চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বল দখল, আক্রমণ, শট—সবদিক থেকেই এগিয়ে ছিল ম্যানচেস্টার সিটি। কিন্তু ম্যাচে ফুটবল দাপট দেখানো মানেই যে জয়ের নিশ্চয়তা নয়, তারই প্রমাণ রেখে গেল বায়ার লেভারকুজেন। নিখুঁত দুই ফিনিশিংয়ে প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে তিন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে নিয়েছে জার্মান শক্তিশালী ক্লাবটি।
ম্যাচের সারসংক্ষেপ
স্টেডিয়াম: ইতিহাদ
স্কোরলাইন: ম্যানচেস্টার সিটি ০-২ লেভারকুজেন
গোলদাতা:
- আলেহান্দ্রেও গ্রিমালদেও (২৩’)
- পাত্রিক শিক (৫৪’)
সিটির আক্রমণ যতই ধারালো হোক, লেভারকুজেনের জমাট রক্ষণই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়।
বল দখলে এগিয়ে ছিল ম্যানচেস্টার সিটি
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে একচ্ছত্র প্রভাব ছিল গুয়ার্দিওলার দলের।
- দখলে সিটির আধিপত্য
- আক্রমণেও সংখ্যায় এগিয়ে
- শট নিয়েছে বেশি
কিন্তু ফুটবলে ফল দেয় দক্ষ ফিনিশিং ও রক্ষণভাগের স্থিতি—যা লেভারকুজেন অসাধারণভাবে দেখিয়েছে।
গুয়ার্দিওলার রোটেশনের প্রভাব
ব্যস্ত সূচির কথা বিবেচনায় রেখে তারকা খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়েছিলেন কোচ পেপ গুয়ার্দিওলা। বেঞ্চে ছিলেন-
- আর্লিং হালান্ড
- ফিল ফোডেন
- জেমেরি ডোকু
- দোন্নারুম্মা
দ্বিতীয়ার্ধে একে একে সবাইকে নামালেও ম্যাচে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারেননি তারা।
প্রথমার্ধ: লেভারকুজেনের চমক
ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই গোলের সুযোগ পেয়েছিল সিটি। নাথান আকের শট দারুণ সেভ করেন লেভারকুজেন গোলরক্ষক।
২৩তম মিনিটে প্রথম সুযোগেই গোল করে এগিয়ে যায় লেভারকুজেন।
মালিক টিলমানের ক্রসে সৃষ্ট গোলমাল থেকে গ্রিমালদেও ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁ পায়ে দুর্দান্ত শটে গোল করেন। সিটির গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না।
প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন রেইন্ডার্স।
দ্বিতীয়ার্ধ: শিকের দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ
দ্বিতীয়ার্ধে তিন পরিবর্তন এনে গতি বাড়ায় স্বাগতিকরা। কিন্তু ৫৪তম মিনিটেই বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় লেভারকুজেনের পাল্টা আক্রমণ।
ইব্রাহিম মাজার নিখুঁত ক্রস থেকে পাত্রিক শিক অসাধারণ হেডে গোল করেন। আকেও বাধা দিতে পারলেন না।
এরপর আক্রমণ বাড়ায় সিটি। হলান্ড, ফোডেন, শের্কির শট তৈরি করে কিছু উত্তেজনা, কিন্তু লেভারকুজেনের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারল না স্বাগতিকরা।
লেভারকুজেনের রক্ষণভাগ-জয়ের প্রকৃত স্থপতি
পুরো ম্যাচে লেভারকুজেনের রক্ষণ যেমন ছিল-
- শৃঙ্খলাবদ্ধ
- গুছানো
- কৌশলগতভাবে শক্ত
- বক্সে প্রতিটি আক্রমণে দ্রুত প্রতিরোধ
শেষ মুহূর্তে শের্কির একটি বিপজ্জনক ফ্রি-কিকও সেভ করে দলকে রক্ষা করেন লেভারকুজেন গোলরক্ষক।
পয়েন্ট টেবিলের পরিস্থিতি
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথম হার সিটির অবস্থানকে কিছুটা নড়বড়ে করেছে।
- সিটি: ৫ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট, আপাতত ৬ নম্বরে
- লেভারকুজেন: ৮ পয়েন্ট নিয়ে উঠে এসেছে ১৩তম স্থানে
এদিকে ৪ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট পাওয়া বায়ার্ন, আর্সেনাল ও ইন্টার শীর্ষ তিনে রয়েছে।
ম্যাচের শিক্ষা
- বল দখলে এগিয়ে থাকলেই ম্যাচ জেতা যায় না
- দ্বিতীয়ার্ধে রোটেশন ব্রেক-থ্রু আনতে ব্যর্থ
- লেভারকুজেনের ট্যাকটিকস ছিল নিখুঁত
- আক্রমণে বেশি শট নিলেও সিটি ফিনিশিংয়ে ব্যর্থ
লেভারকুজেন বনাম ম্যানচেস্টার সিটি ম্যাচটি দেখিয়ে দিল—ফুটবলে পরিসংখ্যান নয়, বরং কার্যকর আক্রমণ ও দৃঢ় রক্ষণই জয় এনে দেয়। সিটি আক্রমণে আধিপত্য দেখালেও লেভারকুজেনের সিদ্ধান্তমূলক দুই আঘাতেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে।