তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব, নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার তুলে ধরে একটি নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা উপস্থাপন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ও ১১ দলীয় জোট প্রার্থীদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।
সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে একযোগে সম্প্রচারিত ১৮ মিনিটের ভাষণে জামায়াত আমির বলেন, জনগণ পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহারে পাঁচটি বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ এবং পাঁচটি বিষয়ে ‘না’ বলার আহ্বান জানানো হয়েছে। সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানে ‘হ্যাঁ’ এবং দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজিতে ‘না’ বলার মধ্য দিয়েই বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভাষণে তিনি জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করে বলেন, জনগণ আর রাস্তায় নামতে চায় না; তারা চায় এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে ভোটাধিকার, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত থাকবে। তার মতে, তরুণরাই হবে আগামীর বাংলাদেশের চালিকাশক্তি-তারাই রাষ্ট্র পরিচালনার ককপিটে বসবে।
নারী সমাজের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, যে সমাজ নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, সে সমাজ কখনো সমৃদ্ধ হতে পারে না। ক্ষমতায় গেলে নারীরা ঘর ও সমাজ-উভয় ক্ষেত্রেই নেতৃত্বের আসনে সম্মানের সঙ্গে অংশ নেবেন বলে তিনি অঙ্গীকার করেন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা, বিচারব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে মৌলিক সংস্কার ছাড়া দেশ এগোতে পারবে না। একই সঙ্গে প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষা, রোহিঙ্গা সংকটের কূটনৈতিক সমাধান এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমতা ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন।
ভাষণের শেষাংশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব কোনো ভোগের বিষয় নয়, এটি আমানত। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ নামের উড়োজাহাজটি তোমরাই চালাবে- তোমরাই হবে ক্যাপ্টেন।”





