মহাকাশ মানেই কি কেবল ঘুটঘুটে অন্ধকার আর পিনপতন নীরবতা? সেই পুরোনো ধারণা এবার বদলে ফেলার সময় এসেছে! জৌতির্বিজ্ঞানীরা আমাদের নিজস্ব ছায়াপথ, মিল্কিওয়েতে এমন এক মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন, যা মহাকাশকে আক্ষরিক অর্থেই ‘রঙিন’ করে তুলেছে।
পৃথিবী থেকে ৭৩০ আলোকবর্ষ দূরে ‘অরিগা’ নক্ষত্রমণ্ডলীতে এমন একটি ‘সাদা বামন’ বা হোয়াইট ডোয়ার্ফ নক্ষত্রের সন্ধান মিলেছে, যেটি মহাকাশের বুকে এঁকে চলেছে এক মায়াবী রঙের আলপনা।
মহাকাশে ছুটছে যেন এক রঙিন স্পিডবোট!
বিজ্ঞানীদের এই নতুন আবিষ্কারটি অনেকটা মহাকাশে ছুটে চলা এক দ্রুতগামী নৌকার মতো। পানিতে স্পিডবোট চললে সামনে যেমন ফেনার ঢেউ বা ‘বো-শক’ (Bow Shock) তৈরি হয়, ঠিক তেমনই এই মৃতপ্রায় নক্ষত্রটি চলার পথে তৈরি করছে তীব্র এক ধাক্কাজনিত তরঙ্গ।
ইউরোপীয় সাউদার্ন অবজারভেটরির শক্তিশালী ‘ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ’-এর লেন্সে ধরা পড়েছে এই দৃশ্য। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, নক্ষত্রটি থেকে ছিটকে আসা পদার্থ মহাকাশের ধূলিকণার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে তৈরি করছে এক উজ্জ্বল ও রঙিন বলয়।
প্রকৃতি যখন চিত্রশিল্পী: লাল, নীল আর সবুজের মেলা
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো এই শকওয়েভের রঙ। এটি কেবল সাদা-কালো নয়, বরং রীতিমতো বর্ণিল। বিজ্ঞানীরা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, মহাকাশের এই আতশবাজির পেছনে রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু গ্যাসের রসায়ন:
- লাল আভা: আসছে হাইড্রোজেন গ্যাস থেকে।
- সবুজ দ্যুতি: ছড়িয়ে দিচ্ছে নাইট্রোজেন।
- নীল রঙ: তৈরি হচ্ছে অক্সিজেনের উপস্থিতিতে।
উত্তপ্ত হয়ে এই গ্যাসগুলো জ্বলে উঠে মহাকাশের ক্যানভাসে এক অপূর্ব দৃশ্যপট তৈরি করেছে।
১০০০ বছরের রহস্য এবং নতুন এক ধাঁধা
এই শকওয়েভটি একদিনে তৈরি হয়নি। গবেষকরা বলছেন, এই মহাজাগতিক ধামাকা চলছে অন্তত গত এক হাজার বছর ধরে! তবে বিজ্ঞানীদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে অন্য একটি বিষয়।
সাধারণত, এ ধরণের সাদা বামন নক্ষত্রের চারপাশে গ্যাসের একটি চাকতি বা ‘ডিস্ক’ থাকে। কিন্তু অদ্ভুতভাবে, এই নক্ষত্রটির কোনো ডিস্ক নেই! সঙ্গী নক্ষত্র থেকে গ্যাস টেনে নিয়ে ডিস্ক ছাড়াই কীভাবে এটি এত বিশাল ও উজ্জ্বল শকওয়েভ তৈরি করছে, সেটাই এখন আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় রহস্য।
একনজরে: মৃত নক্ষত্র বা হোয়াইট ডোয়ার্ফ হলেও এর শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র এবং সঙ্গী নক্ষত্রের সঙ্গে এর রসায়ন প্রমাণ করে দিল- মহাকাশ স্থির নয়, বরং সর্বদা পরিবর্তনশীল এবং বিস্ময়ে পরিপূর্ণ।
সুত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন




