ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের নির্বাচন কমিশন (ইসি) এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এক গুরুত্বপূর্ণ প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে মিলিত হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা এবং ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলনকক্ষে। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চার নির্বাচন কমিশনার, স্বরাষ্ট্র সচিব, ইসি সচিবালয়ের সচিব এবং পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ড, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানরা।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়
বৈঠকে ভোট প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়:
- নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে তা নির্ধারণ করা হয়। - ভোটের আগে ও পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব
ভোটের আগে ও পরে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি, দায়িত্ব এবং তফসিল ঘোষণার আগে-পরে তাদের ভূমিকা নির্ধারণ করা হয়। - ভোটকেন্দ্রে কতজন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন
ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সংখ্যা, দায়িত্ব এবং দায়িত্বের সীমা নির্ধারণ করা হয়। - নির্বাচনী পরিবেশ সুরক্ষা ও সহিংসতা প্রতিরোধ
সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সমন্বয় ব্যস্থার উন্নয়ন। - নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা
ভোট চলাকালীন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিভাবে একত্রে কাজ করবে, তা নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গৃহীত হয়।
পূর্ববর্তী প্রস্তুতিমূলক বৈঠকের প্রেক্ষাপট
এর আগে, ২০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে প্রথম দফার প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই বৈঠকে আসন্ন নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা কৌশল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছিল।
এবারের বৈঠকে সেই আলোচনা আরও বিস্তারিতভাবে বাস্তবায়নের বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে। ইসি জানিয়েছে, তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচনী নিরাপত্তা, ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি এবং দায়িত্ব ভাগাভাগি সহ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের জন্য এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি
নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে:
- পুলিশ: ভোটকেন্দ্রের চারপাশে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা এবং ভোটারদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
- বিজিবি: সীমান্ত ও নির্বাচনী অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সম্ভাব্য উত্তেজনা মোকাবিলা করবে।
- র্যাব ও কোস্টগার্ড: নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধ, সন্ত্রাস ও সহিংসতার ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
- আনসার ও গ্রাম পুলিশ: স্থানীয় পর্যায়ে ভোটারদের সহায়তা, তথ্য সংগ্রহ এবং ভোটকেন্দ্রে সমন্বয় কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিকল্পনার গুরুত্ব
বাংলাদেশে নির্বাচনের সময় সহিংসতা, প্রতারণা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা হুমকির সম্ভাবনা থাকে। তাই এই ধরনের প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক বৈঠক নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- ভোটারদের নিরাপদ ভোটাধিকার নিশ্চিত করা
- নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সুষ্ঠু পরিবেশে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা
- রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য নিরাপদ ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা
বিশেষ গুরুত্ব
- ইসি জানায়, বৈঠকে ভোটের আগে ও পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি এবং তাদের দায়িত্বকাল নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হতে পারে।
- ভোটকেন্দ্রে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সমন্বয় ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইসি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই বৈঠক নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই বৈঠকের ফলাফল নির্বাচনকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং প্রতিযোগিতামূলক করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।