শনিবার, জানুয়ারি ১০, ২০২৬

জয় উপলক্ষে দোয়া ও শব্বেদারি কর্মসূচি ছাত্রশিবিরের, হবে না আনন্দমিছিল

বহুল পঠিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে দল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট প্যানেলের বড় জয় উদযাপনে ভিন্নধর্মী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা বিজয় উপলক্ষে কোনো আনন্দমিছিল, শোভাযাত্রা বা র‌্যালি করবে না। বরং শুকরিয়া আদায়, দোয়া মাহফিল ও শব্বেদারি (নৈশ ইবাদত) আয়োজনের মাধ্যমে কর্মসূচি পালন করবে।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ স্বাক্ষরিত আরেক বিজ্ঞপ্তিতেও জানানো হয়, বিজয়ের এই মুহূর্তে সংগঠনটি আধ্যাত্মিক ও আত্মসমালোচনামূলক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করতে চায়।

ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শুকরিয়া আদায় করে দোয়া মাহফিল, শব্বেদারি আয়োজন, শহীদদের কবর জিয়ারত, শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ। এতে অংশগ্রহণের জন্য শিবিরের সব মহানগর, শহর, বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলা শাখাকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে জয় শুধু রাজনৈতিক সাফল্য নয়, বরং দায়িত্ব ও ত্যাগের নতুন অঙ্গীকার। তাই তারা বিজয় উদযাপনে বাহ্যিক শোভাযাত্রা থেকে বিরত থেকে আত্মশুদ্ধি, কৃতজ্ঞতা ও দায়িত্বশীলতার পথে এগোতে চান।

এদিকে আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিক্রিয়া জানান ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের নবনির্বাচিত সহসভাপতি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ। তারা জানান, এই জয় শুধু একটি নির্বাচনী ফলাফল নয়, বরং শিক্ষার্থীদের আস্থার প্রতিফলন। তারা শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “এই বিজয়ের জন্য আমরা মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। শহীদদের ত্যাগের কথা স্মরণ করছি। বিজয়ের এই আনন্দে আমাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। আমরা সেই দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ।”

সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে, আগামী দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে সম্পন্ন হবে। এর মাধ্যমে তারা একদিকে যেমন শহীদদের স্মরণ করবে, অন্যদিকে নিজেদের নতুন দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত করবে।

ছাত্রশিবিরের এই ঘোষণার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, নির্বাচনী বিজয়ের পর তারা জনসমাগমভিত্তিক কর্মসূচির চেয়ে আত্মশুদ্ধি ও সংগঠনের ভেতরকার ঐক্যকে প্রাধান্য দিতে চাইছে।

আরো পড়ুন

জুলাই বিপ্লবের বীরদের জন্য আসছে ঐতিহাসিক ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’!

ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত দ্বিতীয় স্বাধীনতার কারিগরদের জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে এসেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বীর যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা দিতে সরকার একটি বিশেষ ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’ (Indemnity Ordinance) প্রণয়ন করতে যাচ্ছে।

রাজধানীতে ‘জুলাই বীর সম্মাননা’: ১২০০ যোদ্ধা ও সাংবাদিককে বিশেষ স্মারক প্রদান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা এবং আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য 'জুলাই বীর সম্মাননা' অনুষ্ঠান। আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলনের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ঐতিহাসিক ফেলানী হত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং সাহসী সাংবাদিকদের বিশেষ সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ড. ইউনূসের ডাক: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার আহ্বান

একটি বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশবাসীকে ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্তের অংশ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ ইউনূস। আগামী জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি সম্ভাব্য গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। ড. ইউনূসের মতে, এটি কেবল একটি ভোট নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রাষ্ট্র সংস্কারের এক বড় সুযোগ।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ