১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস- জাতির গৌরবময় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন। এই বিশেষ দিনে সাতক্ষীরা অঞ্চলে এক অনন্য ও কল্যাণময় উদ্যোগের সাক্ষী হয়েছেন ধর্মপ্রাণ মানুষজন। সাতক্ষীরা দারুল উলুম মাদ্রাসার উদ্যোগে আয়োজন করা হয় বার্ষিক কুরআন প্রতিযোগিতা, যা বিজয় দিবসের তাৎপর্যকে কুরআনের আলোয় আরও মহিমান্বিত করে তোলে।
সাতক্ষীরা দারুল উলুম মাদ্রাসা- জ্ঞান ও চরিত্র গঠনের বাতিঘর
সাতক্ষীরা দারুল উলুম মাদ্রাসা কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক আদর্শ মানুষ গড়ার এক নিরলস সাধনার কেন্দ্র। দীর্ঘদিন ধরে এই মাদ্রাসা পবিত্র কুরআনের শিক্ষা ছড়িয়ে দিয়ে সাতক্ষীরা জেলার ধর্মীয় ও নৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
এই কুরআন প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শিশু-কিশোর ও তরুণ হাফেজ এবং কারীরা অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের সুশৃঙ্খল তেলাওয়াত, সঠিক তাজবীদ ও কণ্ঠের মাধুর্য উপস্থিত সকলকে গভীরভাবে মুগ্ধ করে।
প্রধান বিচারকের দায়িত্বে হাফেজ মাওলানা মাহফুজ সাহেব
কুরআনের খেদমতে নিবেদিত এক অনন্য ব্যক্তিত্ব
এই পবিত্র কুরআন প্রতিযোগিতার প্রধান আকর্ষণ ছিলেন দেশের খ্যাতনামা ইসলামী চিন্তাবিদ ও হাফেজে কুরআন, হাফেজ মাওলানা মাহফুজ সাহেব। তিনি প্রধান বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন।
তাজবীদ, মাখরাজ ও তারতিল বিষয়ে তাঁর গভীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা প্রতিযোগিতার মানকে আরও উচ্চতর করেছে। তাঁর বিচক্ষণ মূল্যায়ন ও আন্তরিক দিকনির্দেশনা প্রতিযোগিতার পবিত্রতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করে।
তরুণ হাফেজদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস
হাফেজ মাওলানা মাহফুজ সাহেব শুধু একজন বিচারক নন; তিনি তরুণ প্রজন্মের জন্য এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা। তাঁর উপস্থিতি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও কুরআনের প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর করেছে।
অনেক শিক্ষার্থী তাঁর কাছ থেকে সরাসরি নসিহত ও উৎসাহব্যঞ্জক দিকনির্দেশনা পাওয়াকে জীবনের বড় সৌভাগ্য হিসেবে দেখেন।
আধুনিকতা ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে মাদ্রাসার লক্ষ্য
সাতক্ষীরা দারুল উলুম মাদ্রাসার লক্ষ্য হলো-
- কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক বিশুদ্ধ শিক্ষা প্রদান
- শিক্ষার্থীদের নৈতিক চরিত্র গঠন
- ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক চিন্তাধারার সমন্বয়
এই কুরআন প্রতিযোগিতার সফল আয়োজন প্রমাণ করে, প্রতিষ্ঠানটি কেবল পাঠদানে সীমাবদ্ধ নয়; বরং কুরআনের আলোয় সমাজ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।
হাফেজ মাওলানা মাহফুজ সাহেবের মূল্যবান বার্তা
প্রতিযোগিতা শেষে হাফেজ মাওলানা মাহফুজ সাহেবের বার্তাটি ছিল মূলত-
কুরআন হেফয করা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন, তবে কুরআনের শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করাই আসল সফলতা। তরুণ প্রজন্মই কুরআনের ভবিষ্যৎ বাহক।
তাঁর এই বার্তা উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলে।
কুরআনের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়
এই কুরআন প্রতিযোগিতা শুধুমাত্র একটি বার্ষিক অনুষ্ঠান নয়; এটি কুরআনের প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আয়োজকদের বিশ্বাস, ভবিষ্যতেও সাতক্ষীরা দারুল উলুম মাদ্রাসা কুরআনের এই খেদমত অব্যাহত রাখবে।