বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১৮ মাস পূর্তির সময় সকল খাতে নেওয়া সংস্কার উদ্যোগগুলো তুলে ধরে “রিফর্ম বুক” নামে একটি বই প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে শুরু হওয়া গুরুত্বপূর্ণ আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।
প্রেস উইংয়ের আজকের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশ চরম অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটে ছিল। দীর্ঘ বছরের দুর্নীতি, খেলাপি ঋণ ও দমনমূলক শাসনের কারণে সরকারি কাঠামো ভেঙে পড়েছিল।
অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
- জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি, ৭,৪০০ পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার।
- চীনের সঙ্গে ঋণের মেয়াদ পুনর্নির্ধারণ, স্বাস্থ্য খাতে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।
- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক শুল্কহার ৩৭% থেকে কমিয়ে ২০%।
- ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও সম্মানভিত্তিক করা হয়েছে।
বিচার ও আইনশৃঙ্খলা
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সব আদালত সুপ্রিম কোর্টের অধীনে।
- রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, যোগ্যতাভিত্তিক বিচারপতি নিয়োগ।
- র্যাব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১,২০০+ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত।
- মানবাধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ চালু।
গণমাধ্যম ও নাগরিক স্বাধীনতা
- সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার।
- পূর্বে বন্ধ থাকা গণমাধ্যম পুনরায় চালুর অনুমতি।
- সাপ্তাহিক ও টেলিভিশনে রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে “জুলাই সনদ” প্রণয়ন, যা গণভোটের অপেক্ষায়।
প্রশাসন ও জবাবদিহি
- ১৩০টি আইন প্রণয়ন ও ৬০০+ নির্বাহী সিদ্ধান্ত।
- ৮৪% সংস্কার ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত।
- পতিত সরকারের শতাধিক রাজনীতিক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা।
- র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের কাঠামো পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ গঠন।
সংক্ষেপে
“রিফর্ম বুক” শুধু প্রতিশ্রুতির নথি নয়, এটি বাস্তব ও দৃশ্যমান পরিবর্তনের প্রমাণ। ১৬ বছরের দমনমূলক শাসন থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করে নতুন গণতান্ত্রিক পথে ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়ার একটি নির্দেশিকা।





