সোমবার, মার্চ ৩০, ২০২৬

দেশের শস্য ভাণ্ডারে যুক্ত হলো ৬ নতুন উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত

বহুল পঠিত

বাংলাদেশের কৃষি সেক্টরে নতুন উদ্ভাবনের একটি বড় খবর এসেছে। দেশের শস্য ভাণ্ডারে এবার ছয়টি নতুন ধানের জাত যুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে দুটি হাইব্রিড জাতও রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভা-য় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) উদ্ভাবিত এই নতুন ধানের জাতগুলো চাষাবাদের জন্য অবমুক্ত করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, এবং উপস্থিত ছিলেন BRRI-এর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

নতুন ধানের জাতের বৈশিষ্ট্য

নতুন এই ধানের জাতগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে বিশেষভাবে পরিকল্পিত, যাতে কৃষকের আবাদ সহজ হয় এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। এই ছয়টি জাতের মধ্যে রয়েছে:

  • একটি ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ ধান, যা পুষ্টি যোগাতে সক্ষম এবং জনগণের স্বাস্থ্য উন্নয়নে সহায়ক।
  • একটি লবণাক্ততা সহনশীল ধান, যা বিশেষ করে হাইপোয়েড বা লবণাক্ত অঞ্চলে উৎপাদনের জন্য উপযোগী।
  • একটি ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী ধান, যা শস্যরোগের কারণে ফসলের ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
  • একটি হাওরাঞ্চলের উপযোগী ও ঠান্ডা সহনশীল ধান, যা বাংলাদেশের হাওর ও শীতপ্রবণ অঞ্চলে উচ্চ ফলন নিশ্চিত করবে।
  • দুটি হাইব্রিড ধান, যেগুলো লজিং টলারেন্ট বা ঢলে পড়া প্রতিরোধী, ফলে বৃষ্টিপাত বা ঝড়ের সময়ও ফসলের ক্ষতি কম হবে।

এই নতুন অবমুক্ত ধানের জাতগুলো যুক্ত হওয়ায় BRRI উদ্ভাবিত ধানের মোট সংখ্যা এখন দাঁড়ালো ১২৭-এ, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষকের আয়ের বৃদ্ধি এবং কৃষি বৈচিত্র্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

কৃষি সেক্টরে নতুন উদ্ভাবনের গুরুত্ব

বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতি দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে ধান দেশের প্রধান খাদ্যশস্য। BRRI-এর এই নতুন উদ্ভাবন কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, ফসলের রোগ ও ঝড়ের ঝুঁকি কমানো এবং পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাদ্য নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের উচ্চ ফলনশীল ও রোগ প্রতিরোধী ধানের জাত কৃষকের আবাদে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে, খাদ্য ঘাটতি কমাবে এবং দেশের স্বাবলম্বী খাদ্য উৎপাদন সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে।

BRRI-এর মহাপরিচালক ড. খালেকুজ্জামান সভায় উল্লেখ করেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বাবলম্বী করা। এই নতুন ধানের জাতগুলো কৃষকের মাঠে পৌঁছে গেলে শুধু উৎপাদনই নয়, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির মানও উন্নত হবে। আমরা চেষ্টা করি নতুন বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনকে দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে।”

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, “জাতীয় বীজ বোর্ডের এই বৈঠক আমাদের কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনকে দেশের মূলনীতির সঙ্গে মিলিয়ে চলার প্রতীক। নতুন ধানের জাতগুলো বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে BRRI-এর এই উদ্ভাবন এবং সরকারের সহায়ক পদক্ষেপ দেশের কৃষকদের জন্য আশা ও প্রেরণার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেছে।

আরো পড়ুন

বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন শফিকুর রহমান

বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি...

ইমাম মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। দেশের মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও বৌদ্ধবিহারের ধর্মীয় নেতাদের সরকারি সম্মানী...

১৫ মার্চ থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি পাবে গণপরিবহন: জানালেন সড়কমন্ত্রী

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ঘরমুখো মানুষের জন্য বড় সুখবর দিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানিয়েছেন, আগামী...
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ