সব ধরনের ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম খুব শিগগিরই স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সিলেটস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনের সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাব-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।
মেডিকেল ও ডাবল এন্ট্রি ভিসা চালু, আসছে আরও ক্যাটাগরি
অনিরুদ্ধ দাস জানান, বর্তমানে মেডিকেল ও ডাবল এন্ট্রি ভিসা প্রদান কার্যক্রম চালু রয়েছে। একইসঙ্গে ভ্রমণ ভিসাসহ অন্যান্য ক্যাটাগরির ভিসা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ সহজ করতে ভিসা কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
সম্পর্ক জোরদারে ভারতের অঙ্গীকার
সহকারী হাই কমিশনার বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে যে সাময়িক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব ভিসা কার্যক্রমে পড়েছিল। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উভয় পক্ষই আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন,
“পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের ভিত্তিতেই ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত। দুই দেশের জনগণই হবে একটি স্থিতিশীল, ইতিবাচক ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের প্রধান অংশীদার।”
ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনায় একসঙ্গে পথচলা
বাংলাদেশ ও ভারতের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও চিন্তা-চেতনায় গভীর মিল রয়েছে উল্লেখ করে অনিরুদ্ধ দাস বলেন, ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক নৈকট্য এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনায় রূপ দেওয়া সম্ভব।
তিনি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
সিলেট–উত্তর-পূর্ব ভারতের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা সিলেট ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং কানেক্টিভিটি বৃদ্ধির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।
একইসঙ্গে ভারত সরকারের ‘এইড টু বাংলাদেশ’ এবং ‘এলওসি’ (লাইন অব ক্রেডিট) প্রকল্পের আওতায় সিলেট অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আরও প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
সভার আয়োজন ও উপস্থিতি
সভায় সভাপতিত্ব করেন মঈন উদ্দিন এবং সঞ্চালনা করেন মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনের কর্মকর্তাসহ সিলেটের বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা।





