বাংলাদেশি সিনেমার জন্য এ এক গর্বের মুহূর্ত। নেদারল্যান্ডসের মর্যাদাপূর্ণ রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (IFFR)-এ শীর্ষ পুরস্কার অর্জন করেছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘মাস্টার’। উৎসবের ৫৫তম আসরের ‘বিগ স্ক্রিন কমপিটিশন’ বিভাগে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে এই সম্মান অর্জন করে সিনেমাটি।
গত শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত পুরস্কার ঘোষণার আয়োজনে নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত-এর হাতে তুলে দেওয়া হয় এই স্বীকৃতি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১২টি নির্বাচিত চলচ্চিত্রের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয় ‘মাস্টার’- যা বাংলাদেশি সিনেমার ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক অগ্রযাত্রার আরেকটি শক্ত প্রমাণ।
পুরস্কার জয়ের খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সিনেমাটির অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমরা বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড জিতেছি। অভিনন্দন আমাদের পরিচালক ও পুরো টিমকে। দেশের জন্য দারুণ একটি দিন।” তার এই অনুভূতিতে প্রতিফলিত হয়েছে পুরো টিমের পরিশ্রম ও অর্জনের আনন্দ।
উৎসবকে ঘিরে গত ২৮ জানুয়ারি পরিচালক সুমিতসহ অভিনয়শিল্পী নাসির উদ্দিন খান, আজমেরী হক বাঁধন ও জাকিয়া বারী মম রটারড্যামের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন। ১, ২ ও ৪ ফেব্রুয়ারি উৎসবে প্রদর্শিত হয় ‘মাস্টার’। শেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে শনিবার-পুরস্কার জয়ের পর যা দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে।
সিনেমাটির গল্পে তুলে ধরা হয়েছে একজন সাধারণ শিক্ষক জহির-এর জীবনসংগ্রাম ও ক্ষমতার রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার গল্প। আদর্শবাদ দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা কীভাবে ধীরে ধীরে নৈতিক দ্বন্দ্ব ও কর্তৃত্ববাদী বাস্তবতায় রূপ নেয়-তা গভীর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করেছেন নির্মাতা। স্থানীয় রাজনীতি, ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ও ক্ষমতার চাপ-সব মিলিয়ে গল্পটি দর্শককে ভাবতে বাধ্য করে।
চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান, আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরীফ সিরাজ, তাসনোভা তামান্না, আমিনুর রহমান মুকুল ও মাহমুদ আলম। ১২২ মিনিট দৈর্ঘ্যের সিনেমাটির চিত্রনাট্য করেছেন সাব্বির হোসেন শোভন ও নির্মাতা নিজে। সিনেমাটোগ্রাফিতে ছিলেন তুহিন তামিজুল, প্রোডাকশন ডিজাইনে ভারতের জোনাকি ভট্টাচার্য, আর সংগীতে তাইওয়ানের হাও টিং শিহ।
মাইপিক্সেলস্টোরি প্রযোজনা সংস্থার ব্যানারে নির্মিত ‘মাস্টার’ নির্মাতা সুমিতের দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এর আগে তার প্রথম সিনেমা ‘নোনাজলের কাব্য’ ২০২১ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ সাতটি বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছিল।
রটারড্যামে ‘মাস্টার’-এর এই বিজয় প্রমাণ করে-বাংলাদেশি গল্প, নির্মাণশৈলী ও শিল্পীরা এখন বিশ্বমঞ্চে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এই সাফল্য দেশের সিনেমাশিল্পে নতুন অনুপ্রেরণা যোগাবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





