সূরা আদ দুহার পরিচিতি
সূরার সংক্ষিপ্ত পরিচয়
- এটি পবিত্র কুরআনের ৯৩তম সূরা।
- ‘আদ-দুহা’ শব্দের অর্থ “পূর্বাহ্ন বা সকালের উজ্জ্বল আলো” বা “দিনের আলো”।
- আল্লাহ তা’আলা তাঁর রাসূল মুহাম্মদ (সা.)-কে সান্ত্বনা দিতে এবং আশ্বস্ত করতে এই সূরাটি নাযিল করেছেন।
আয়াত সংখ্যা ও নাজিলের স্থান
- এই সূরাটিতে ১১টি আয়াত রয়েছে।
- এটি মক্কায় নাযিল হওয়া একটি সূরা (মাক্কী সূরা)। এটি নবুওয়াতের প্রাথমিক পর্যায়ে নাযিল হয়।
বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব
- এই সূরাটি রাসূল (সা.)-এর প্রতি আল্লাহর অপরিসীম স্নেহ, অনুগ্রহ এবং ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
- এতে নবীজির জীবনের কঠিন সময়ের প্রশান্তি এবং ভবিষ্যৎ সাফল্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
- এটি হতাশাগ্রস্ত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষের জন্য আশা ও নির্ভরতার এক মহান বার্তা বহন করে।
সূরা আদ দুহার নাজিল হওয়ার কারণ (শানে নুযুল)
কোরআনে নাযিল হওয়ার পরিস্থিতি
- হাদীস ও তাফসীর গ্রন্থ অনুযায়ী, একসময় রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর উপর ওয়াহী (ঐশী বাণী) নাযিল হওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। এই সময়কালটি কারো কারো মতে কয়েকদিন, আবার কারো মতে কয়েক মাস দীর্ঘ ছিল।
মুহাম্মদ (সা.) এবং মক্কার পরিস্থিতি
- ওয়াহী বন্ধ থাকায় রাসূল (সা.) খুব দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও বিষণ্ণ হয়ে পড়েন।
- এ সুযোগে মক্কার মুশরিকরা, বিশেষ করে রাসূলের বিরোধীরা, বলতে শুরু করে যে, “মুহাম্মদের রব (আল্লাহ) তাকে ত্যাগ করেছেন বা তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন।”
- এই পরিস্থিতিতে রাসূল (সা.)-কে সান্ত্বনা ও আশ্বস্ত করার জন্য এই সূরাটি নাযিল হয়।
মানুষের প্রতি সতর্কবার্তা
- এই সূরাটি আল্লাহ্র পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে যে তিনি তাঁর নবীকে কখনোই ত্যাগ করেননি এবং অসন্তুষ্টও হননি।
- এটি বিরোধীদের মিথ্যা অভিযোগের শক্তিশালী জবাব দিয়েছে।
- ওয়াহী বন্ধ থাকা আল্লাহ্র এক পরীক্ষা এবং এর পরেই মহত্তর কল্যাণ অপেক্ষা করছিল, এই বার্তাই দেওয়া হয়েছে।
সূরা আদ দুহার আরবি ও বাংলা উচ্চারণ
আরবি
| আয়াত | আরবি টেক্সট |
| ১ | وَ الضُّحٰی ۙ﴿۱ |
| ২ | وَ الَّیۡلِ اِذَا سَجٰی ۙ﴿۲ |
| ৩ | مَا وَدَّعَكَ رَبُّكَ وَ مَا قَلٰی ؕ﴿۳ |
| ৪ | وَ لَلۡاٰخِرَۃُ خَیۡرٌ لَّكَ مِنَ الۡاُوۡلٰی ؕ﴿۴ |
| ৫ | وَ لَسَوۡفَ یُعۡطِیۡكَ رَبُّكَ فَتَرۡضٰی ؕ﴿۵ |
| ৬ | اَلَمۡ یَجِدۡكَ یَتِیۡمًا فَاٰوٰی ۪﴿۶ |
| ৭ | وَ وَجَدَكَ ضَآلًّا فَهَدٰی ۪﴿۷ |
| ৮ | وَ وَجَدَكَ عَآئِلًا فَاَغۡنٰی ؕ﴿۸ |
| ৯ | فَاَمَّا الۡیَتِیۡمَ فَلَا تَقۡهَرۡ ؕ﴿۹ |
| ১০ | وَ اَمَّا السَّآئِلَ فَلَا تَنۡهَرۡ ﴿ؕ۱۰ |
| ১১ | وَ اَمَّا بِنِعۡمَۃِ رَبِّكَ فَحَدِّثۡ ﴿۱۱ |
সূরা আদ দুহার বাংলা উচ্চারণ
বাংলা উচ্চারণ শুধুমাত্র বোঝার সুবিধার জন্য। সঠিক তেলাওয়াতের জন্য আরবি শুদ্ধ উচ্চারণ জানা জরুরি; ভুল উচ্চারণ অর্থ পরিবর্তন করতে পারে।
প্রতিটি আয়াতের উচ্চারণ লাইনে লাইনে
১. ওয়াদ্-দু-হা-
২. ওয়াল্-লাইলি ই-যা- সা-জা-
৩. মা- ওয়াদ্দা‘আকা রাব্বুকা ওয়ামা- ক্বালা-
৪. ওয়ালাল্ আ-খিরাতু খাইরুল্ লাকা মিনাল্ ঊলা-
৫. ওয়ালা-সাওফা ইয়ু‘তী-কা রাব্বুকা ফাতারদ্বা-
৬. আলাম্ ইয়াজিদকা ইয়াতী-মান ফাআ-ওয়া-
৭. ওয়াওয়াজাদাকা দ্বোয়া-ল্লান ফাহাদা-
৮. ওয়াওয়াজাদাকা ‘আ-ইলান ফাআগনা-
৯. ফাআম্মাল ইয়াতী-মা ফালা- তাক্বহার্
১০. ওয়াআম্মাস্ সা-য়িলা ফালা- তান্হার্
১১. ওয়াআম্মা- বিনি‘মাতি রাব্বিকা ফাহাদ্দিছ্
সহজে মুখস্থ করার জন্য টিপস
- ছোট ছোট বাক্য বা আয়াতগুলো বারবার আবৃত্তি করা।
- প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে অল্প অল্প করে মুখস্থ করার অভ্যাস করা।
- উচ্চারণের ক্ষেত্রে আরবি মাখরাজ (ধ্বনি-উচ্চারণের স্থান) ঠিক করার জন্য একজন ক্বারীর তিলাওয়াত শোনা।
- প্রথম দিকের ছোট আয়াতগুলো আগে মুখস্থ করা।
সূরা আদ দুহার বাংলা অর্থ
প্রতিটি আয়াতের সহজ ও পাঠযোগ্য অর্থ
১. শপথ পূর্বাহ্নের!
২. এবং শপথ রাতের, যখন তা নিঝুম হয়!
৩. আপনার রব আপনাকে কখনোই ছেড়ে দেননি এবং আপনার প্রতি তিনি অসন্তুষ্টও হননি।
৪. আর নিশ্চয়ই আপনার জন্য পরবর্তী জীবন (আখিরাত), পূর্ববর্তী জীবন (দুনিয়া) অপেক্ষা উত্তম।
৫. আর শীঘ্রই আপনার রব আপনাকে এমন কিছু দেবেন যাতে আপনি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন।
৬. তিনি কি আপনাকে এতীম হিসেবে পাননি? অতঃপর আপনাকে আশ্রয় দিয়েছেন।
৭. আর তিনি আপনাকে পথভোলা অবস্থায় পেলেন? অতঃপর পথের সন্ধান দিলেন।
৮. তিনি কি আপনাকে ইয়াতীম অবস্থায় পান নাই? অতঃপর তিনি আশ্রয় দিয়েছেন।
৯. অতএব, আপনি এতীমের প্রতি কঠোর হবেন না।
১০. আর সাহায্যপ্রার্থীকে ধমক দেবেন না।
১১. আর আপনার রবের অনুগ্রহ আপনি প্রকাশ করুন।
মূল বক্তব্যের ব্যাখ্যা
- আল্লাহ পূর্বাহ্নের আলো ও রাতের নীরবতার কসম খেয়ে তাঁর নবীকে অভয় দিয়েছেন।
- রাসূল (সা.)-এর অতীতের কঠিন সময়ে আল্লাহর সাহায্য স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে (এতীম অবস্থায় আশ্রয়, পথভোলা অবস্থায় সঠিক পথপ্রদর্শন, দারিদ্র্যে সচ্ছলতা)।
- এই স্মরণের মাধ্যমে রাসূল (সা.)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তিনি এই অনুগ্রহের প্রতিদানস্বরূপ সমাজের দুর্বলদের প্রতি (এতীম ও সাহায্যপ্রার্থী) সদয় হন এবং আল্লাহর নেয়ামত প্রকাশ করেন।
প্রতিটি আয়াতের তাফসীর
আল্লাহর অনুগ্রহ ও শাস্তি
- (আয়াত ১-৫): এই অংশটি মূলত আল্লাহ্র আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতির। ওয়াহীর সাময়িক বিরতির পর আল্লাহ কসম খেয়ে বলছেন যে তিনি নবীকে ত্যাগ করেননি। আর দুনিয়ার কষ্টের পর আখিরাতে উত্তম পুরস্কার এবং এমন কিছু দেওয়া হবে, যাতে নবী (সা.) পুরোপুরি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন (যেমন: শাফা’আত)। এখানে আল্লাহ্র সীমাহীন অনুগ্রহ ও করুণা প্রকাশিত।
মানুষের নৈতিক শিক্ষা
- (আয়াত ৬-৮): আল্লাহ্র এই তিনটি অনুগ্রহের উল্লেখের মাধ্যমে আল্লাহ্র অতীত সাহায্যের স্মৃতিচারণ করা হয়েছে। এটি কেবল রাসূলের ক্ষেত্রেই নয়, বরং সব মানুষের প্রতিই এক শিক্ষা: আল্লাহ অতীত কঠিন সময়ে যেমন সাহায্য করেছেন, ভবিষ্যতেও করবেন, তাই ধৈর্যশীল হওয়া উচিত।
সমাজে সতর্কবার্তা
- (আয়াত ৯-১০): পূর্বের অনুগ্রহের কথা মনে করিয়ে দিয়ে আল্লাহ্ নবীকে এবং তাঁর উম্মতকে সমাজের দুর্বলতম দুটি শ্রেণীর প্রতি আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন:
- এতীম (অনাথ): তাদের প্রতি কঠোরতা (তাক্বহার্) করা যাবে না, বরং তাদের অধিকার রক্ষা করতে হবে।
- সায়িল (সাহায্যপ্রার্থী/জিজ্ঞাসু): তাদেরকে ধমক বা তিরস্কার করা যাবে না, বরং বিনম্রতার সাথে জবাব দিতে হবে। এই দুটি নির্দেশ সামাজিক ন্যায় ও মানবিকতার ভিত্তি।
দোয়ার গুরুত্ব
- (আয়াত ১১): এই আয়াতের তাফসীর হলো, আল্লাহ প্রদত্ত সব ধরনের নেয়ামত (নেক আমল, সম্পদ, জ্ঞান, শারীরিক সুস্থতা, ইসলামের দাওয়াত) প্রকাশ করতে হবে। এর মানে এই নয় যে গর্ব করা, বরং এটি আল্লাহ্র কৃতজ্ঞতা (শুকরিয়া) প্রকাশের একটি উপায় এবং মানুষকে আল্লাহ্র পথে ডাকার একটি মাধ্যম।
সূরা আদ দুহার থেকে শেখার মূল শিক্ষা
আল্লাহর রহমতের প্রতি বিশ্বাস
- কঠিনতম পরিস্থিতিতেও আল্লাহর অনুগ্রহ ও সাহায্যের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখা। ওয়াহী বন্ধ থাকাকালীন নবী (সা.) যেমন পরীক্ষায় পড়েছিলেন, তেমনি হতাশা বা দুশ্চিন্তার সময়ও আল্লাহর ওয়াদা স্মরণ করা।
- “আপনার রব আপনাকে কখনোই ছেড়ে দেননি” – এই বার্তাটি সর্বকালের মুমিনের জন্য একটি অভয়বাণী।
সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকা
- আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতগুলোর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং সামাজিক ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করা।
- এতীম ও অসহায়দের প্রতি দয়াবান হওয়া এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করা।
অহংকার ও দুনিয়ার সম্পদের ক্ষুদ্রতা
- আল্লাহ্র অনুগ্রহ যে চিরস্থায়ী এবং দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী প্রাপ্তি বা অভাব যে মূল বিবেচ্য নয়, তা অনুধাবন করা। আখিরাতের কল্যাণ দুনিয়ার সবকিছুর চেয়ে উত্তম।
- নিজের অতীতের দুর্বল অবস্থা স্মরণ করে অহংকার পরিহার করা।
ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার শিক্ষা
- জীবনে উত্থান-পতন আসবেই, কিন্তু আল্লাহ্র প্রতি আস্থা রেখে ধৈর্য ধরে থাকা। ওয়াহীর বিরতি যেমন সাময়িক ছিল, তেমনি মানুষের কষ্টও সাময়িক। এরপরই উত্তম প্রতিদান রয়েছে।
সূরা আদ দুহার ফজিলত
ইবাদতের সময়ে পাঠের গুরুত্ব
- এই সূরাটি পাঠ করা আল্লাহর স্নেহ ও করুণার বার্তা হৃদয়ে ধারণ করতে সাহায্য করে।
- দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ বা হতাশার সময় এটি পাঠ করলে মানসিক শান্তি ও প্রশান্তি লাভ করা যায়।
সওয়াব অর্জনের উপায়
- কুরআনের প্রতিটি অক্ষর পাঠে সওয়াব রয়েছে। সূরা আদ-দুহা পাঠ করলে সেই সওয়াব অর্জন হয়।
- সালাতে (নামাজে) এই সূরাটি পাঠ করা করে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে পারেন।
দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ
- দৈনন্দিন জীবনে যখনই কেউ কঠিন সময়ের মুখোমুখি হন, তখন এই সূরাটির অর্থ স্মরণ করলে আশা ও প্রেরণা পাওয়া যায়।
- এতীম এবং সাহায্যপ্রার্থী মানুষের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করার জন্য এটি একটি সার্বক্ষণিক অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
- আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় এবং তার প্রকাশ করার অভ্যাস তৈরি হয়।
শিশু ও নবীনদের জন্য সূরা আদ দুহার শেখার টিপস
সহজ উচ্চারণ ও মনে রাখার কৌশল
- ছোট ছোট অংশে ভেঙে ধীরে ধীরে ও স্পষ্ট করে উচ্চারণ শেখানো।
- একটি ছন্দময় সুরে বা সহজ গানে সুর করে শেখালে তারা দ্রুত মনে রাখতে পারে।
- উচ্চারণ সহজ করার জন্য আয়াতের বাংলা উচ্চারণ বারবার পুনরাবৃত্তি করানো।
শিক্ষণীয় ভিডিও ও অ্যাপ ব্যবহার
- শিক্ষা মুলক ভিডিওর মাধ্যমে এই সূরার অর্থ ও ঘটনা (শানে নুযুল) উপস্থাপন করা।
- শিশুদের জন্য তৈরি ইসলামিক শিক্ষামূলক অ্যাপ ব্যবহার করা যাতে অডিও-ভিজ্যুয়াল সহায়ক থাকে।
পারিবারিক শিক্ষা ও দোয়া শেখানো
- দৈনন্দিন কথোপকথনে সূরার নৈতিক শিক্ষাগুলো (এতীমকে ভালোবাসো, কৃতজ্ঞ হও) আলোচনা করা।
- নামাজে এই সূরাটি পাঠ করে তাদেরকে উৎসাহিত করা এবং সূরাটির অর্থ তাদের সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দেওয়া।
শেষকথা
সূরা আদ দুহা মুসলমানদের জন্য নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা
- সূরা আদ দুহা হলো আশা, সান্ত্বনা এবং আল্লাহর প্রতি নির্ভরতার এক অসামান্য বার্তা। এটি প্রতিটি মুসলমানকে শেখায় যে কঠিন পরিস্থিতিতেও আল্লাহর সাহায্য সন্নিকটে।
নিয়মিত পাঠ ও অনুশীলন জীবনধারায় সহায়ক
- এই সূরাটি নিয়মিত পাঠ ও এর অর্থ অনুধাবন ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে সহায়তা করে।
সতর্কতা, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস বৃদ্ধি
- এটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং আখিরাতের সাফল্যই আসল লক্ষ্য। একই সাথে, সামাজিক দায়িত্ববোধকে (এতীম ও সাহায্যপ্রার্থীর অধিকার) অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সূরা আদ দুহার সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্নোত্তর
১. সূরা আদ দুহার কোন সূরা এবং কতটি আয়াত আছে?
উত্তর: এটি পবিত্র কুরআনের ৯৩তম সূরা এবং এতে ১১টি আয়াত রয়েছে।
২. সূরাটি মক্কায় নাজিল হয়েছে নাকি মদিনায়?
উত্তর: এটি একটি মাক্কী সূরা, অর্থাৎ মক্কায় নাযিল হয়েছে।
৩. সূরা আদ দুহার বাংলা উচ্চারণ কি?
উত্তর: প্রথম আয়াতটির উচ্চারণ হলো: “ওয়াদ্-দু-হা-“। সম্পূর্ণ সূরার উচ্চারণ ওপরের অংশে (সূরা আদ দুহার বাংলা উচ্চারণ) দেওয়া আছে।
৪. সূরা আদ দুহার পড়ার উপকারিতা কী?
উত্তর: এর প্রধান উপকারিতা হলো মানসিক প্রশান্তি, হতাশা দূরীকরণ, আল্লাহর অনুগ্রহের স্মরণ এবং সামাজিক দায়িত্ব (এতীম ও সাহায্যপ্রার্থীর প্রতি সদয় হওয়া) পালনের অনুপ্রেরণা।
৫. সূরার মূল শিক্ষা কী?
উত্তর: সূরার মূল শিক্ষা হলো: আল্লাহ তাঁর বান্দাকে কখনোই ত্যাগ করেন না, আখিরাতের জীবন দুনিয়া অপেক্ষা উত্তম, এবং আল্লাহর নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও সমাজের দুর্বলদের প্রতি সদয় হওয়া।