গর্ভধারণ প্রতিটি নারীর জীবনে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। তবে এই শুভ সংবাদ জানার আগে প্রতিটি নারীই কিছু শারীরিক ও মানসিক লক্ষণের (গর্ভধারণের লক্ষণ) মধ্য দিয়ে যান, যা তাদের মনে প্রশ্নের জন্ম দেয়। আর্লি প্রেগন্যান্সির লক্ষণগুলো সাধারণত অনেক সূক্ষ্ম হয় এবং অনেক সময় মাসিক বা সাধারণ অসুস্থতার লক্ষণের সাথে ভুল হতে পারে। তবে সঠিক নিশ্চিতকরণের জন্য প্রেগনেন্সি টেস্ট করানো জরুরি।
গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ কত দিন পর বোঝা যায়
ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার পর থেকে হরমোনের পরিবর্তন শুরু হলেও, অধিকাংশ নারীর ক্ষেত্রে গর্ভধারণের লক্ষণ সাধারণত ডিম্বস্ফোটনের এক থেকে দুই সপ্তাহ পর অথবা মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার কাছাকাছি সময়ে প্রথম দেখা যেতে পারে। ইমপ্লান্টেশন (ডিম্বাণু জরায়ুতে প্রতিস্থাপন) হওয়ার পর এই লক্ষণগুলো ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়।
কখন প্রেগন্যান্সি টেস্ট করানো উচিত?
প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা উচিত সাধারণত মাসিক বন্ধ হওয়ার একদিন পর থেকে। হোম প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটগুলি এই সময় সবচেয়ে নির্ভুল ফল দেয়, কারণ এই সময়ের মধ্যে প্রস্রাবে HCG (Human Chorionic Gonadotropin) হরমোনের মাত্রা যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি পায়।
গর্ভবতী হওয়ার ১ সপ্তাহ বা আর্লি প্রেগন্যান্সির প্রধান লক্ষণ | প্রেগনেন্সি সপ্তাহের লক্ষণ
যদিও চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় প্রেগন্যান্সির সময় গণনা শেষ মাসিকের প্রথম দিন থেকে শুরু হয়, কিন্তু নিষিক্তকরণের (Conception) পর প্রথম সপ্তাহে শরীরে যে সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো আসে, তা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. হালকা তলপেটে টান বা ব্যথা
গর্ভধারণের একদম শুরুতে ডিম্বাণু যখন জরায়ুর দেওয়ালে প্রতিস্থাপিত হয়, তখন তলপেটে হালকা টান বা মোচড় দেওয়ার মতো ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
২. স্তনে চাপ বা সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি
হরমোনের মাত্রা দ্রুত বাড়ার কারণে স্তন ভারী ও ফোলা লাগতে পারে এবং স্পর্শের প্রতি সংবেদনশীলতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে।
৩. অবসাদ ও অতিরিক্ত ঘুম ভাব
প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ঘুম ভাব দেখা দিতে পারে।
৪. সামান্য স্পটিং (ইমপ্লান্টেশন ব্লিডিং)
নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুর আস্তরণে প্রতিস্থাপনের সময় হালকা রক্তক্ষরণ হতে পারে, যা ইমপ্লান্টেশন ব্লিডিং নামে পরিচিত। এটি সাধারণত স্বাভাবিক মাসিকের চেয়ে হালকা ও কম সময়ের জন্য হয়।
৫. বমিভাব বা গা ঘিনঘিন করা
সকাল বা দিনের যেকোনো সময় সামান্য বমিভাব বা গা ঘিনঘিন করার অনুভূতি তৈরি হতে পারে।
প্রেগন্যান্সির শুরুর সাধারন লক্ষণ
মাসিক বন্ধ হওয়ার পর বা বন্ধের কাছাকাছি সময়ে যে লক্ষণগুলো সবচেয়ে বেশি দেখা যায়:
১. মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া
নির্দিষ্ট সময়ে মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া গর্ভধারণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সাধারণ লক্ষণ।
২. সকাল বেলা বমি বা বমি বমি ভাব (Morning Sickness)
যদিও একে ‘মর্নিং সিকনেস’ বলা হয়, কিন্তু দিনের যেকোনো সময় বমি বা বমি বমি ভাব আসতে পারে। এটি HCG হরমোনের বৃদ্ধির কারণে ঘটে।
৩. ঘন ঘন প্রস্রাব
কিডনিতে রক্তপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় এবং জরায়ু মূত্রাশয়ের ওপর চাপ দেওয়ায় ঘন ঘন প্রস্রাব করার প্রবণতা দেখা যায়।
৪. স্তনে ব্যথা বা ফুলে যাওয়া
স্তনের চারপাশে শিরাগুলি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে এবং স্তনবৃন্তের অংশ কালচে হতে পারে।
৫. অস্বাভাবিক ক্লান্তি
শরীরের ক্লান্তি এতোটাই তীব্র হতে পারে যে স্বাভাবিক কাজকর্মেও বাধা সৃষ্টি হয়।
প্রেগন্যান্সির অতিরিক্ত লক্ষণ
প্রাথমিক লক্ষণের পাশাপাশি অনেক নারীর মধ্যে কিছু অতিরিক্ত লক্ষণও দেখা যায়:
৬. খাবারে অরুচি বা নতুন খাদ্যের প্রতি আকর্ষণ
৭. মুড সুইং / সহজে আবেগপ্রবণ হওয়া
৮. মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগা
রক্তচাপের পরিবর্তনের কারণে মাথা ঘোরা বা সামান্য দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে।
৯. শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাওয়া
গর্ভধারণের পর শরীরের বেসাল তাপমাত্রা (Basal Body Temperature) সামান্য পরিমাণে বেড়ে যায়।
১০. হালকা রক্তপাত (Implantation bleeding)
এটি মাসিক বন্ধ হওয়ার আগেই ঘটে থাকে।
গর্ভধারণের কম প্রচলিত লক্ষণ
কিছু লক্ষণ সব নারীর মধ্যে দেখা যায় না, তবে এগুলোও গর্ভাবস্থার ইঙ্গিত হতে পারে:
১১. পেট মোচড়ানো বা পেট ভারী লাগা
১২. কোষ্ঠকাঠিন্য বৃদ্ধি
হরমোনের প্রভাবে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যাওয়ায় এই সমস্যা দেখা দেয়।
১৩. ঘ্রাণ শক্তি বৃদ্ধি
কিছু নারীর ক্ষেত্রে সুগন্ধি বা খাবারের গন্ধের প্রতি অসহনীয়তা বা সংবেদনশীলতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে।
১৪. ঘুমের সমস্যা
অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকা সত্ত্বেও রাতে ঘুম না আসার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়ার উপায়
লক্ষণগুলো কেবলই ইঙ্গিত, নিশ্চিত হওয়ার জন্য নিম্নলিখিত পরীক্ষাগুলো করানো জরুরি:
১. হোম প্রেগনেন্সি টেস্ট (HCG Test)
ফার্মেসিতে পাওয়া ইউরিন কিট ব্যবহার করে মাসিক বন্ধের পর সকালে প্রথম প্রস্রাব দিয়ে টেস্ট করা সবচেয়ে সহজ ও দ্রুততম উপায়।
২. রক্ত পরীক্ষা (Beta HCG Blood Test)
এটি আরও নির্ভুল পরীক্ষা। রক্তে HCG হরমোনের উপস্থিতি ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়, যা গর্ভধারণের একদম শুরুতেই পজিটিভ ফলাফল দিতে পারে।
৩. আল্ট্রাসনোগ্রাফি
রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পর ৫ থেকে ৭ সপ্তাহের মধ্যে জরায়ুতে ভ্রূণ এবং হার্টবিট নিশ্চিত করতে এটি করা হয়।
সুস্থ প্রেগন্যান্সির লক্ষণ
গর্ভধারণের পর যদি লক্ষণগুলো স্বাভাবিক থাকে এবং রক্তপাত বা তীব্র ব্যথা না থাকে, পাশাপাশি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক থাকে, তবে তা সুস্থ প্রেগন্যান্সির লক্ষণ। যেমন: স্বাভাবিক মর্নিং সিকনেস, নিয়মিত ওজন বৃদ্ধি এবং স্বাভাবিক ক্লান্তি।
২য় বার গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ
দ্বিতীয়বারের গর্ভধারণে লক্ষণগুলো প্রথমবারের চেয়ে দ্রুত ও তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে তলপেটে চাপ, ক্লান্তি এবং স্তনের সংবেদনশীলতা দ্রুত অনুভূত হতে পারে। আবার, অভিজ্ঞতার কারণে মানসিক চাপ কম থাকায় কিছু লক্ষণ অস্পষ্টও মনে হতে পারে।
ইমপ্লান্টেশন ব্লিডিং ও পিরিয়ডের পার্থক্য
| বৈশিষ্ট্য | ইমপ্লান্টেশন ব্লিডিং | মাসিক রক্তক্ষরণ (পিরিয়ড) |
| সময় | প্রত্যাশিত মাসিকের ৫-১০ দিন আগে। | প্রত্যাশিত সময়ে। |
| রক্তের রঙ | হালকা গোলাপী বা বাদামী। | উজ্জ্বল লাল। |
| প্রবাহ | খুব হালকা স্পটিং, কয়েক ঘণ্টা বা ১-২ দিন স্থায়ী। | ভারী থেকে মাঝারি প্রবাহ, ৩-৭ দিন স্থায়ী। |
| ব্যথা | হালকা মোচড়ানো বা টান। | মাঝারি থেকে তীব্র তলপেটে ব্যথা (ক্র্যাম্প)। |
পিরিয়ডের লক্ষণ বনাম গর্ভাবস্থার লক্ষণ
মাসিক বা পিরিয়ড শুরুর আগের লক্ষণ (যেমন স্তন ব্যথা, মুড সুইং, ক্লান্তি) এবং গর্ভাবস্থার শুরুর লক্ষণগুলো প্রায় একই রকম হতে পারে। তবে গর্ভাবস্থার লক্ষণগুলি সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং মাসিক বন্ধ হয়ে যায়।
গর্ভধারণের লক্ষণ দেখা দিলে কী করবেন?
গর্ভাবস্থার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত:
- অতিরিক্ত মানসিক চাপ নেবেন না: দুশ্চিন্তা এড়িয়ে চলুন এবং মন শান্ত রাখুন।
- ভারী কাজ এড়িয়ে চলুন: বিশেষ করে ইমপ্লান্টেশন হওয়ার পর ভারী জিনিস তোলা বা অতিরিক্ত পরিশ্রম করা থেকে বিরত থাকুন।
- নিয়মিত পানি পান করুন: শরীরকে ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা করুন।
- প্রয়োজন হলে ডাক্তার বা গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন: নিশ্চিত হওয়ার জন্য এবং সঠিক পরামর্শের জন্য দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
- ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ শুরু করুন: গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ কথা
গর্ভধারণের লক্ষণ বোঝা কেবল মানসিক প্রস্তুতির জন্য নয়, বরং মা ও শিশুর নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্যেও গুরুত্বপূর্ণ। আর্লি প্রেগন্যান্সির লক্ষণগুলো প্রায়শই অস্পষ্ট হলেও, এই লক্ষণগুলি দেখা দিলে দ্রুত হোম প্রেগন্যান্সি টেস্ট বা ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখবেন, গর্ভধারণের লক্ষণ দেখা দেওয়া মানেই নিশ্চিত হওয়া নয়, বরং নিশ্চিতকরণের জন্য বিজ্ঞানসম্মত পরীক্ষার মাধ্যমে ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে থাকা অত্যাবশ্যক।
গর্ভধারণ সম্পর্কে জনপ্রিয় প্রশ্নোত্তর (FAQ)
গর্ভধারণ করলে কি শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়?
হ্যাঁ, গর্ভধারণের পর প্রোজেস্টেরন হরমোনের প্রভাবে শরীরের বেসাল তাপমাত্রা (Basal Body Temperature) সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
সহবাসের কত দিন পরে বাচ্চা পেটে আসে?
সাধারণত সহবাসের পর শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন (নিষিক্তকরণ) হলে ৬ থেকে ১২ দিনের মধ্যে ডিম্বাণুটি জরায়ুর দেওয়ালে প্রতিস্থাপিত হয় (Implantation)। এর পর থেকে গর্ভাবস্থা শুরু হয়।
কত সপ্তাহে টেস্ট করলে গর্ভবতী বোঝা যায়?
মাসিক বন্ধ হওয়ার প্রথম দিন বা প্রথম সপ্তাহের মধ্যে টেস্ট করলে (বিশেষ করে প্রস্রাবে HCG টেস্ট) গর্ভবতী কিনা, তা বোঝা যায়।
।সাদা স্রাব কি গর্ভধারণের লক্ষণ হতে পারে?
হ্যাঁ। গর্ভাবস্থার শুরুতে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে সাদা স্রাবের পরিমাণ বাড়তে পারে। এটি স্বাভাবিকের চেয়ে ঘন ও দুধের মতো সাদা হতে পারে।
আমি পেগনেট কিভাবে বুঝব?
মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, স্তনে সংবেদনশীলতা এবং ক্লান্তি—এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে হোম প্রেগন্যান্সি টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।
২ সপ্তাহের গর্ভাবস্থার লক্ষণ?
২ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায় কোনো লক্ষণ সাধারণত দেখা যায় না, কারণ এ সময় কেবল ডিম্বস্ফোটন হয়ে থাকে (শেষ মাসিকের দিন থেকে গণনা করলে)। নিষিক্তকরণের পর লক্ষণ শুরু হয়।
ছয় সপ্তাহের গর্ভধারণের লক্ষণগুলো কী কী?
ছয় সপ্তাহে সাধারণত মর্নিং সিকনেস, তীব্র ক্লান্তি, ঘন ঘন প্রস্রাব, এবং স্তন ব্যথা স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
গর্ভবতী হওয়ার ৫ম সপ্তাহে কী কী লক্ষণ দেখা যায়?
৫ম সপ্তাহে মাসিক বন্ধ হয়ে যায়, HCG হরমোনের কারণে বমি বমি ভাব এবং ক্লান্তি তীব্র হতে শুরু করে।
সহবাসের পর পিরিয়ড হলে কি বাচ্চা হতে পারে?
না। সহবাসের পর স্বাভাবিক পিরিয়ড হলে এর অর্থ জরায়ুর আস্তরণ ঝরে গেছে, যা গর্ভধারণ না হওয়ার প্রমাণ।
কোন ধরনের মিলন করলে পেটে বাচ্চা আসে?
যেকোনো ধরনের যৌন মিলনে যদি শুক্রাণু যোনিপথে প্রবেশ করে এবং ডিম্বস্ফোটন হয়, তবেই গর্ভধারণ হতে পারে।
কত দিন মাসিক না হলে গর্ভবতী হয়?
সাধারণত প্রত্যাশিত মাসিকের তারিখের এক সপ্তাহ বা তার বেশি দিন দেরি হলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকে।
মাসিক হলে কি প্রেগন্যান্ট হয়?
না, মাসিক হওয়া মানেই গর্ভধারণ না হওয়া। তবে গর্ভাবস্থার শুরুতে ইমপ্লান্টেশন ব্লিডিং হতে পারে, যা মাসিকের চেয়ে অনেক হালকা।
গর্ভধারণের লক্ষণ কত দিনের মধ্যে দেখা যায়?
নিষিক্তকরণের পর ৬ থেকে ১২ দিনের মধ্যে অর্থাৎ মাসিক বন্ধ হওয়ার আশেপাশে লক্ষণ দেখা যেতে পারে।
প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার ঘরোয়া পদ্ধতি কী?
প্রেগন্যান্সি টেস্টের ঘরোয়া পদ্ধতির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। সঠিক ফলের জন্য কেবল ফার্মেসিতে পাওয়া ইউরিন কিট বা রক্ত পরীক্ষা ব্যবহার করা উচিত।
পিরিয়ড হওয়ার আগে যোনিপথ কেমন থাকে?
পিরিয়ড হওয়ার আগে যোনিপথের আশেপাশে সাধারণত শুষ্ক ও আঁটসাঁট মনে হতে পারে।
যোনি দিয়ে পানি কেন বের হয়?
যোনি দিয়ে পানি বের হওয়া স্বাভাবিক স্রাব হতে পারে, যা হরমোনের পরিবর্তন (যেমন গর্ভাবস্থা) বা সংক্রমণের কারণেও হতে পারে।
সাদা স্রাব হলে কি ওযু ভেঙে যায়?
হ্যাঁ, সাদা স্রাব বের হলে ওযু ভেঙে যায় এবং তা পরিষ্কার করতে হয়।
বাচ্চা পেটে আসার লক্ষণগুলো কী কী?
বাচ্চা পেটে আসার প্রধান লক্ষণগুলো হলো: মাসিক বন্ধ হওয়া, বমি বমি ভাব, ঘন ঘন প্রস্রাব ও ক্লান্তি।
গর্ভবতী হলে সাদা স্রাব কেমন দেখায়?
গর্ভবতী হলে সাদা স্রাব সাধারণত পাতলা, দুধের মতো সাদা এবং গন্ধহীন হতে পারে।
মাসিকের লক্ষণ কী কী?
মাসিকের লক্ষণ হলো: তলপেটে তীব্র ক্র্যাম্পিং বা ব্যথা, স্তনে ব্যথা, মুড সুইং, এবং মেজাজের পরিবর্তন।
বাচ্চা কনসিভ করলে কিভাবে বুঝা যায়?
বাচ্চা কনসিভ করলে মাসিক বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রেগন্যান্সি টেস্ট পজিটিভ আসে।
কনসিভ করলে কি পেট ফুলে যায়?
হ্যাঁ, কনসিভ করলে হরমোনের কারণে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যাওয়ায় পেটে গ্যাস ও ফোলাভাব অনুভূত হতে পারে।
গর্ভাবস্থা পরীক্ষা কত দিনের মধ্যে করা যায়?
মাসিক মিস হওয়ার এক সপ্তাহ পর পরীক্ষা করা সবচেয়ে ভালো।
গর্ভাবস্থায় শরীরের তাপমাত্রা কেমন থাকে?
শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য বেশি থাকে।
গর্ভাবস্থায় শরীরের তাপমাত্রা কত হওয়া উচিত?
গর্ভাবস্থায় শরীরের তাপমাত্রা সাধারণত $37.0°C$ থেকে $37.8°C$ এর মধ্যে থাকতে পারে, যা স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে সামান্য বেশি।
শরীরের তাপমাত্রা বেশি হলে কি গর্ভবতী হয়?
বেসাল শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকা ডিম্বস্ফোটন এবং গর্ভধারণ উভয়েরই ইঙ্গিত হতে পারে।
প্রেগন্যান্সিতে জ্বর হলে কি করব?
প্রেগন্যান্সিতে জ্বর হলে দ্রুত ডাক্তার বা গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। সাধারণ ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।
গর্ভধারণের লক্ষণ কখন দেখা যায়?
সাধারণত মাসিক বন্ধ হওয়ার আশেপাশের দিনগুলো থেকে।
মাসিক হলে কি প্রেগন্যান্ট হয়?
না।
তলপেটে ব্যথা কি প্রেগন্যান্সির লক্ষণ?
হ্যাঁ, হালকা তলপেটে মোচড়ানো বা টান গর্ভাবস্থার প্রথম দিকের (ইমপ্লান্টেশন) লক্ষণ হতে পারে।
গর্ভধারণের প্রথম লক্ষণ কবে থেকে দেখা যায়?
নিষিক্ত হওয়ার ৬ থেকে ১২ দিন পর থেকে।
সব লক্ষণ কি সবার ক্ষেত্রে দেখা যায়?
না, সব লক্ষণ সবার ক্ষেত্রে দেখা যায় না। প্রতিটি নারীর শরীর আলাদাভাবে সাড়া দেয়।
মাসিক বন্ধ না হলেও কি গর্ভধারণ হতে পারে?
খুব বিরল ক্ষেত্রে বা ইমপ্লান্টেশন ব্লিডিংকে ভুল করে মাসিক মনে করলে এমন হতে পারে। তবে সঠিক মাসিকের সময় গর্ভধারণ সম্ভব নয়।
হোম প্রেগনেন্সি টেস্ট ভুল দেখাতে পারে?
হ্যাঁ, সময়ের আগে পরীক্ষা করলে বা কিট সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে ভুল ফল দেখাতে পারে।
গর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়ার আগে কোন খাবার এড়ানো উচিত?
গর্ভাবস্থায় ক্ষতিকারক হতে পারে এমন খাবার, যেমন কাঁচা মাছ/মাংস, ভালোভাবে রান্না না করা খাবার, অতিরিক্ত ক্যাফেইন এবং অ্যালকোহল এড়ানো উচিত।