যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসে এক অভাবনীয় এবং নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৭ অর্থ বছরের জন্য তিনি রেকর্ড ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রস্তাব করেছেন। বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এই বিশাল অংকের বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেন তিনি। এটি বর্তমান প্রতিরক্ষা বাজেটের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
লক্ষ্য যখন ‘ড্রিম মিলিটারি’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই উচ্চাভিলাষী বাজেটকে তাঁর কাঙ্ক্ষিত ‘ড্রিম মিলিটারি’ বা স্বপ্নিল সেনাবাহিনী গড়ার মূল ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। যদি কংগ্রেস এই প্রস্তাব অনুমোদন করে, তবে এটি হবে মার্কিন ইতিহাসে প্রতিরক্ষা খাতে সর্বোচ্চ ব্যয়ের রেকর্ড। ট্রাম্পের এই মহাপরিকল্পনার মূল কেন্দ্রে রয়েছে:
- গোল্ডেন ডোম: দেশজুড়ে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
- আধুনিক নৌ-বহর: নতুন প্রজন্মের শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ।
- পারমাণবিক পুনর্গঠন: মার্কিন পারমাণবিক সক্ষমতাকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করা।
জিডিপির ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা
দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান শিবিরের একটি বড় অংশ দাবি করে আসছিল যে, জাতীয় অর্থনীতির অনুপাতে সামরিক ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন। ট্রাম্পের এই প্রস্তাব সেই দাবিকেই বাস্তব রূপ দিতে যাচ্ছে। হাউজ আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্য ডন বেকন এই পদক্ষেপকে বিমান ও নৌ বাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য ‘অপরিহার্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।
প্রতিরক্ষা দপ্তরের নাম পরিবর্তন
ট্রাম্প তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার জুড়েই সামরিক শক্তিকে মার্কিন নীতির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি প্রতিরক্ষা দপ্তরের (Department of Defense) নাম পরিবর্তন করে পুনরায় পুরনো নাম ‘ওয়ার ডিপার্টমেন্ট’ (War Department) হিসেবে অভিহিত করতে শুরু করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ কেবল ব্যয় বৃদ্ধি নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ব-আধিপত্য বজায় রাখার এক বড় কৌশল।
সূত্র: প্রেস টিভি