একটি বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশবাসীকে ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্তের অংশ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ ইউনূস। আগামী জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি সম্ভাব্য গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। ড. ইউনূসের মতে, এটি কেবল একটি ভোট নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রাষ্ট্র সংস্কারের এক বড় সুযোগ।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সরকার গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, এবং আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্রিফ করেছেন।
জুলাই সনদকে আইনি বৈধতা দেওয়ার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটে জামায়াতে ইসলামীসহ আট রাজনৈতিক দল সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবে- এ তথ্য জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
ঢাকা, বৃহস্পতিবার: ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, দেশে আর কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদ ও আগুন সন্ত্রাসের রাজনীতি চলতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ মানুষের পর্যায়ে পড়ে না, তারা পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট। তারা সারাদেশে আগুন সন্ত্রাস চালিয়ে নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে।”
ঢাকা, বৃহস্পতিবার – জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেছেন যে আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন হবে উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু, এবং এর প্রস্তুতিও ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে।
গণভোট হলো একটি বিশেষ নির্বাচন প্রক্রিয়া যেখানে জনগণ সরাসরি কোনো প্রস্তাব, আইন, সংবিধান বা নীতি বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে মত প্রকাশ করে। এটি সাধারণ নির্বাচন থেকে আলাদা, কারণ এখানে কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল নয়, বরং নির্দিষ্ট প্রস্তাব বা নীতি থাকে ভোটের বিষয়।