প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবন ও ভবিষ্যৎ বদলে দিতে বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে বিদেশে কর্মী পাঠানোর আগে বাধ্যতামূলকভাবে উন্নত কারিগরি ও মানসিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে প্রবাসীরা শুধু শ্রমিক নয়, দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে বিশ্ববাজারে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।
মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত “গ্লোবাল বাংলাদেশি এক্সপেট্রিয়েটস সামিট–২০২৬” উপলক্ষে অনুষ্ঠিত মুক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
ড. মঈন খান বলেন,
“প্রবাসীদের শুধু কাজ শেখালেই হবে না, তাদের মানসিকভাবেও প্রস্তুত করতে হবে। ভাষাজ্ঞান, আচরণ, আধুনিক প্রযুক্তি ও পেশাগত দক্ষতা- সবকিছু মিলিয়ে তাদের গড়ে তুলতে হবে বিশ্বমানের কর্মী হিসেবে।”
রেমিট্যান্সকে বিনিয়োগে রূপান্তরের পরিকল্পনা
তিনি জানান, বর্তমানে প্রবাসীরা যে রেমিট্যান্স পাঠান, তা মূলত পারিবারিক ব্যয়ে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে এই অর্থ শিল্প-কারখানা, আমদানি-বাণিজ্য ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করলে প্রবাসীরাও লাভবান হবেন, দেশও এগিয়ে যাবে।
তার ভাষায়,
“এই অর্থ যদি পরিকল্পিত বিনিয়োগে কাজে লাগানো যায়, তাহলে বিদেশি ঋণ বা সাহায্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না।”
প্রবাসীদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান
ড. মঈন খান আরও বলেন, অনেক প্রবাসী দেশে ফিরে কয়েক বছর ভালো থাকলেও পরে অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। এই বাস্তবতা বদলাতে হলে প্রবাসীদের সঞ্চয় ও আয়ের নিরাপদ বিনিয়োগ কাঠামো তৈরি করা জরুরি।
তিনি প্রবাসীদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
এলডিসি উত্তরণ প্রসঙ্গে সতর্কতা
ব্যবসায়ীদের দাবিতে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এতে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
বক্তাদের কণ্ঠে প্রবাসীদের অধিকার রক্ষার দাবি
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা বলেন-
- প্রবাসীরা যেন কোনোভাবেই প্রতারণা ও দালালচক্রের শিকার না হন
- দূতাবাস ও সরকারি অফিসে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে
- প্রবাসীদের জন্য কার্যকর ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করতে হবে
- ভূমিদস্যুদের হাত থেকে প্রবাসীদের সম্পত্তি রক্ষা নিশ্চিত করতে হবে
- সংসদে প্রবাসীদের জন্য সংরক্ষিত আসন চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত
অনুষ্ঠানের শুরুতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়।
নতুন আশার বার্তা
বিশ্লেষকদের মতে, ড. আব্দুল মঈন খানের এই ঘোষণাগুলো বাস্তবায়িত হলে-
- প্রবাসীদের আয় বাড়বে
- দক্ষ শ্রমিক রপ্তানিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে
- রেমিট্যান্সের ব্যবহার আরও উৎপাদনমুখী হবে
- প্রবাসীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার হবে
সব মিলিয়ে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এটি হতে পারে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।





