স্বপ্ন যখন কেবল চোখে নয়, হৃদয়ে গেঁথে যায়- তখন অসম্ভবও সম্ভব হয়। ঠিক তেমনই এক অনুপ্রেরণার নাম নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি। ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি লালমাটিয়ার একটি ছোট্ট ঘরে মাত্র দুজন মানুষ আর এক বুক আত্মবিশ্বাস নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল তাঁর প্রোডাকশন হাউজ ‘বুম ফিল্মস’ (Boom Films)। আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সেই প্রতিষ্ঠানটি সাফল্যের ১০ বছর পূর্ণ করে বাংলাদেশের বিনোদন জগতের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘পাওয়ার হাউস’-এ পরিণত হয়েছে।
সংগ্রাম থেকে সাম্রাজ্য: ভাড়ার দুশ্চিন্তা ছাড়িয়ে আজ ইন্ডাস্ট্রি লিডার
আজকের এই ঝকঝকে সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক কঠিন সংগ্রামের গল্প। শুরুর দিনগুলোতে অমিকে প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে অফিস ভাড়া এবং কর্মীদের বেতন জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হতো।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অমি বলেন:
“প্রথম তিন বছর প্রতিটি মাসই ছিল এক একটি যুদ্ধ। প্রতি মাসের শেষে ভাবতাম পরের মাসে অফিস টিকিয়ে রাখতে পারব তো? সেই অনিশ্চয়তা থেকেই আজ আমরা ধানমন্ডির নিজস্ব বিশাল স্টুডিও আর শুটিং হাউসে পৌঁছেছি। এটা কেবল আমার নয়, আমাদের পুরো টিমের ঘাম আর দর্শকদের ভালোবাসার জয়।”
কেন ‘বুম ফিল্মস’? এক মজার নামকরণের গল্প
এই হাউসের নামের পেছনে কারিগর হিসেবে আছেন অমির মেন্টর জনপ্রিয় নির্মাতা ইফতেখার আহমেদ ফাহমী। তিনি অমিকে বলেছিলেন- “তোর কাজের আওয়াজ হবে, সেগুলো চারদিকে ব্লাস্ট করবে; তাই নাম হোক ‘বুম ফিল্মস’।” ফাহমী ভাইয়ের সেই কথা আজ অক্ষরে অক্ষরে সত্যি। গত ১০ বছরে প্রায় ১৫০টি কন্টেন্ট নির্মাণ করেছে এই প্রতিষ্ঠান, যার প্রতিটিই বিনোদন জগতে কোনো না কোনোভাবে ‘বুম’ বা আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ও তারকা তৈরির কারখানা
বুম ফিল্মস মানেই যেন তারুণ্যের উন্মাদনা। এই হাউসের ব্যানারে নির্মিত ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ বাংলাদেশের নাটকের ইতিহাসে এক কাল্ট ক্লাসিক। তবে অমির বড় সাফল্য কেবল নাটক নির্মাণে নয়, তিনি একজন দক্ষ ‘সেলিব্রেটি মেকার’।
- তার হাত ধরেই ক্যামেরার পেছনের মানুষ জিয়াউল হক পলাশ আজ দেশের মহাতারকা।
- বুম ফিল্মসের ফেসবুক পেজে এখন ৩৬ লাখেরও বেশি অনুরাগী, যা দেশের যেকোনো নির্মাতার জন্য একটি রেকর্ড।
আগামীর লক্ষ্য: ছোট পর্দা পেরিয়ে বড় পর্দার পথে
১০ বছর পূর্তিতে বুম ফিল্মস এখন আরও সুসংগঠিত। ১৫ জন স্থায়ী কর্মীর শক্তিশালী টিম, নিজস্ব পোস্ট-প্রোডাকশন প্যানেল এবং গ্রাফিক্স বিভাগ নিয়ে তারা এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
- নতুন নির্মাতাদের সুযোগ: এখন থেকে বুম ফিল্মস কেবল অমির কাজ নয়, অন্য মেধাবী নির্মাতাদের কাজও প্রযোজনা করবে।
- সিনেমার স্বপ্ন: খুব শীঘ্রই বড় পর্দার জন্য ধামাকা কোনো সিনেমা নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে বুম ফিল্মস।
পরিশেষে বলা যায়, লালমাটিয়ার সেই ছোট্ট ঘর থেকে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের কোটি মানুষের বিনোদনের উৎস। সততা আর মেধা থাকলে যে শূন্য থেকেও শিখরে পৌঁছানো যায়, কাজল আরেফিন অমি তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সোর্সঃ জিও বাংলা টিভি