মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬

তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের ৩২তম বিবাহবার্ষিকী আজ

বহুল পঠিত

আজ ৩ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার। বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমাজজীবনে পরিচিত এক অনন্য দম্পতি- বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমানের ৩২তম বিবাহবার্ষিকী। ১৯৯৪ সালের এই দিনে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ভালোবাসা, ত্যাগ, সংগ্রাম ও পারস্পরিক সহযাত্রার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে তাদের এই দাম্পত্য জীবন, যা আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার প্রতীক।

(সংগ্রহীত ছবি)

জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ পেরিয়েও এই দম্পতি একে অপরের পাশে থেকেছেন দৃঢ়ভাবে। তাদের সম্পর্ক কেবল স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে অবদানের একটি দীর্ঘ যাত্রার নাম।

ডা. জুবাইদা রহমান জন্মগ্রহণ করেন ১৯৭২ সালের ১৮ জুন। তার পৈতৃক বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে। তিনি একজন সম্ভ্রান্ত ও দেশপ্রেমিক পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তার বাবা রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবেও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর ভাতিজি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আইরিন খানের চাচাতো বোন।

(সংগ্রহীত ছবি)

শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে ডা. জুবাইদা রহমানের অর্জন অত্যন্ত গৌরবের। তিনি ১৯৯৫ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ২১তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জন করে চিকিৎসা অঙ্গনে নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখেন। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান এবং লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে কার্ডিওভাসকুলার সায়েন্সে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখানে তিনি সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে স্বর্ণপদক লাভ করেন- যা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়।

হৃদরোগ বিষয়ে তার গবেষণা ও একাডেমিক কাজ লন্ডনের চিকিৎসা মহলে প্রশংসিত হয়েছে। যদিও ২০০৮ সালের পর দীর্ঘ সময় সরকারি চাকরিতে অনুপস্থিত থাকার কারণে তার বিসিএস ক্যাডার বাতিল হয়, তবে বর্তমানে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার মধ্যে রয়েছে এবং তাকে পুনরায় চাকরিতে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান।

(সংগ্রহীত ছবি)

পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি সমাজসেবায়ও ডা. জুবাইদা রহমানের ভূমিকা প্রশংসনীয়। তিনি তারেক রহমান প্রতিষ্ঠিত ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন’-এ বিশেষজ্ঞ পরামর্শদাতা হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, দাতব্য চিকিৎসালয় পরিদর্শন এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে তিনি মানবিক দায়বদ্ধতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন।

২০২৫ সালের মে মাসে দীর্ঘদিন পর তিনি লন্ডন থেকে দেশে ফিরে আসেন। এরপর থেকে তিনি তারেক রহমানের রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়েছেন। চিকিৎসক হিসেবে তার পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং সমাজ সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি তাকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য আরও প্রস্তুত করছে বলে মনে করছেন অনেকে।

এই দম্পতির একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত তরুণ মুখ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। শিক্ষা, ব্যক্তিত্ব ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে তিনিও ভবিষ্যতের নেতৃত্বের সম্ভাবনা জাগাচ্ছেন।

৩২ বছরের এই দাম্পত্য জীবন কেবল একটি ব্যক্তিগত সম্পর্কের গল্প নয়- এটি ধৈর্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আত্মত্যাগ এবং দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়ার এক জীবন্ত উদাহরণ। তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের এই দীর্ঘ পথচলা আজও অনেক দম্পতি ও তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে আছে।

আরো পড়ুন

ইরান বনাম আমেরিকা: বিভক্তি নাকি মুসলিম উম্মাহর ‘কৌশলগত ঐক্য’ প্রয়োজন?

আজ যখন আমেরিকার রণতরী ইরানের দিকে তাক করে আছে, তখন সোশ্যাল মিডিয়া বা চায়ের কাপের আড্ডায় মুসলিম সমাজের একাংশের উল্লাস দেখে নিজেকে প্রশ্ন করতে বাধ্য হচ্ছি—আমরা কি শত্রু চিনতে ভুল করছি?

বাংলা উইকিপিডিয়ায় ইতিহাস রক্ষার লড়াই: আমাদের সচেতনতা ও করণীয়

উইকিপিডিয়াকে আমরা তথ্যের প্রথম উৎস হিসেবে বিশ্বাস করি, কিন্তু দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সাম্প্রতিক অনুসন্ধান আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ২০১৪ সালের পর থেকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বাংলা উইকিপিডিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে।

স্বাগতম ২০২৬: নতুন স্বপ্ন, নতুন সম্ভাবনা এবং উৎসবের রঙে রঙিন বাংলাদেশ!

ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার সাথে সাথেই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিল ২০২৫, আর আমরা পা রাখলাম ২০২৬ সালে। পুরোনো বছরের সমস্ত গ্লানি, হতাশা আর না পাওয়ার হিসাব চুকিয়ে নতুন উদ্যমে জেগে ওঠার দিন আজ। গুড নিউজ বাংলাদেশ পরিবারের পক্ষ থেকে সারা বিশ্বের সকল বাংলাভাষীকে জানাই ইংরেজি নববর্ষের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। হ্যাপি নিউ ইয়ার ২০২৬!
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ