আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে নতুন হাওয়া। বিশেষ করে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির তৈরি করা নির্বাচনি ইশতেহার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের ইশতেহারে কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, বরং রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের এক পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ তুলে ধরছে বিএনপি। যেখানে কর্মসংস্থান, ফ্যামিলি কার্ড এবং আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতির ওপর দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব।
১. কর্মসংস্থানে বিপ্লব: বেকার ভাতা ও ১ কোটি চাকরি
বিএনপির ইশতেহারে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে থাকছে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিশাল পরিকল্পনা। ক্ষমতায় আসার প্রথম ১৮ মাসের মধ্যে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে স্বস্তির খবর হলো, চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষিত বেকারদের জন্য ‘বেকার-ভাতা’ চালুর প্রতিশ্রুতি। এছাড়া ফ্রিল্যান্সারদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে পেপ্যাল (PayPal) সহ আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে চালু করার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
২. দেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’
দুর্নীতিমুক্ত সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিএনপি সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে। প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ পরিবারকে এই কার্ড দেওয়া হলেও পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি পরিবার এর আওতায় আসবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে যাবে সাধারণ মানুষের হাতে।
৩. স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় নতুন দিগন্ত
যুক্তরাজ্যের এনএইচএস (NHS)-এর আদলে বাংলাদেশেও সর্বজনীন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে দলটি। যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা হবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের পাশাপাশি এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব থাকছে ইশতেহারে।
৪. কৃষি ও পরিবেশ: খাল খনন ও ২৫ কোটি গাছ
জিয়াউর রহমানের আমলের জনপ্রিয় ‘খাল খনন’ কর্মসূচি আবারও ফিরে আসছে নতুন রূপে। নদী ও খাল খননের মাধ্যমে কৃষি বিপ্লব ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে ইশতেহারে। এছাড়া আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার এক বিশাল লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছে বিএনপি।
৫. প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সেবা
বিদেশে দক্ষ কর্মী পাঠাতে বছরে ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি বিমানবন্দর ও দূতাবাসে হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা হবে। স্বল্প খরচে প্রবাসে যাওয়ার জন্য সহজ শর্তে ঋণের সুবিধাও রাখা হচ্ছে।
নীতিনির্ধারকদের বক্তব্য
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানান, “এই ইশতেহার কেবল রাজনৈতিক লিফলেট নয়, এটি দেশবাসীর কাছে আমাদের আগামী দিনের অঙ্গীকার।” অন্যদিকে, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “আমরা প্রতিদিনের কর্মসূচিতে আমাদের পরিকল্পনাগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরছি, যার পূর্ণ প্রতিফলন থাকবে চূড়ান্ত ইশতেহারে।”
বিএনপির এবারের ইশতেহার তৈরিতে তারেক রহমানের ‘৩১ দফা’, খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’ এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতকে সমন্বয় করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই বড় সমাবেশের মাধ্যমে এই পূর্ণাঙ্গ ইশতেহার জনগণের সামনে উন্মোচন করা হবে।
সূত্র: বিজনেস স্ট্যান্ডারস