বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের রূপকার, স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ।
এই দিনটি শুধু একটি জন্মদিন নয়-এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার স্মরণীয় মাইলফলক।
১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার গাবতলীতে জন্ম নেওয়া এক সাধারণ পরিবারের সন্তান “কমল” নামের সেই কিশোরই পরবর্তীতে হয়ে ওঠেন স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্রনায়ক-জিয়াউর রহমান, বীরউত্তম।
মুক্তিযুদ্ধ থেকে রাষ্ট্রনায়ক
১৯৫৩ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে সামরিক জীবন শুরু করেন জিয়া। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ছিলেন এক অনন্য সাহসী সেক্টর কমান্ডার। তার নেতৃত্বেই গড়ে ওঠে কিংবদন্তিতুল্য জেড ফোর্স, যা যুদ্ধক্ষেত্রে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে দুর্ধর্ষ প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠের মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালির মুক্তিযুদ্ধকে আন্তর্জাতিকভাবে দৃশ্যমান করেন-যা ইতিহাসে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় সাহসী সংস্কারক
১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেনাপ্রধান, প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হয়ে ১৯৭৭ সালে গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন জিয়াউর রহমান-দেশের ইতিহাসে প্রথম সর্বজনীন ভোটে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে।
তিনি প্রবর্তন করেন:
- বহুদলীয় গণতন্ত্র
- বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ
- উৎপাদনমুখী অর্থনীতি
- গ্রামভিত্তিক উন্নয়ন
- পোশাক শিল্পের সূচনা
- প্রবাসী শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণ
- আধুনিক কূটনীতির ভিত্তি
তার ১৯ দফা কর্মসূচি দেশের অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প ও সমাজ কাঠামোয় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
অপপ্রচারের দেয়াল ভেঙে ইতিহাসের বিজয়
২০০৯ সালের পর দীর্ঘ ১৫ বছরে পরিকল্পিতভাবে শহীদ জিয়াকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়। তার মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়, বীরউত্তম খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, পাঠ্যপুস্তক থেকে নাম বাদ দেওয়ার অপচেষ্টা চলে, এমনকি কবর নিয়েও কটূক্তি করা হয়।
কিন্তু ইতিহাস থেমে থাকেনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন-
“যারা জিয়াউর রহমানকে খলনায়ক বানাতে চেয়েছিল, সময়ের বিচারে তারাই খলনায়কে পরিণত হয়েছে। আর শহীদ জিয়া আজ আরও উজ্জ্বল।”
তার মতে, শহীদ জিয়া ছিলেন এমন এক রাষ্ট্রনায়ক যিনি বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্রে রূপান্তরের বাস্তব ভিত গড়ে দেন।
মহাসচিব মির্জা ফখরুলের বার্তা
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন-
“জিয়াউর রহমান ছিলেন দেশপ্রেম, সাহস, সততা ও অনাড়ম্বর জীবনের প্রতীক। তার বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ আমাদের জাতিসত্তার প্রকৃত পরিচয়। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানবাধিকারের পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তার আদর্শই আমাদের পথ দেখায়।”
বিএনপির দুদিনের কর্মসূচি
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি সারাদেশে ব্যাপক কর্মসূচি পালন করছে-
আজ (১৯ জানুয়ারি):
- শহীদ জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতিহা
- ড্যাবের উদ্যোগে মেডিকেল ক্যাম্প
- দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন
- আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল
আগামী বুধবার বেলা ১১টা:
- কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে জাতীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য দেবেন।





