ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ছিল পুরো বিশ্বজুড়ে ফুটবলভক্তদের নজরে। কারণ মুখোমুখি হয়েছিল দুই শক্তিশালী দল- ব্রাজিল বনাম পর্তুগাল। দোহায় অ্যাসপায়ার জোনে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পরও উত্তেজনার শেষ ছিল না। শেষ পর্যন্ত ড্রামাটিক টাইব্রেকারে ৬-৫ গোলের জয়ে পর্তুগাল পৌঁছে গেল ফাইনালে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া।
ম্যাচের শুরু: আক্রমণ- প্রতি-আক্রমণে উত্তেজনা
দুই দলই ম্যাচের শুরুতে বেশ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে।
- প্রথমার্ধে পর্তুগাল ৬টি শট নেয়
- ব্রাজিল নেয় ৮টি শট
তবে আক্রমণাত্মক ফুটবল থাকলেও কেউই গোলের দেখা পায়নি। ব্রাজিলের স্ট্রাইকারদের কয়েকটি সুযোগ ছিল, কিন্তু পর্তুগালের সমন্বিত রক্ষণভাগ সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়।
গোলশূন্য ৯০ মিনিট: রেফারির সিদ্ধান্ত টাইব্রেকার
অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে অতিরিক্ত সময় নেই। ফলে নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর রেফারি সরাসরি ম্যাচকে নিয়ে যান পেনাল্টি শ্যুটআউটে। এখান থেকেই শুরু হয় ম্যাচের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ অধ্যায়।
টাইব্রেকারে রোমারিও কুনিয়ার নায়কোচিত ভূমিকা
প্রথম পাঁচটি শটে উভয় দলই নিখুঁত। স্কোর তখন ৫-৫।
হঠাৎ ঘটল নাটক-
- পর্তুগালের গোলরক্ষক রোমারিও কুনিয়া নিজের শটে গোল করতে ব্যর্থ হন
- কিন্তু পরক্ষণেই তিনি ব্রাজিলের রুয়ান পাবলো’র শট পোস্টে লাগিয়ে বাঁচিয়ে দেন দলকে
এই মুহূর্তটিই পুরো ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট।
সাডেন ডেথ: ভাগ্য হাসল পর্তুগালের দিকে
সাডেন ডেথে পর্তুগাল শটটি সফলভাবে জালে জড়ায়। এরপর ব্রাজিলের অ্যাঞ্জেলো বলটি আকাশে তুলে দেন। ব্রাজিলের স্বপ্ন ভেঙে যায় যেন চোখের সামনে। পর্তুগাল উদযাপন শুরু করে নতুন সাফল্যের পথে।
এখনকার পরিস্থিতি: ফাইনালে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি পর্তুগাল
এর আগে প্রথম সেমিফাইনালে অস্ট্রিয়া ২-০ গোলে ইতালিকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে যায়।
এখন নির্ধারিত ফাইনাল:
- ২৭ নভেম্বর: অস্ট্রিয়া বনাম পর্তুগাল – ফাইনাল
- ব্রাজিল বনাম ইতালি – তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ
ব্রাজিল বনাম পর্তুগাল ম্যাচ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
- ব্রাজিলের লক্ষ্য ছিল পঞ্চম শিরোপা
- পর্তুগালের লক্ষ্য ছিল প্রথমবারের মতো শিরোপার আরও কাছে যাওয়া
- দুই দলের ট্যাকটিক্যাল ফুটবল
- তরুণ প্রতিভাদের দুর্দান্ত লড়াই
- টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা
ফলাফল-এবার ভাগ্য হেসেছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের প্রতিনিধিদের দিকে।