ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে গঠিত হয়েছে নতুন মন্ত্রিপরিষদ, যেখানে দলের জ্যেষ্ঠ ও ত্যাগী নেতাদের পাশাপাশি জায়গা পেয়েছেন অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিত্বরাও।
নতুন মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট কোটায় দায়িত্ব পাওয়া উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম বিশিষ্ট কূটনীতিক ও অর্থনীতিবিদ ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
এর আগে ড. খলিলুর রহমান ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচিত সরকার গঠনের পর অন্তর্বর্তী সরকার বিলুপ্ত হলেও তাঁর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান–এর নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আন্তর্জাতিক পরিসরে দীর্ঘ কর্মজীবন
ড. খলিলুর রহমান ১৯৭৯ সালে সিভিল সার্ভিসে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি দক্ষিণ এশিয়া বিভাগে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৫ সালে তিনি জাতিসংঘ–এ বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে যোগ দেন। সেখানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অর্থনৈতিক ও আর্থিক কমিটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯১ সালে তিনি জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনে (UNCTAD) বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত হন। পরবর্তীতে নিউইয়র্ক ও জেনেভায় জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
নীতিনির্ধারণ ও গবেষণায় অবদান
জাতিসংঘের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন ও ফ্ল্যাগশিপ প্রকাশনার প্রধান রচয়িতা ছিলেন ড. খলিলুর রহমান। ২০০১ সালে ব্রাসেলস সম্মেলনে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর কর্মসূচি (Programme of Action) প্রণয়নে নেতৃত্ব দেন তিনি।
তিনি ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়–এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমানে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য। একই বছর তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি লতিফুর রহমানের একান্ত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
জাতীয় ও বৈশ্বিক সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রোহিঙ্গা সংকটসহ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাই রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে কাজ করেন ড. খলিলুর রহমান। পরে তাঁকে একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়, যেখানে তিনি উপদেষ্টার মর্যাদা ও সংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা বিষয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ড. খলিলুর রহমানের অন্তর্ভুক্তি নতুন মন্ত্রিসভাকে আরও শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ করবে।





