ঠাকুরগাঁও থেকে ভোটারদের জন্য বড় সুখবর জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কিসমত দৌলতপুর দাখিল মাদ্রাসা ও ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি পথসভায় তিনি ঘোষণা করেন, ক্ষমতায় গেলে দেড় বছরের মধ্যে এক কোটি বেকার যুবকের চাকরি নিশ্চিত করবে বিএনপি।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের উন্নয়ন ও বেকারত্ব দূরীকরণে বিএনপির একটি শক্তিশালী ভিশন রয়েছে। ক্ষমতায় আসলে দেশে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও কলকারখানা গড়ে তোলা হবে, যুবকদের জন্য বিশেষ কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি সবসময় কাজে বিশ্বাস করে, তাত্ত্বিক সমালোচনায় নয়। আমরা জনগণের সঙ্গে সৎ ও পরিষ্কার রাজনীতি করি। কেউ যেন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি না দেয়।”
ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার নিয়ে তিনি সতর্ক করেছেন। মির্জা ফখরুল বলেন, “কেউ যদি ভোটের মাধ্যমে জান্নাত পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, তা প্রকৃত মুসলিম কখনো বিশ্বাস করতে পারে না। মানুষের ভালো কাজ ও আমলই শেষ ফলাফল নির্ধারণ করে।”
সুপ্রাচীন চরমোনাই পীরের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামী কোনো প্রকৃত ইসলামী দল নয়।”
গতকালকের নির্বাচন ও সরকারি নির্যাতন প্রসঙ্গে তিনি জানান, “আমার নামে ১১৭টি মিথ্যা মামলা হয়েছিল, আমি সাড়ে তিন বছর জেল খেটেছি। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১০ বছর জেল খেটেছেন। গত কয়েক বছরে আমাদের ২০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।”
মির্জা ফখরুল ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। সেই লক্ষ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করুন।”
তিনি বলেন, ক্ষমতায় এলে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য বিশেষ কার্ড, ন্যায্যমূল্যে সার-বীজ-তেল, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ, প্রান্তিক নারীদের এনজিও ঋণের কিস্তির দায়িত্ব সরকারের দিকে থাকবে।
পথসভায় একজন কিশোর মির্জা ফখরুলকে মাটির ব্যাংক উপহার দেন, যা তার সাদৃশ্যপূর্ণ অর্থসংগ্রহের প্রতীক।
উল্লেখ্য, এই নির্বাচনি পথসভায় জেলা, উপজেলা ও ওয়ার্ড বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন।
সুত্রঃ দৈনিক যুগান্তর





