যই এই শক্তিশালী সুরক্ষা কবচ তৈরি করছে মন্ত্রণালয়।
“ইনশাল্লাহ্ আগামী উপদেষ্টামণ্ডলীর বৈঠকে এটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।” — ড. আসিফ নজরুল, আইন উপদেষ্টা।
জুলাই বিপ্লবের বীরদের সম্মান ও সুরক্ষা
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এটিই প্রমাণ করল যে, ছাত্র-জনতার ত্যাগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে রাষ্ট্র। খুব শীঘ্রই এই খসড়াটি অধ্যাদেশ আকারে জারি হলে জুলাই বিপ্লবের বীর সেনানীরা আইনিভাবে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুরক্ষিত থাকবেন।
এটি কেবল একটি আইন নয়, বরং এটি বীরদের প্রতি জাতির কৃতজ্ঞতার এক অনন্য নিদর্শন!