পুরোনো বস্তাপচা রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে দেশে একটি নতুন, জনভিত্তিক রাজনৈতিক ধারা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর ভাষায়, আগামীর রাজনীতি কোনো দল বা গোষ্ঠীর একচেটিয়া সম্পদ নয়- এটি হতে হবে সাধারণ মানুষের অধিকারভিত্তিক রাজনীতি।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় যশোরে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নতুন রাজনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরেন। হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, জনগণ এখন আর পুরোনো বন্দোবস্তে ফিরতে চায় না- তারা চায় পরিবর্তন, চায় মর্যাদা ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি।
“হ্যাঁ মানে আজাদী, না মানে গোলামি”
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
“এই নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী না হলে সরকার গঠন করেও কোনো লাভ হবে না। কারণ ‘হ্যাঁ’ মানে স্বাধীনতা, আত্মমর্যাদা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা। আর ‘না’ মানে আবারও গোলামির শিকলে বাঁধা পড়া।”
তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতা বদলের লড়াই নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার লড়াই।
যশোরকে সিটি করপোরেশন করার প্রতিশ্রুতি
ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা দেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে যশোরকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হবে। এতে অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক নাগরিক সুবিধা ও নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
একই সঙ্গে তিনি বেকারত্ব সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। বলেন,
“আমরা বেকার যুবকদের ভাতা নয়, সম্মানজনক কর্মসংস্থান দিতে চাই। যাতে তারা আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচতে পারে।”
তরুণদের উদ্দেশে বার্তা
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনে তরুণদের ভূমিকার প্রশংসা করে জামায়াত আমির বলেন,
“যে তরুণেরা ফ্যাসিবাদ তাড়িয়েছে, তারা ঘুমিয়ে যায়নি। তারা এখন আরও সচেতন, আরও সংগঠিত। তারা পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামো নয়, একটি নতুন ও ন্যায্য বন্দোবস্ত চায়।”
তিনি বলেন, তরুণদের এই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাই আগামী দিনের রাজনীতিকে নতুন পথে নিয়ে যাবে।
নতুন রাজনীতির প্রতিশ্রুতি
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে- রাজনীতিকে ক্ষমতার লড়াই নয়, জনগণের কল্যাণের হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার অঙ্গীকার। তাঁর মতে, দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের আশা–আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়াই হবে আগামীর রাজনীতির মূল ভিত্তি।
যশোরের জনসভা থেকে দেওয়া এই বক্তব্যকে অনেকেই দেখছেন দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় একটি নতুন বার্তার সূচনা হিসেবে- যেখানে “দল নয়, মানুষই হবে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু”।
সুত্রঃ আমার দেশ





