হাতপাখা–ধানের শীষের লড়াইয়ে উত্তাল বরিশাল-৫
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই উৎসবের রঙে রাঙছে বরিশালের রাজপথ, অলিগলি আর গ্রামগঞ্জ। পোস্টার, মাইকিং আর গণসংযোগে মুখর পুরো নগরী। বরিশাল-৫ আসন এখন রীতিমতো পরিণত হয়েছে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বের হয়ে এককভাবে নির্বাচনে নামার পর এই আসনে রাজনীতির সমীকরণে এসেছে বড় পরিবর্তন। তার ওপর জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সরে দাঁড়িয়ে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ায় শুরু হয়েছে নতুন মেরুকরণ।
দুই প্রতীকের দ্বৈরথ
একদিকে বিএনপির ধানের শীষ, অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা—এই দুই প্রতীকের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে বরিশাল-৫ এর রাজনীতি। নগরী থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত এখন সবচেয়ে উচ্চারিত দুটি নাম—মজিবর রহমান সরোয়ার ও মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম।
অনেক ভোটারের ভাষায়,
“হাতপাখার বাতাসে দুলছে ধানের শীষ!”
অনেকে আবার বলছেন, শেষ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের ভোটারদের অবস্থানই নির্ধারণ করে দেবে কে হচ্ছেন বিজয়ী।
বিএনপির ভেতরে চাপা অস্থিরতা
বরিশাল-৫ আসন বিএনপির জন্য ঐতিহ্যগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাবেক সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার আবারও প্রার্থী হওয়ায় মাঠে নেমেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তবে মনোনয়ন না পাওয়ায় দলের একটি অংশ এখনও পুরোপুরি সক্রিয় নয়।
বিশেষ করে মহানগর বিএনপির একাংশের নীরবতা দলটির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও সরোয়ার বলছেন,
“বরিশাল বিএনপির ঘাঁটি। মানুষ শেষ পর্যন্ত ধানের শীষেই ভোট দেবে।”
ইসলামী আন্দোলনের বাড়তে থাকা শক্তি
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ফয়জুল করিমের পেছনে রয়েছে শক্ত ভোটব্যাংক। সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে তিনি পেয়েছিলেন ৩০ হাজারের বেশি ভোট। এবার সংসদীয় আসনের বিস্তৃত এলাকাজুড়ে যুক্ত হয়েছে আরও নতুন ইউনিয়ন, যেখানে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের সমর্থন বেশ দৃশ্যমান।
ইসলামী আন্দোলনের নেতারা দাবি করছেন, আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশের ভোটও তাদের দিকেই ঝুঁকতে পারে। সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার আশ্বাসও তুলে ধরা হচ্ছে প্রচারণায়।
ভোটারদের ভাবনা: পরিবর্তনের হাওয়া
নগরীর বাসিন্দা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন,
“বরিশাল একসময় বিএনপির শক্ত ঘাঁটি ছিল। কিন্তু মানুষ এখন নতুন মুখ, নতুন রাজনীতি দেখতে চায়।”
অনেক ভোটারের মধ্যেই পরিবর্তনের প্রত্যাশা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
শেষ কথা
বরিশাল-৫ আসনে এবারের নির্বাচন শুধু একটি আসনের লড়াই নয়-এটি হয়ে উঠেছে পরিবর্তন বনাম অভিজ্ঞতার দ্বন্দ্ব, নতুন রাজনীতির আশা বনাম পুরোনো ধারার রাজনীতির পরীক্ষা।
ফল যাই হোক, একটি বিষয় নিশ্চিত-বরিশালের এই ভোটের লড়াই সারাদেশের রাজনীতিতেই ফেলবে বড় প্রভাব।





