শুক্রবার, জানুয়ারি ৯, ২০২৬

লিভার সুস্থ রাখার উপায়: প্রতিরোধ, খাবার ও চিকিৎসা | যকৃৎ পরিচর্যা

বহুল পঠিত

আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো লিভার বা যকৃৎ। এটি আমাদের রক্ত পরিশোধন, খাদ্য হজম এবং শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। সুস্থ লিভার একটি সুস্থ জীবনের মূলভিত্তি। কিন্তু আধুনিক জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং পরিবেশগত দূষণের কারণে লিভারের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এই নিবন্ধে আমরা লিভার সুস্থ রাখার উপায়, প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

লিভারের গুরুত্ব এবং কার্যাবলী

লিভার আমাদের শরীরের দ্বিতীয় বৃহত্তম অঙ্গ যা প্রায় ১.৫ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। এটি পেটের ডান দিকে ডায়াফ্রামের নিচে অবস্থিত। লিভার প্রায় ৫০০ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করে থাকে। এর মধ্যে রক্ত পরিশোধন, বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ, পুষ্টি উপাদান সংরক্ষণ, হরমোন উৎপাদন এবং রক্তের জমাট বাঁধা নিয়ন্ত্রণ অন্তর্ভুক্ত। লিভার গ্লুকোজ শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং অতিরিক্ত শক্তি গ্লাইকোজেন হিসেবে সংরক্ষণ করে। এটি প্রোটিন, ফ্যাট এবং কার্বোহাইড্রেট হজমে সাহায্য করে এবং ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ সংরক্ষণ করে। লিভার বিলিরুবিন নামক পদার্থ উৎপাদন করে যা লাল রক্তকণিকা ভাঙ্গার ফলে সৃষ্ট হয়। এই বিলিরুবিন পিত্তরসের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। লিভার সুস্থ না থাকলে এই সব কাজ ব্যাহত হয় এবং শরীরে নানা রকম জটিলতা দেখা দেয়।

লিভার রোগের প্রধান কারণ ও লক্ষণ

লিভার রোগের অনেকগুলো কারণ রয়েছে। মদ্যপান এর অন্যতম প্রধান কারণ। অতিরিক্ত মদ্যপান লিভারের কোষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ফ্যাটি লিভার, অ্যালকোহলিক হেপাটাইটিস ও সিরোসিস রোগের সৃষ্টি করে। ভাইরাল হেপাটাইটিস (হেপাটাইটিস এ, বি, সি) লিভারের প্রদাহের আরেকটি প্রধান কারণ। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও অতিরিক্ত ওজন নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজের কারণ হতে পারে। কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, জেনেটিক সমস্যা এবং অটোইমিউন ডিজিজও লিভারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। লিভার রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো হলো: ক্লান্তি, অস্বস্তিকর অনুভূতি, ক্ষুধামন্দা, ওজন হ্রাস, পেটের ডান দিকে ব্যথা, চামড়া ও চোখের সাদা অংশের হলুদ হওয়া (জন্ডিস), গাঢ় রঙের প্রস্রাব, ফ্যাকাশে মল, পেট ফোলা, পা ফোলা, চামড়ায় চুলকানি ইত্যাদি। এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

লিভার সুস্থ রাখার খাদ্যাভ্যাস

সুস্থ লিভার রাখার জন্য সঠিক খাদ্যাভ্যাস অপরিহার্য। প্রথমেই প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত কারণ এটি লিভারকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে। সবুজ শাকসবজি, ফলমূল, সম্পূর্ণ শস্য এবং আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত। ব্রোকোলি, ফুলকপি, পালংশাক, পেঁপে, আপেল, বেরি, আঙুর, লেবু এবং অন্যান্য সাইট্রাস ফল লিভারের জন্য খুবই উপকারী। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার যেমন রসুন, পেঁয়াজ, গ্রিন টি, কফি লিভারের স্বাস্থ্য রক্ষায় সাহায্য করে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার যেমন মাছ, আখরোট, চিয়া বীজ ইত্যাদি লিভারের ফ্যাট জমতে বাধা দেয়। অতিরিক্ত লবণ, চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্টফুড এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। অ্যালকোহল পুরোপুরি বর্জন করা লিভারের জন্য সবচেয়ে ভালো। নিয়মিত খাবার খেতে হবে এবং রাতে ভারী খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত।

লিভার সুস্থ রাখার জীবনযাপন

সুস্থ লিভার রাখার জন্য শুধু সঠিক খাদ্যাভ্যাসই যথেষ্ট নয়, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম লিভারের স্বাস্থ্য রক্ষায় সাহায্য করে। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি তীব্রতার ব্যায়াম করা উচিত। হাঁটা, দৌড়ানো, সাঁতার, সাইকেল চালানো ইত্যাদি উপকারী ব্যায়াম। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ অতিরিক্ত ওজন ফ্যাটি লিভার ডিজিজের ঝুঁকি বাড়ায়। ধূমপান পুরোপুরি বর্জন করা উচিত কারণ এটি লিভারের ক্ষতি করে এবং লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম আবশ্যক। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত কারণ দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ লিভারের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। যোগ, ধ্যান, শখ বা আনন্দদায়ক কাজে সময় কাটানো মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত যাতে লিভারের কোনো সমস্যা থাকলে তা প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়ে।

লিভার রোগ প্রতিরোধের উপায়

লিভার রোগ প্রতিরোধ করা চিকিৎসার চেয়ে অনেক সহজ এবং কার্যকর। প্রথমত, হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসের টিকা নেওয়া উচিত। হেপাটাইটিস বি-এর টিকা সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যারা মেডিকেল পেশায় আছেন বা যাদের লিভার রোগের ঝুঁকি বেশি। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত, যেমন হাত ধোয়া, নিজস্ব শেভিং কিট ও টুথব্রাশ ব্যবহার করা, সুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক বজায় রাখা ইত্যাদি। অন্যের রক্ত বা শরীরের তরল পদার্থের সংস্পর্শে আসা এড়িয়ে চলা উচিত। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত কারণ এতে হেপাটাইটিস এ ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া উচিত নয় এবং ওষুধের ডোজ মেনে চলা আবশ্যক। কিছু হারবাল ওষুধ ও পরিপূরক খাবার লিভারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, তাই এগুলো সেবনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

লিভার রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি

লিভার রোগের চিকিৎসা রোগের ধরন ও তীব্রতার উপর নির্ভর করে। ফ্যাটি লিভার ডিজিজের ক্ষেত্রে জীবনযাপনের পরিবর্তন, ওজন হ্রাস, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়াম প্রধান চিকিৎসা। হেপাটাইটিস এ-এর ক্ষেত্রে বিশ্রাম, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ এবং লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা প্রয়োজন। হেপাটাইটিস বি ও সি-এর জন্য অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ব্যবহার করা হয়। অ্যালকোহলিক লিভার ডিজিজের জন্য সবার আগে অ্যালকোহল পুরোপুরি বর্জন করতে হবে। লিভার সিরোসিসের জন্য রোগের জটিলতা অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়, যেমন পানি জমা পড়লে ডাইইউরেটিক ওষুধ, ভেরিস রক্তক্ষরণ হলে বেটা ব্লকার ওষুধ, এনসেফালোপ্যাথি হলে ল্যাকটুলোজ ওষুধ দেওয়া হয়। লিভার ক্যান্সারের জন্য সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি বা ইমিউনোথেরাপি ব্যবহার করা হয়। গুরুতর লিভার রোগের ক্ষেত্রে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট একমাত্র সমাধান হতে পারে। লিভার ট্রান্সপ্লান্ট একটি জটিল সার্জিকাল পদ্ধতি যেখানে রোগীর ক্ষতিগ্রস্ত লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়।

লিভারের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ডায়াগনোসিস

লিভারের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা রয়েছে। লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT) একটি রক্ত পরীক্ষা যা লিভারের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে। এই পরীক্ষায় এলানাইন ট্রান্সঅ্যামিনেজ (ALT), অ্যাসপার্টেট ট্রান্সঅ্যামিনেজ (AST), আলকালাইন ফসফেটেজ (ALP), বিলিরুবিন, অ্যালবুমিন এবং টোটাল প্রোটিনের মাত্রা পরিমাপ করা হয়। আল্ট্রাসাউন্ড একটি নন-ইনভেসিভ পদ্ধতি যা লিভারের গঠন, আকার এবং কোনো টিউমার বা সিস্ট আছে কিনা তা দেখতে সাহায্য করে। সিটি স্ক্যান বা এমআরআই আরও বিস্তারিত চিত্র প্রদান করে এবং লিভারের ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণে সাহায়তা করে। লিভার বায়োপসি একটি ইনভেসিভ পদ্ধতি যেখানে লিভারের একটি ছোট টিস্যু নমুনা নিয়ে মাইক্রোস্কোপের নিচে পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষা লিভারের প্রদাহ, ফাইব্রোসিস বা সিরোসিসের মাত্রা নির্ধারণে সাহায্য করে। ফাইব্রোস্ক্যান একটি বিশেষ ধরনের আল্ট্রাসাউন্ড যা লিভারের ফাইব্রোসিস বা স্কেরিং মাত্রা নির্ধারণে সাহায্য করে। হেপাটাইটিস ভাইরাসের জন্য বিশেষ রক্ত পরীক্ষা করা হয় যা ভাইরাল লোড এবং জিনোটাইপ নির্ধারণে সাহায্য করে।

প্রাকৃতিক উপায়ে লিভার পরিষ্কার

লিভার সুস্থ রাখার জন্য কিছু প্রাকৃতিক উপায় অত্যন্ত কার্যকর। প্রথমেই, লেবু ও গরম পানি নিয়মিত পান করা উচিত। সকালে খালি পেটে এক গ্লাস গরম পানিতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে লিভার ডিটক্সিফাই হয়। রসুন লিভারের জন্য খুবই উপকারী কারণ এতে অ্যালিসিন নামক যৌগ থাকে যা লিভারকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন ২-৩ কোয়া কাঁচা রসুন খাওয়া যেতে পারে। হলুদের মধ্যে থাকা কারকিউমিন লিভারের প্রদাহ কমাতে এবং লিভারের কোষগুলোকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। হলুদ দিয়ে তৈরি খাবার বা হলুদের দুধ খাওয়া যেতে পারে। আমলকী লিভারের জন্য খুবই উপকারী কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। আমলকীর মুরব্বা বা আমলকীর রস নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে। পেঁপেতে থাকা পেপেইন এনজাইম লিভারের স্বাস্থ্য রক্ষায় সাহায্য করে। পেঁপে নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে। সবুজ চা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় লিভারের স্বাস্থ্য রক্ষায় সাহায্য করে। প্রতিদিন ২-৩ কাপ সবুজ চা পান করা যেতে পারে।

প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১: লিভার কী এবং এর কাজ কী? 

উত্তর: লিভার আমাদের শরীরের দ্বিতীয় বৃহত্তম অঙ্গ যা পেটের ডান দিকে অবস্থিত। এর প্রধান কাজগুলো হলো রক্ত পরিশোধন, বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ, পুষ্টি উপাদান সংরক্ষণ, হরমোন উৎপাদন, পিত্তরস উৎপাদন এবং রক্তের জমাট বাঁধা নিয়ন্ত্রণ।

প্রশ্ন ২: লিভার রোগের প্রধান লক্ষণগুলো কী কী? 

উত্তর: লিভার রোগের প্রধান লক্ষণগুলো হলো ক্লান্তি, অস্বস্তিকর অনুভূতি, ক্ষুধামন্দা, ওজন হ্রাস, পেটের ডান দিকে ব্যথা, চামড়া ও চোখের সাদা অংশের হলুদ হওয়া (জন্ডিস), গাঢ় রঙের প্রস্রাব, ফ্যাকাশে মল, পেট ফোলা, পা ফোলা, চামড়ায় চুলকানি ইত্যাদি।

প্রশ্ন ৩: ফ্যাটি লিভার কী এবং এর চিকিৎসা কী? 

উত্তর: ফ্যাটি লিভার হলো একটি অবস্থা যখন লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা হয়। এটি মূলত দুই ধরনের হয়: অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার এবং নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার। এর চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে জীবনযাপনের পরিবর্তন, ওজন হ্রাস, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং অ্যালকোহল বর্জন করা।

প্রশ্ন ৪: লিভার সুস্থ রাখার জন্য কোন খাবারগুলো উপকারী? 

উত্তর: লিভার সুস্থ রাখার জন্য উপকারী খাবারগুলো হলো সবুজ শাকসবজি (ব্রোকোলি, পালংশাক), ফলমূল (আপেল, বেরি, আঙুর, লেবু), সম্পূর্ণ শস্য, আঁশযুক্ত খাবার, রসুন, পেঁয়াজ, গ্রিন টি, কফি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার (মাছ, আখরোট, চিয়া বীজ) ইত্যাদি।

প্রশ্ন ৫: লিভার রোগ প্রতিরোধের জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে? 

উত্তর: লিভার রোগ প্রতিরোধের জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারে: হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসের টিকা নেওয়া, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, অ্যালকোহল পরিহার করা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান বর্জন করা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো।

প্রশ্ন ৬: লিভার সিরোসিস কী এবং এর চিকিৎসা কী? 

উত্তর: লিভার সিরোসিস হলো একটি অবস্থা যখন লিভারের স্বাভাবিক টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কাঁচা টিস্যু দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়। এর ফলে লিভারের কার্যকারিতা কমে যায়। এর চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে মূল কারণের চিকিৎসা (যেমন অ্যালকোহল বর্জন, ওজন হ্রাস), জটিলতার চিকিৎসা (যেমন পানি জমা পড়লে ডাইইউরেটিক ওষুধ), এবং গুরুতর ক্ষেত্রে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট।

প্রশ্ন ৭: লিভার ক্যান্সারের লক্ষণগুলো কী কী? 

উত্তর: লিভার ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো হলো ওজন হ্রাস, ক্ষুধামন্দা, ক্লান্তি, পেটের ডান দিকে ব্যথা, পেট ফোলা, জন্ডিস, চামড়ায় চুলকানি, জ্বর, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া ইত্যাদি। এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রশ্ন ৮: লিভার ট্রান্সপ্লান্ট কী এবং কখন এটি প্রয়োজন হয়? 

উত্তর: লিভার ট্রান্সপ্লান্ট হলো একটি সার্জিকাল পদ্ধতি যেখানে রোগীর ক্ষতিগ্রস্ত লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়। এটি মূলত তখনই প্রয়োজন হয় যখন লিভারের ক্ষতি এতটাই গুরুতর হয় যে অন্য কোনো চিকিৎসায় রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয় না। লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যান্সার, তীব্র লিভার বিকলাঙ্গতা ইত্যাদি অবস্থায় লিভার ট্রান্সপ্লান্টের প্রয়োজন হতে পারে।

প্রশ্ন ৯: লিভার পরিষ্কার বা ডিটক্সিফিকেশন কী এবং এটি কি প্রয়োজনীয়? 

উত্তর: লিভার পরিষ্কার বা ডিটক্সিফিকেশন হলো একটি প্রক্রিয়া যা লিভারকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে। আসলে, আমাদের লিভার স্বাভাবিকভাবেই বিষাক্ত পদার্থ দূর করার ক্ষমতা রাখে। তবে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন বা পরিবেশগত দূষণের কারণে লিভারের কার্যকারিতা কমে গেলে লিভার ডিটক্সিফিকেশন উপকারী হতে পারে। এর জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম এবং কিছু প্রাকৃতিক উপাদান (যেমন লেবু, রসুন, হলুদ) ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রশ্ন ১০: হেপাটাইটিস কী এবং এর প্রকারভেদ কী কী? 

উত্তর: হেপাটাইটিস হলো লিভারের প্রদাহ। এটি মূলত ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট হয়, তবে অন্যান্য কারণেও হতে পারে। হেপাটাইটিসের প্রধান প্রকারভেদ হলো হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি এবং ই। হেপাটাইটিস এ ও ই মূলত দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে ছড়ায় এবং সাধারণত স্বল্পকালীন হয়। হেপাটাইটিস বি, সি ও ডি রক্ত, যৌন সম্পর্ক বা মা থেকে সন্তানের মাধ্যমে ছড়ায় এবং দীর্ঘকালীন হতে পারে।

প্রশ্ন ১১: লিভার সুস্থ রাখার জন্য কী ধরনের ব্যায়াম করা উচিত? 

উত্তর: লিভার সুস্থ রাখার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি তীব্রতার ব্যায়াম করা উচিত। এর মধ্যে রয়েছে দ্রুত হাঁটা, জগিং, সাইকেল চালানো, সাঁতার ইত্যাদি। প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে ৫ দিন ব্যায়াম করা যেতে পারে। যোগব্যায়ামও লিভারের স্বাস্থ্য রক্ষায় সাহায্য করে। তবে লিভার রোগে আক্রান্ত হলে ব্যায়ামের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আরো পড়ুন

ভাজাপোড়া খাবার খেলে কী হয়? মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বাঁচার উপায়

বিকেলে চায়ের সাথে একটু সিঙ্গারা, পুরি কিংবা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই—আমাদের অনেকেরই নিত্যদিনের অভ্যাস। ভাজাপোড়া খাবার বা Fried Food খেতে সুস্বাদু হলেও নিয়মিত এটি গ্রহণ করা শরীরের জন্য বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, অতিরিক্ত ভাজা খাবার হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং ক্যানসারের মতো মারণব্যাধী ডেকে আনতে পারে।

জাপানের স্মার্ট টয়লেট মল স্ক্যান করে জানাবে আপনার স্বাস্থ্যের অবস্থা

প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে প্রতিনিয়ত সহজ ও বুদ্ধিমান করে তুলছে। স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচের পর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো- স্মার্ট টয়লেট। অবাক লাগলেও সত্য, জাপানের বিশ্বখ্যাত স্যানিটেশন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টোটো (Toto Ltd.) এমন এক টয়লেট তৈরি করেছে, যা ব্যবহারকারীর মল বিশ্লেষণ করে তার স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাতে সক্ষম।

এক হাতেই দুই হাজার কিডনি প্রতিস্থাপন: মানবসেবাকে ইবাদত বানানো ডা. কামরুল

একজন চিকিৎসক যখন পেশাকে শুধু জীবিকা নয়, বরং ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করেন, তখন তার কাজ হয়ে ওঠে হাজারো মানুষের বেঁচে থাকার গল্প। ঠিক তেমনই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম- যিনি একাই সম্পন্ন করেছেন দুই হাজার কিডনি প্রতিস্থাপন, অথচ বিনিময়ে নেননি কোনো সার্জন ফি। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ কমপক্ষে ২০ কোটি টাকা।
- Advertisement -spot_img

আরও প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ প্রবন্ধ