দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আইনি লড়াইয়ে স্বস্তির জয় পেলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই আলিশান চৌধুরী। হুমকি ও ভয় দেখানোর অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলা থেকে আদালত তাদের সম্পূর্ণ অব্যাহতি দিয়েছেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আদনান জুলফিকার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
আদালতে জবাব, মিলল ন্যায়ের স্বীকৃতি
আজ ছিল মামলার বিষয়ে মেহজাবীন ও আলিশানের লিখিত জবাব দাখিলের নির্ধারিত দিন। তাদের পক্ষে আদালতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী তুহিন হাওলাদার।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, অভিযোগের পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নেই এবং মামলাটি ছিল ভিত্তিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ। ফলে মামলাটি খারিজ করে আসামিদের অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
“অভিযোগ ছিল মনগড়া ও অসংলগ্ন” – আইনজীবী
শুনানি শেষে আইনজীবী তুহিন হাওলাদার গণমাধ্যমকে বলেন,
“বাদীর দায়ের করা মামলার বক্তব্যে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। পুরো অভিযোগটি ছিল সাজানো ও মনগড়া।”
তিনি আরও জানান, মামলার আবেদনপত্রেই একাধিক গুরুতর অসঙ্গতি ছিল-
- বাদীর ঠিকানায় থানা হিসেবে উল্লেখ করা হয় “ফেনী সদর”, অথচ জেলা দেখানো হয় ঢাকা, যা বাস্তবে অস্তিত্বহীন
- দেওয়া মোবাইল নম্বর ছিল ১২ সংখ্যার, যা কার্যকর নয়
- সাক্ষীর পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা উল্লেখ করা হয়নি
- বিবাদীদের ঠিকানাও ছিল অস্পষ্ট
আইনজীবীর ভাষায়,
“এসব ত্রুটির কারণে মামলাটির বিশ্বাসযোগ্যতা শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।”
“পরিচয়ই নেই, হুমকির প্রশ্নও ওঠে না”
আইনজীবী আরও বলেন,
“বাদী মেহজাবীন চৌধুরীকে চেনেন না, কোনো দিন দেখাও হয়নি, কোনো ধরনের যোগাযোগ বা পরিচয় নেই। সেখানে হুমকি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”
শুনানিতে বাদীপক্ষ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ বা যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয় বলেও আদালতকে জানানো হয়।
মানসিক স্বস্তি ও নতুন করে পথচলা
আদালতের এই রায়ের ফলে আইনি ঝামেলা থেকে মুক্ত হলেন মেহজাবীন ও তার ভাই। বিনোদন অঙ্গনের অনেকেই এটিকে একজন শিল্পীর জন্য বড় মানসিক স্বস্তি হিসেবে দেখছেন।
দীর্ঘদিন ধরে নাটক ও বিজ্ঞাপনে জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী বরাবরই নিজের পেশাদারিত্ব ও ব্যক্তিগত শালীনতার জন্য পরিচিত। ভক্তদের বিশ্বাস, এই রায়ের মাধ্যমে তিনি আবারও পুরো মনোযোগ দিতে পারবেন তার অভিনয় ও সৃজনশীল কাজে।
ন্যায়বিচারের জয়, আস্থার বার্তা
এই রায় শুধু একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত স্বস্তির খবর নয়, বরং সমাজের জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা—
মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে সত্য শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে।
আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মেহজাবীনের ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই তাকে অভিনন্দন জানিয়ে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।
সুত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন




