ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ব্যতিক্রমী প্রচারণায় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসছেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশা মণি। বড় বড় রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে ভোটারদের উদ্দেশে ‘বিয়ের উপহার’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল হয়ে উঠেছেন তিনি।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ এলাকায় গণসংযোগকালে এক সাক্ষাৎকারে আশা মণি বলেন, তরুণ ভোটারদের কাছ থেকে তিনি নিয়মিত বিয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ পাচ্ছেন।
তিনি বলেন,
“অনেক তরুণ ভাই আমাকে বলেন—আপা, আমাদের বিয়ের ব্যবস্থা করেন। আমি তাদের বলি, আমাকে একটা করে ভোট দিন। আমি জয়ী হলে আপনাদের বিয়ের ব্যবস্থা সহজ করে দেব।”
শুধু তরুণরাই নন—দাদা-দাদি, নানা-নানি, চাচা-চাচিসহ সব বয়সী ভোটারের কাছেই তিনি মজা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ‘বিয়ের উপহার’ হিসেবে একটি করে ভোট চাচ্ছেন বলে জানান।
এই অভিনব প্রতিশ্রুতি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড় তোলে। কেউ প্রশংসা করছেন সাহসী প্রচারণার জন্য, কেউ আবার বিষয়টিকে দেখছেন রসিকতার চোখে।
জয়দেব দেবনাথ নামে এক নেটিজেন মন্তব্য করেন,
“কেউ দিচ্ছে বেহেশত, কেউ ফ্যামিলি কার্ড, আর আশা মণি আপা দিচ্ছেন বউ অথবা স্বামী!”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রচলিত ধারা ভেঙে এ ধরনের ব্যতিক্রমী বার্তা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরি করছে, যা নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন আশা মণি। যদিও তখন তিনি খুব বেশি ভোট পাননি, তবে স্থানীয় সমাজকর্মী আম্বিয়া খাতুন মনে করেন, নারী ক্ষমতায়ন ও অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে তিনি একজন সাহসী কণ্ঠ।
তিনি বলেন,
“ভোটের ফলাফল যাই হোক, আশা মণির এই লড়াই নারীদের রাজনীতিতে এগিয়ে আসার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”
আসন্ন নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পুরো ঠাকুরগাঁও জেলায় তিনটি সংসদীয় আসনের বিপরীতে নারী প্রার্থী মাত্র দুজন—ঠাকুরগাঁও-২ আসনে জাতীয় পার্টির নূরুন্নাহার বেগম এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আশা মণি।





