বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখা এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে এলপিজি নিশ্চিত করতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর ওপর বিদ্যমান কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস করে সামগ্রিক ভ্যাটের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এলপিজিকে শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালি-উভয় ক্ষেত্রেই একটি গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানি হিসেবে বিবেচনায় এনে জনস্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কী ছিল আগের কর কাঠামো?
আগের ব্যবস্থায়-
- স্থানীয় উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট
- আমদানি পর্যায়ে ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এটি) দিতে হতো
ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলের একাধিক স্তরে কর আরোপ হওয়ায় ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছিল।
নতুন ব্যবস্থায় কী বদলালো?
সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী-
- স্থানীয় উৎপাদন ও বিতরণ পর্যায়ের ৭.৫% ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার
- আমদানি পর্যায়ের ২% অগ্রিম কর বাতিল
- এর পরিবর্তে শুধুমাত্র আমদানি পর্যায়ে ৭.৫% ভ্যাট আরোপ
এর ফলে এখন এলপিজির পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে একবারই ভ্যাট আদায় হবে, একাধিক স্তরে নয়।
কবে থেকে কার্যকর?
এই নতুন কর কাঠামো ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে এবং ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে।
সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি)-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়-এর সুপারিশে সরকার দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন (এসআরও) জারি করে।
ভোক্তাদের জন্য কতটা স্বস্তি?
এনবিআর জানিয়েছে, নতুন কাঠামোর ফলে-
- আগের তুলনায় ভোক্তাদের ওপর সামগ্রিক ভ্যাটের চাপ প্রায় ২০% কমবে
- এলপিজির দাম আরও স্থিতিশীল থাকবে
- মধ্য ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো রান্না ও দৈনন্দিন কাজে বাড়তি স্বস্তি পাবে
শিল্পখাতেও ইতিবাচক প্রভাব
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্ত শিল্পখাতের ব্যবহারকারীদের জন্যও সহায়ক হবে। এতে-
- উৎপাদন ব্যয় কমবে
- সরবরাহ নির্বিঘ্ন হবে
- বাজারের সামগ্রিক দক্ষতা বাড়বে
এনবিআর পুনর্ব্যক্ত করেছে, বৃহত্তর জনস্বার্থে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
সুত্রঃ বাসস





