দীর্ঘ প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর গাজা উপত্যকা ও মিসরের মধ্যকার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং আংশিকভাবে খুলে দিয়েছে ইসরাইল। এটি ‘পাইলট অপারেশন’ বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম হিসেবে শুরু হয়েছে।
সীমিত সংখ্যক মানুষের চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতির পর এটি গাজা সংকটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতিগুলোর একটি।
কবে থেকে চলাচল শুরু হচ্ছে
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনোথ জানিয়েছে, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) থেকে সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত শুরু হতে পারে। প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ জন গাজাবাসী বাইরে যেতে পারবেন। একই সময়ে প্রায় ৫০ জন গাজায় প্রবেশের সুযোগ পাবেন।
কেন বন্ধ ছিল রাফাহ সীমান্ত
২০২৪ সালের মে মাসে ইসরাইলি বাহিনী রাফাহ সীমান্ত ক্রসিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর পর থেকেই এটি কার্যত বন্ধ ছিল। ফলে গাজার সাধারণ মানুষের জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানবিক সহায়তা প্রবেশেও বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়।
কোগাটের বক্তব্য ও রোগীদের অবস্থা
ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসামরিক সংস্থা কোগাট জানিয়েছে, আপাতত সীমিত সংখ্যক মানুষের জন্যই সীমান্ত খুলেছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্তত ২০০ জন রোগী জরুরি চিকিৎসার অপেক্ষায় আছেন। তারা গাজা ছাড়ার অনুমতির জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছেন।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের আগমন
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৪০ জন কর্মকর্তা গাজায় দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিয়েছেন।
তারা ইতোমধ্যে মিসরের অংশে পৌঁছেছেন।
ইসরাইল জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম চলছে।
মিসরের সঙ্গেও সমন্বয় করা হচ্ছে।
মরদেহ উদ্ধারের পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন
এর আগে ইসরাইল শর্ত দিয়েছিল, এক ইসরাইলি সেনার মরদেহ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত সীমান্ত খুলবে না।সম্প্রতি রান গভিলির মরদেহ উদ্ধার ও দাফন সম্পন্ন হয়।
এর পরই সীমান্ত আংশিকভাবে খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কোগাট এটিকে প্রাথমিক ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘের আহ্বান
জাতিসংঘ রাফাহ সীমান্ত পুরোপুরি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
তারা বলছে, মানবিক সহায়তার পাশাপাশি বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনও জরুরি।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানান, সহায়তা প্রবেশে এখনও বিলম্ব হচ্ছে।
কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।
তারপরও রাফাহ সীমান্ত আংশিকভাবে খুলে দেওয়াকে ইতিবাচক পদক্ষেপ বলা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি গাজা সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড





